ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী এবং সবাইকে ছাড়িয়ে সাকিব আল হাসান

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৬:৪৭ | আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৬:৫১

অ্যাডভোকেট মেছবাহ উদ্দিন খান

 

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি ফেরালে দেখা যায়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সেই ব্রিটিশ যুগে ঢাকায় কর্মরত ইংরেজদের সঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রদের খেলার তথ্য জানা যায়। সেই হিসাব ধরলে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলার গোড়াপত্তনের সময়কাল প্রায় শতবর্ষের। তারপর সময় গড়িয়ে আজ ২০১৯ সালে এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাস মর্যাদায় পরাশক্তি রূপে আর্বিভূত না হলেও ক্রিকেট বিশে^ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আজ এক সমীহ জাগানিয়া দল। পূর্ব পাকিস্তান আমলে ক্রিকেটের বিকাশ লাভ হলেও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ক্রিকেট ধীরে ধীরে ডালপালা মেলতে শুরু করে। এর পর ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশের অনুমোদন লাভ করে। ১৯৯৯ সাল ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক স্বর্ণসময়। ওই সময়েই পূর্ণতা লাভ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট। প্রায় দুই যুগের ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের সময়ের কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের অজানা নয়। তবে, এই ক্রিকেটকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের ক্ষেত্রে যার অবদান অবিস্মরণীয়। যার নাম ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তিনি হলেন আমাদের দেশরতœ রাষ্ট্রনায়ক, ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার হাত ধরেই, তার গভীর আগ্রহের কারণেই আজ বিশ^ ক্রিকেটে আমাদের ক্রিকেট আজ এক উজ্জ্বল অবস্থানে আসতে সক্ষম হয়েছে। তিনি শুধু পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন তা-ই নয়। দেশে কিংবা বিদেশে ক্রিকেটারদের সাফল্যের সাথে সাথে তিনি খেলোয়াড়, কোচসহ ম্যানেজমেন্টের সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে সাধুবাদ জানিয়ে উৎসাহিত করেছেন, অনুপ্রাণিত করেছেন, যা এক বিরল দৃষ্টান্ত। সময়-সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাজার ব্যস্ততার মাঝেও গুরুত্বপূর্ণ খেলা দেখতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন। এই সেদিনও চলমান বিশ^কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের বিজয়ের পর খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে উৎসাহিত করেছেন।
যে বাংলাদেশ দল একসময় ব্যাকফুটে অবস্থান ছিল ক্রিকেটবিদদের হিসাবে। সেই ক্রিকেটবিদরাই এবারের বিশ^কাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
ক্রিকেট কিংবদন্তিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভূতপূর্ব প্রশংসা এক বিরাট অর্জন। সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয় হলো বিশে^র এক নম্বর অলরাউন্ডারকে ধারণ করে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল- এটাও এক বিশাল গৌরবের বিষয়। সর্বোপরি সাকিব আল হাসান যে বিশে^র এক নম্বর অলরাউন্ডার- এর প্রমাণ তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন চলতি বিশ^কাপে ‘এ’ যাবৎ খেলায় সব থেকে বেশি রান সংগ্রহকারী ক্রিকেটার হিসেবে। ব্যাট-বল হাতে একের পর এক রেকর্ড গড়ে সাকিব আল হাসান এই বিশ^কাপে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার আলোকময় দ্যুতি বিশে^র কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রত্যক্ষ করেছেন। সাকিবের পারফরমেন্সের কাছাকাছিও অন্য দেশের ক্রিকেটাররা পৌঁছতে পারেন নি। সবার প্রত্যাশা সাকিব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার এই ধারাবাহিক গুড পারফরমেন্স বাংলাদেশ ক্রিকেটের পক্ষে দিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, সাকিবের পাশাপাশি তামিম, মুশফিকদের অবস্থানও অনেক উজ্জ্বল। ব্যাটিংয়ে লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ ও অন্যরা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছেন। তবে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা দলের সফল নেতৃত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যমণি। তাই বলব- বাংলাদেশের ক্রিকেটের আগামী ভবিষ্যৎ আরও ঔজ্জ্বল্য নিয়ে উদ্ভাসিত হবে, যা এখন সময়ের ব্যাপার। চলতি বিশ^কাপে স্টেডিয়াম ভর্তি অগণিত বাংলাদেশি দর্শক-সমর্থকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ব্রিটেনে প্রবাসী বাঙালিরা যেদিনই বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে, দলে দলে তারা টাইগারদের সমর্থন জোগাতে এক স্টেডিয়াম থেকে অন্য স্টেডিয়ামে ছুটে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকায় উদ্বেলিত করে তুলেছেন গ্যালারি। গ্যালারির দিকে চোখ রাখলে যে কেউ অবাক বিস্ময়ে দেখবেন- ইংল্যান্ডের মাঠে নয়, যেন খেলা হচ্ছে নিজ দেশের মাঠে। পরিশেষে এটুকু বলব, বাংলাদেশের ক্রিকেট অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে গৌরবের স্থানে পৌঁছে দিতে সমর্থ হবে।

লেখক : আইনজীবী

পুরনো সংখ্যা
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯

  • ৩ অক্টোবর ২০১৯

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯