ঘুরে আসুন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থান থেকে

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১৬:২০ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১৬:২৩

অনলাইন ডেস্ক

সুরবি প্রত্যয়ী

          “যতদিন রবে পদ্মা যমুনা
          গৌরী মেঘনা বহমান,
          ততকাল রবে কীর্তি তোমার
          শেখ মুজিবুর রহমান...”

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এভাবেই কবিতার ভাষায় পৃথিবীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কবি অন্নদাশঙ্কর রায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আখ্যায়িত করা হয় ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ হিসেবে। তার পুরো জীবনই ঘটনাবহুল। আর এর পুরোটা জানা মানেই যেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেকখানি জেনে ফেলা! মহান এই নেতা এবং আমাদের স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের আঁধারে সপরিবারে হত্যা করা হয়। মহান এই বাঙালির স্মৃতিতে ১৫ আগস্ট শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়, দেশজুড়ে থাকে সরকারি ছুটি।
ছুটির দিনটিকে কাজে লাগাতে পারেন এই মহান নেতার জীবন ও ইতিহাস জানার প্রতি উৎসর্গ করেই। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তার অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা জানান আপনার সন্তানকে। এদিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত আবাসস্থল বা সমাধিস্থলে আপনার সন্তানকে নিয়ে যেতে পারেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ধানমন্ডি ৩২

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটিই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। 
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই বাড়িতে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের অন্য সকল সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৯৭ সালে এই বাড়িটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এখানে বঙ্গবন্ধুর বিপ্লবী জীবনের বিভিন্ন দুর্লভ ছবি এবং শেষ সময়ের অনেক স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। বাড়িটিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত। এই টুঙ্গিপাড়াতেই ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের দিন ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিবেশী, ছেলেবেলার বন্ধুরা তাদের প্রিয় ‘মিয়া ভাই’কে জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত করেন। 
এই সমাধিসৌধের কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছেÑ পাঠাগার, গবেষণা কেন্দ্র, প্রদর্শনী কেন্দ্র, মসজিদ, পাবলিক প্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, উন্মুুক্ত মঞ্চ, বকুলতলা চত্বর ও স্যুভেনির কর্নার। মাজার কমপ্লেক্সের পাঠাগারে রয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি বই।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে গোপালগঞ্জ জেলা। ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া থেকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, পান্না ডিলাক্স, গ্রিন লাইন পরিবহন, কমফোর্ট পরিবহন, আমিন পরিবহন, সেবা ইত্যাদি পরিবহনের বাস চলাচল করে গোপালগঞ্জ। ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম অথবা পুলিশ লাইন মোড় থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে লোকাল বাস ছেড়ে যায় ৩০ মিনিট পরপর। ভাড়া ৪০ টাকা। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ সদর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে যেতে পারেন টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি দেখতে। ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।

কোথায় থাকবেন
গোপালগঞ্জ জেলা সদরে থাকার জন্য কয়েকটি সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল আছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গীতে হোটেল পলাশ, লঞ্চঘাট মোড়ে হোটেল তাজ, পোস্ট অফিস মোড়ে হোটেল সোহাগ, চৌরঙ্গীর প্রধান সড়কের সামনে হোটেল রিফাত ও হোটেল শিমুল রয়েছে। এসব হোটেলে ধরন অনুযায়ী রুম ভাড়া ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া টুঙ্গিপাড়া থানা রোডে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মধুমতি নামে একটি মোটেল আছে। মোটেলটিতে এসি ও ননএসি রুম রয়েছে। ভাড়া ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া এখানে ডরমেটরিতে ৫২টি সিট রয়েছে। ভাড়া ২০০ টাকা। মোটেলটিতে খাবারের ব্যবস্থাও আছে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯

  • ৩ অক্টোবর ২০১৯

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯