ঘুরে আসুন কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত ৫টি স্থানে

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১৬:৩০

অনলাইন ডেস্ক

বাইশে শ্রাবণ। কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩৪৮ সালের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শ্রাবণের বাদলঝরা দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন। মানুষের মুক্তিই ছিল রবিঠাকুরের দর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শন অন্বেষণ করেছেন। তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য বিভিন্ন শাখার লেখনী মানুষকে আজও সেই অন্বেষণের পথে, তার অন্বিষ্ট উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের মন-মানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের প্রধান অবলম্বন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বাংলাদেশিদের যাপিত জীবন জড়িয়ে আছে অবিচ্ছেদ্যভাবে। মহান এ মানুষের প্রয়াণ দিবসে তারই কয়েকটি স্মৃতিবিজড়িত স্থান নিয়ে ‘বাংলা বিচিত্রা’র প্রতিবেদন।

কুষ্টিয়ার শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি
কুষ্টিয়া জেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি। ৩২ বিঘা জায়গার ভিতর পৌনে চার বিঘা জমির ওপর ঢেউ আকৃতির প্রাচীরবেষ্টিত শিলাইদহের তিনতলা কুঠিবাড়ি প্রতিষ্ঠিত। ১৮৯১ সালে কবিগুরু জমিদারি পরিচালনার জন্য কুঠিবাড়িতে আসেন। এখানকার মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কবি সোনার তরী, মানসসুন্দরী, উর্বশী, চিত্রা, ক্ষণিকা, চোখেরবালি, বলাকাসহ অগণিত প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্প রচনা করেছেন। কবি যে সাহিত্যকর্মের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন সেই গীতাঞ্জলির অধিকাংশ কবিতাই শিলাইদহে রচিত। এ কুঠিবাড়ির কক্ষ ১৮টি। প্রাচীন ঐতিহ্য ও জমিদারি নিদর্শনের অবয়বে গড়ে তোলা কুঠিবাড়ি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নয়নাভিরাম। কবির ইজি চেয়ার, লেখার টেবিল, স্পিডবোট, দুই বেহারার পালকি, ঘাস কাটার মেশিন, গদি চেয়ার, নৌকা, বিভিন্ন দুর্লভ ছবি, কবির ব্যবহƒত খাট ও অন্যান্য ব্যবহারের জিনিসপত্র কুঠিবাড়িতে সংরক্ষিত আছে।

পতিসরে স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি
নওগাঁ জেলা শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে পতিসরে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরেকটি কুঠিবাড়ি। এখানেই রবীন্দ্রনাথ তার জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। কবির স্মৃতিবিজড়িত এ কুঠিবাড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে একটি জাদুঘর। এ কুঠিবাড়ির জাদুঘরে কবির ব্যবহƒত একটি পালঙ্ক, লোহার সিন্দুক, কলের লাঙল, দেয়াল আয়না, বাথটাব, আলমারি ও পড়ার টেবিল প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। রবি ঠাকুরের বিভিন্ন বয়সের ও শবযাত্রার বেশ কিছু দুর্লভ ছবিও এখানে রাখা হয়েছে। এসবের মধ্যে কবির সহধর্মিণী, মহাত্মা গান্ধী, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, একেএম ফজলুল হকের সঙ্গে রবিঠাকুরের ছবি রয়েছে। কবি এ বাড়িতে বসে লিখেছেন বহু গান ও কবিতা।

দক্ষিণডিহির রবীন্দ্র কমপ্লেক্স
খুলনার ফুলতলা উপজেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিমে ৩ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণডিহি গ্রামে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে দক্ষিণডিহির বেণী মাধব রায় চৌধুরী ও দক্ষায়ণী দেবীর কন্যা মৃণালিনী দেবীর বিয়ে হয়। উত্তরাধিকারীদের দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে বাড়িটি অবৈধ দখলে চলে যায়। ১৯৯৫ সালে বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়িটি এখন রবীন্দ্র কমপ্লেক্স। গাছ-গাছালি ঘেরা দ্বিতল ভবনের সামনে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ ভাস্কর্য। ভাস্কর্য দুটি উদ্বোধন করেন কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক ও ড. সানজীদা খাতুন।

শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কাছারি বাড়ি। কবির পূর্বপুরুষ শাহজাদপুরের জমিদারি পরিচালনা করতে ইংরেজ নীলকরদের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নেন। ১৮৯০ সালে প্রথম এখানে আসেন কবি। রবীন্দ্রনাথ তার কাছারি বাড়িতে বসে রচনা করেছেন কবিতা, গান, নাটক, ছোট গল্প ও উপন্যাস। এ কাছারি বাড়িতে বিশ্বকবির ব্যবহƒত খাট-পালঙ্ক, চেয়ার-টেবিল, পালকি, পিয়ানো, আলনা, আয়না, কবির ২২টি প্রতিকৃতি, কবির নিজ হাতে আঁকা ২০টি ছবি ও তৈজসপত্র নিয়ে তৈরি করা হয়েছে রবীন্দ্র জাদুঘর।

রবীন্দ্রনাথের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টেগরলজ
কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টেগরলজ। ১৮৯০ সালে রবীন্দ্রনাথ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কুষ্টিয়া রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে এটি নির্মাণ করেছিলেন। টেগরলজের উত্তর-দক্ষিণ দুই পাশেই বারান্দা রয়েছে। প্রবেশপথের সামনেই রয়েছে কবির আবক্ষ ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটি ভারত দূতাবাস দান করেছে। প্রবেশপথের ডান দিকে কবির ব্যবহƒত একটি কুয়া আছে। ১৮৯০ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ বিচরণ করেছেন তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টেগরলজে। কবি যখন ট্রেনে চেপে কলকাতা থেকে আসতেন বা কলকাতা যেতেন তখন শিলাইদহ যাতায়াতের সময় টেগরলজে বিশ্রাম নিতেন।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০১৭

  • ১৩ আগস্ট ২০১৭

  • ০৬ আগস্ট ২০১৭

  • ৩০ জুলাই ২০১৭