অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ‘স্বপ্নের ৫ দিন’

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৭, ১৪:১৮

অনলাইন ডেস্ক

এনামুল হক জুুনিয়র, অসময়ে রহস্যময় কারণে জাতীয় দল থেকে ঝরে যাওয়া এক ক্রিকেটারের নাম। ২০০৩-এ টেস্ট অভিষেক হওয়া এই ক্রিকেটার খেলেছেন ২০১৩ পর্যন্ত। কিন্তু এই ১০ বছরে দেশের হয়ে ১৫ ম্যাচেই মাঠে নামতে পেরেছেন। ৪০.৬১ গড়ে উইকেট পেয়েছেন ৪৪টি। রহস্যময় কারণে জাতীয় দলে নিয়মিত হতে না পারলেও ১০৯ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে নিয়েছেন ৪২২ উইকেট। এই স্পিনার এখনও জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখে যাচ্ছেন। জাতীয় দলে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ না পেলেও এখনও কিছু সিরিজকে বেশ আলাদাভাবেই দেখেন তিনি। তার মধ্যে ২০০৬-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটি অন্যতম। ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে দল ও তার সেই পাঁচটি দিন কেটেছে স্বপ্নের মতো। বিশেষ করে সেই সময় অস্ট্রেলিয়া দলটিকে এখন তাদের সর্বকালের সেরা বিবেচনা করা হয়। তাদের বিপক্ষে সদস্য টেস্ট ক্রিকেট শুরু করা টাইগারদের পাঁচ দিনের লড়াইকে এনামুলের কাছে এখনও স্বপ্নের মতোই। ১১ বছর পর ফের টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসছে অজিরা। এনামুল বিশ্বাস করেন, এবার তাদের অধরা জয় আসবে সাকিব আল হাসান, মুশফিকদের হাত ধরেই। সেবারের চেয়ে দারুণ লড়াই হবে দু-দলের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এনামুল জানিয়েছেন সেই টেস্টের মধুর স্মৃতির কথা।

প্রশ্ন : ২০০৬-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ কতটা চ্যালেঞ্জের ছিল আপনার জন্য?
এনামুল হক জুনিয়র : অস্ট্রেলিয়ার সেই টেস্ট দল! তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে এখনও সেরা। রিকি পন্টিং যার নেতৃত্বে, ম্যাথু হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইক হাসি, মাইকেল ক্লার্ক, শেন ওয়ার্ন, ব্রেট লি! একেকটা নাম তো এখন বিশ্বের সেরা। আর তখন আমরা মাত্র টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ-ছয় বছর হয় শুরু করেছি। সব কিছু মিলিয়ে সেই টেস্টটা আমাদের যেমন ছিল শিক্ষণীয়। কিন্তু ফতুল্লায় আমরা যেমন খেলেছি সেই পাঁচটি দিন ছিল আমার ও আমাদের দলের জন্য স্বপ্নের মতো। আমরা তো সেই ম্যাচ প্রায় জিতেই যাচ্ছিলাম। যদি এখনকার মতো অভিজ্ঞ হতো সেই দলটি তা হলে ঠিকই জিতে যেতাম।

প্রশ্ন : পন্টিং, গিলক্রিস্টদের বিপক্ষে বল করবেন ভেবে নার্ভাস লাগেনি?
এনামুল হক জুনিয়র : অবশ্যই নার্ভাস ছিলাম। খেলার আগের দিন রাতে চিন্তা করেছি যাদের খেলা এতদিন টিভিতে দেখেছি, যাদের কথা শুনে বড় হয়েছি তাদের বিপক্ষে মাঠে লড়াই করব, ওদের আউট করতে কোন জায়গাতে বল ফেলব, কীভাবে ওদের স্পিনে বোকা বানানো। ম্যাথু হেইডেন তো সেই সময় ছিল বেশ আক্রমণাত্মক তাকে বল করলে কি হবে এসবই ভাবছিলাম। তবে সেই হেইডেনকে বলে আউট করতে না পারলেও আমি রান আউট করেছিলাম। সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে সব যেন স্বপ্নের মতোই ছিল। কারণ আমার মনে আছে, একটি ডেলিভারি ছিল মাইকেল ক্লার্কের বিপক্ষে তাতে সে বোকা বনে যায়। সেটি ছিল আমার জীবনে সেরা ডেলিভারি।

প্রশ্ন : সেই ম্যাচে ৩টি উইকেট পেয়েছিলেন দুই ইনিংসে তার মধ্যে সেরা কোনটিকে মনে করেন?
এনামুল হক জুনিয়র : ৩টি উইকেটই সেরা ছিল তবে এর মধ্যে মাইকেল ক্লার্কের উইকেটটি ছিল আমার প্রথম শিকার। সেটিই সেরা বলব, কারণ আমার সেই বলটি তার সেরা ডিফেন্স ভেঙে বোকা বানিয়েছি। ও সেই দলে সবচেয়ে ভালো স্পিন খেলতো, ভেবেছিল বলটি আর্ম বল হবে কিন্তু সেটি মিডল স্টাম্পে পড়ে নার্ট করেছিল। ও আর্ম বল ভেবে ডিফেন্স করেছিল। ক্লার্ক তখন কিছুক্ষণ আমার দিকে বোকার মতো চেয়ে ছিল।

প্রশ্ন : আপনি সেই সময় ভালো ইংরেজি জানতেন, সেই হিসেবে ওদের সবার সাথে আপনি কথা বলার সুযোগটা কতটা কাজে লাগিয়েছেন?
এনামুল হক জুনিয়র : মাঠে ওদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল না। আর ওরা মাঠে সেভাবে কথাও বলত না। তার ওপর আমরা এত ভালো খেলছিলাম। তাই কথা বলার খুব একটা সুযোগ হচ্ছিল না শুরুতে। তবে ওরা মাঠে যেমন, বাইরে তার বিপরীত। বেশ বন্ধুসুলভ ভালো মানুষ ছিল তারা। বিশেষ করে শেন ওয়ার্ন আমাদের পার্টিতে এসেছিল, হেইডেন, গিলক্রিস্ট দেখা হলে দারুণভাবে কথা বলত। আমি মাঠের বাইরের সেই অসাধারণ মানুষগুলোকে এখনও ভুলতে পারিনি।

প্রশ্ন : সেই ম্যাচে দারুণ করার পরও হারের কারণ কি মনে করেন?
এনামুল হক জুনিয়র : একটাই কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি এখনও যা নিয়ে আফসোস করি। ভাবি ইশ্  মাশরাফির হাতে যদি ক্যাচটি ধরা পড়ত। যদিও সেটি তার জন্য সহজ ক্যাচ ছিল না। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেছেন। সেই ক্যাচটি হলে আমরা জিতে যেতাম।

প্রশ্ন : তখন আপনারা দুই স্পিনার মিলে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট। এখন সাকিব, মিরাজের ওপর কতটা ভরসা রাখেন?
এনামুল হক জুনিয়র : সাকিব, মিরাজই নয় তাইজুলসহ যারা স্পিনার আছে তাদের ওপর বেশ ভরসা রাখা যায়। কারণ তখন আমরা ওদের মতো খেলার সুযোগ পেতাম না। দেখা যেত টেস্টে মাত্র এক ইনিংসই খেলার সুযোগ হতো। আর প্রতিপক্ষ যদি ৪০০-র বেশি রান করত, তা হলে বিপদ আরও বেশি ছিল। কিন্তু এখন আমাদের স্পিনাররা সুযোগ পেলে ম্যাচ জিতিয়ে দেয়। তার প্রমাণ কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা রেখেছে। আমি বলব, এখন বোলিং আগের তুলনায় আরও বেশি ভালো হয়েছে।

প্রশ্ন : কেমন উইকেট আশা করেন?
এনামুল হক জুনিয়র : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন ছিল ঠিক তেমন। তবে এখানে আমাদের টস জেতাও একটি বড় বিষয় হবে।

প্রশ্ন : সেই টেস্টে অন্য কোনো আক্ষেপ ছিল?
এনামুল হক জুনিয়র : ফতুল্লা টেস্টের পর আমি ইনজুরিতে পড়ে যাই। চট্টগ্রাম টেস্টে আমি খেলতে পারিনি। সেটিই বলব আমার বড় আক্ষেপ। আর হারের আক্ষেপ তো ছিলই। আমরা ফতুল্লায় অনেক কেঁদেছিলাম। মনে আছে আসার সময় আমাদের বাসে ঢিলও পড়েছিল।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯