ভাষণ তার অমর কবিতা

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১৬:৪৬

অনলাইন ডেস্ক

আগস্ট। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতের মাস। বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় তার দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন তাকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে। তার সংগ্রামী চেতনা রাজনৈতিক অঙ্গনে যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে; তেমনি তা সাহিত্য অঙ্গনেও আলোড়িত হয়েছে। জাতির জনকের সব বক্তব্য-ভাষণেও তার বহুদর্শী ও সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, পরিমিতি বোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ নিহিত ছিল। পরবর্তী বছর, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাষণও তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখার দাবি রাখে। এসব ভাষণ শুধু বঙ্গবন্ধুর জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণই নয়, পৃথিবীর অন্য নেতৃবৃন্দের দেওয়া ভাষণের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা এসব ভাষণের কয়েকটি ‘বাংলা বিচিত্রা’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো_

১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে 
 

জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ

আজকের এই শুভলগ্নে আমি সর্বপ্রথম আমার দেশের সংগ্রামী কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর সেই বীর শহীদের কথা স্মরণ করছি, যাঁরা গত নয় মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামে বর্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন। আমি তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে। আমার সোনার বাংলা আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার উদ্দেশ্যে আমি সালাম জানাই।
ইয়াহিয়া খাঁর কারাগারে আমি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করেছি। মৃত্যুর জন্য আমি প্রস্তুতও ছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে মুক্ত হবে, সে বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না, এই মুক্তির জন্য যে মূল্য দিতে হল, তা কল্পনারও অতীত। আমার বিশ্বাস, পৃথিবীর ইতিহাসে কোন দেশের মুক্তি সংগ্রামে এত লোকের প্রাণহানির নজির নেই। আমার দেশের নিরীহ মানুষদের হত্যা করে তারা কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছে, আমার মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে তারা জঘন্য বর্বরতার প্রমাণ দিয়েছে, সোনার বাংলার অসংখ্য গ্রাম পুড়িয়ে তারা ছারখার করে দিয়েছে। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দীদশায় থেকে আমি জানতাম, তারা আমাকে হত্যা করবে। কিন্তু তাদের কাছে আমার অনুরোধ ছিল, আমার লাশ তারা যেন বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়, বাংলার পবিত্র মাটি যেন আমি পাই। আমি স্থির প্রতিজ্ঞা ছিলাম, তাদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে বাংলার মানুষদের মাথা নীচু করব না। 
‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি’। কিন্তু আজ আর কবিগুরুর সে কথা বাংলার মানুষের বেলা খাটে না। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছেন, তারা বীরের জাতি, তারা নিজেদের অধিকার অর্জন করে মানুষের মত বাঁচতে জানে। ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক ভাইয়েরা আমার, আপনারা কত অকথ্য নির্যাতন সহ্য করেছেন, গেরিলা হয়ে শক্রর মোকবিলা করেছেন, রক্ত  দিয়েছেন দেশমাতার মুক্তির জন্য। আপনাদের এ রক্তদান বৃথা যাবে না। 
আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারত, সোভিয়েট ইউনিয়ন, বৃটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার জনসাধারণের প্রতি আমাদের এই মুক্তি সংগ্রামে সমর্থনদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। বর্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমার দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার ও তার জনসাধারণ নিজেদের অনেক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও এই ছিন্নমূল মানুষদের দীর্ঘ নয় মাস ধরে আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে। এজন্য আমি ভারত সরকার ও ভারতের জনসাধারণকে আমার দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আমার অন্তরের অন্তস্থল হতে ধন্যবাদ জানাই। 
গত ৭ই মার্চ এই ঘোড়দৌড় ময়দানে আমি আপনাদের বলেছিলাম, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলুন; এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ আপনারা বাংলাদেশের মানুষ সেই স্বাধীনতা এনেছেন। আজ আবার বলছি, আপনারা সবাই একতা বজায় রাখুন। ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। একজন বাঙালিও প্রাণ থাকতে এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেবে না। বাংলাদেশ ইতিহাসে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই টিকে থাকবে। বাংলাকে দাবিয়ে রাখতে পারে, এমন কোন শক্তি নেই।
আজ সোনার বাংলার কোটি কোটি মানুষ গৃহহারা, আশ্রয়হারা। তারা নিঃসম্বল। আমি মানবতার খাতিরে বিশ্ববাসীর প্রতি আমার এই দুঃখী মানুষদের সাহায্য দানের জন্য এগিয়ে আসতে অনুরোধ করছি। 
নেতা হিসাবে নয়, ভাই হিসেবে আমি আমার দেশবাসীকে বলছি, আমাদের সাধারণ মানুষ যদি আশ্রয় না পায়, খাবার না পায়, যুবকরা যদি চাকুরি বা কাজ না পায়, তা হলে আমাদের এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবেÑ পূর্ণ হবে না। আমাদের এখন তাই অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে গেছে, সেগুলো মেরামত করতে হবে। আপনারা নিজেরাই সেসব রাস্তা মেরামত করতে শুরু করে দিন। যাঁর যা কাজ, ঠিক মত করে যান। কর্মচারীদের বলছি, আপনারা ঘুষ খাবেন না। এই দেশে আর কোন দুর্নীতি চলতে দেয়া হবে না। 
প্রায় চার লাখ বাঙালি পশ্চিম পাকিস্তানে আছে। আমাদের অবশ্যই তাদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে। বাংলাভাষী নয়, এমন যারা বাংলাদেশে আছে, তাদের বাঙালিদের সাথে মিশে যেতে হবে। কারও প্রতি আমার হিংসা নেই। অবাঙালিদের উপর কেউ হাত তুলবেন না। আইন নিজের হাতে নেবেন না। অবশ্য যেসব লোক পাকিস্তানি সৈন্যদের সমর্থন করেছে, আমাদের লোকদের হত্যা করতে সাহায্য করেছে তাদের ক্ষমা করা হবে না। সঠিক বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেয়া হবে। 
আপনারা জানেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা দাঁড় করানো হয়েছিল এবং অনেকেই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে। আমি তাদের জানি। আপনারা আরও জানেন যে, আমার ফাঁসির হুকুম হয়েছিল। আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবরও খোঁড়া হয়েছিল। আমি মুসলমান। আমি জানি, মুসলমান মাত্র একবারই মরে। তাই আমি ঠিক করেছিলাম, আমিত তাদের নিকট নতি স্বীকার করব না। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, ‘আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। জয় বাংলা।’
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে বন্দী হওয়ার পূর্বে আমার সহকর্মীরা আমাকে চলে যেতে অনুরোধ করেন। আমি তখন তাদের বলেছিলাম, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে বিপদের মুখে রেখে আমি যাব না। মরতে হলে আমি এখানেই মরব। বাংলা আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তাজউদ্দিন এবং আমার অন্যান্য সহকর্মীরা তখন কাঁদতে শুরু করেন।
আমার পশ্চিম পাকিস্তানি ভাইয়েরা আপনাদের প্রতি আমার কোন বিদ্বেষ নেই। আমি চাই আপনারা সুখে থাকুন। আপনাদের প্রতি আমার কোন আক্রোশ নেই। আপনারা স্বাধীন থাকুন, আমরাও স্বাধীন থাকি। বিশ্বের অন্য যে কোন দেশের সাথে আমাদের যে ধরনের বন্ধুত্ব হতে পারে, আপনাদের সাথেও আমাদের শুধুমাত্র সেই ধরনের বন্ধুত্বই হতে পারে। কিন্তু যারা অন্যায়ভাবে আমাদের মানুষদের মেরেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হবে। বাংলাদেশে এমন পরিবার খুব কমই আছে, যে পরিবারের কোন লোক মারা যায়নি।
বাংলাদেশে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। ইন্দোনেশিয়ার পরেই এর স্থান। মুসলিম জনসংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের স্থান তৃতীয় ও পাকিস্তানের স্থান চতুর্থ। কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস, পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী ইসলামের নামে এ দেশের মুসলমানদের হত্যা করেছে, আমাদের নারীদের বেইজ্জত করেছে। ইসলামের অবমাননা আমি চাই না। আমি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিতে চাই যে, আমাদের দেশ হবে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক দেশ। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, হিন্দু-মুসলমান সবাই সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে।
আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে শ্রদ্ধা করি। তিনি দীর্ঘকাল যাবৎ রাজনীতি করছেন। তিনি শুধু ভারতের মহান সন্তান পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর কন্যাই নন, পণ্ডিত মতিলাল নেহেরুর নাতনীও। তাঁর সাথে আমি দিল্লীতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করেছি। আমি যখনই চাইব, ভারত বাংলাদেশ থেকে তার সৈন্যবাহিনী তখনই ফিরিয়ে নেবে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সৈন্যের একটা বিরাট অংশ বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আমার দেশের জনসাধারণের জন্য শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী যা করেছেন, তার জন্য আমি তাঁকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার মুক্তির জন্য বিশ্বের সকল দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের নিকট আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁরা যেন আমাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানকে অনুরোধ জানান। আমি তাঁর নিকট চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।
প্রায় এক কোটি লোকÑ যারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলÑ এবং বাকি যারা দেশে রয়ে গিয়েছিল, তারা সবাই অশেষ দুঃখকষ্ট ভোগ করেছে। আমাদের এই মুক্তি সংগ্রামে যারা রক্ত দিয়েছে, সেই বীর মুক্তিবাহিনী ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক সমাজ বাংলার হিন্দু-মুসলমান, ই.পি.আর, পুলিশ, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্য আর সবাইকে আমার সালাম জানাই। আমার সহকর্মীরা, আপনারা মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার ব্যাপারে যে দুঃখকষ্ট সহ্য করেছেন, তার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের মুজিব ভাই আহ্বান জানিয়েছিলেন আর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপনারা যুদ্ধ করেছেন, তার নির্দেশ মেনে চলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন। আমার জীবনের একমাত্র কামনা, বাংলাদেশের মানুষ যেন তাদের খাদ্য পায়, আশ্রয় পায় এবং উন্নত জীবনের অধিকারী হয়।
পাকিস্তানি কারাগার থেকে আমি যখন মুক্ত হই, তখন জনাব ভুট্টো আমাকে অনুরোধ করেছিলেন, সম্ভব হলে আমি যেন দুদেশের মধ্যে একটা শিথিল সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি। আমি তাঁকে বলেছিলাম, আমার জনসাধারণের নিকট ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমি আপনাকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারি না। এখন আমি বলতে চাই, জনাব ভুট্টো সাহেব, আপনারা শান্তিতে থাকুন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এখন যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায় তাহলে সে স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য মুজিব সর্বপ্রথম তার প্রাণ দেবে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশে যে নির্বিচার গণহত্যা করেছে, তার অনুসন্ধান ও ব্যাপকতা নির্ধারণের জন্য আমি জাতিসংঘের নিকট একটা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের আবেদন জানাচ্ছি। 
আমি বিশ্বের সকল মুক্ত দেশকে অনুরোধ জানাই, আপনারা অবিলম্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিন এবং সত্বর বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্য করে নেয়ার জন্য সাহায্য করুন। জয় বাংলা।  

সূত্র  : বঙ্গবন্ধু ভাষণ, ঢাকা : চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর ২০১২, পৃষ্ঠা : ১৯-২১

১৫ জানুয়ারি ১৯৭২ : আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ
শহীদদের ঋণ শোধ করতে হলে এবং যাঁরা তাঁদের আপনজন হারিয়েছেন তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে হলে সবার আগে আমাদের জাতি পুনর্গঠনের কাজ হাতে নিতে হবে। দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে  তোমাদের একটি সুখী জাতি গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আমাদের দল একটি গণতান্ত্রিক দল। জনগণের ইচ্ছার উপর ভিত্তি করেই আমাদের সরকার গঠিত হয়েছে এবং পার্টির মাধ্যমেই জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। পার্টি সমর্থন না করলে সরকার টিকে থাকতে পারে না। 
বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা, ধর্ষণ ও সম্পত্তি ধ্বংসের জন্যে দায়ী ব্যক্তিবর্গ ও তাদের দালালদের উপযুক্ত শাস্তি সরকার নিশ্চয়ই দেবে। এজন্য জনগণ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারবে না। 

সূত্র : বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা-২২

১৬ জানুয়ারি ১৯৭২ : প্রেসিডেন্ট ভবনে বাস্তুহারাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ
আমি জানি যে, আজ স্বাধীনতা পেয়েছি, আপনারা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক, কিন্তু কত রক্ত দিতে হয়েছে তার হিসাব এখনও নাই। লক্ষ লক্ষ ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। জালেমের দল চলে গিয়েছে সত্য, আমার দেশের সাত কোটি লোককে বাস্তুহারা করে গেছে। কিন্তু আমার মাটি আছে, আমার মানুষ আছে, আমার ঈমান আছে, আমার যা কিছু আছে তাই নিয়ে সোনার বাংলাকে নতুন করে গড়তে হবে এবং নতুন করে মানুষের খাওয়া পরার বন্দোবস্ত করতে হবে।
কত আমার বাস্তুহারা ঢাকা শহরে আছে, তাদের জন্য আমি একটা জমি এরিয়ার বন্দোবস্ত করে দিচ্ছি, আপনারা সব সেখানে উঠে নেন [যান]। আপনারা আপনাদের জায়গায় থাকবেন, পরে আমি আপনাদের জন্য ঘর-বাড়ির কী করতে পারি দেখব। আপনারা ধৈর্য্য ধরেন, আইন-শৃঙ্খলা রাখতে হবে।
দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। টাকা নাই, পয়সা নাই, চাল নাই, অর্থ নাই, কাপড় নাই, জামা নাই, কিচ্ছুই না। কিছু কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়াবার চেষ্টা করছে। তাদের জানা উচিত এই যে, বাংলাদেশে স্বাধীন বাংলার সরকার দুষ্কৃতিকারীদের ক্ষমা করবে না। তাদের আমি অনুরোধ করছি : জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারবে না। যাতে ন্যায্যমূল্যে আমার জনসাধারণ জিনিসপত্র পায় সেদিকে খেয়াল রাখবে, না হলে ভবিষ্যৎ তোমাদের অন্ধকার হয়ে যাবে।
স্বাধীনতা মানে বিশৃঙ্খলা নয়, স্বাধীনতা মানে গুণ্ডামি বদমায়েশি নয়, স্বাধীনতা মানে একজনের কাছ থেকে জুলুম করে পয়সা উপার্জন করা নয়, স্বাধীনতা মানে মানুষ, মুক্ত দেশের মুক্ত মানুষ, তারা স্ব-সম্মানে ইজ্জতের সঙ্গে বাস করবে এবং তারা মানুষের মতো বাস করবে। এই সমাজে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিজ্ঞা আমি গ্রহণ করেছি।
আমি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এসেছি। লক্ষ লক্ষ মা-বোন-ভাই আমার জীবন দিয়েছে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিজ্ঞা আমি গ্রহণ করেছি। তবে লক্ষ লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার মা-বোনদের উপর পাশবিক অত্যাচার করা হয়েছে। আমার দেশের মানুষের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা করেছে নমরুদ, ফেরাউন বোধ হয় লজ্জা পেত, যা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকেরা করেছে।
আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, আপনারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা পায় তার দিকে নজর রাখবেন। একজন আরেকজনের উপর অত্যাচার করবেন না। আর দ্বিতীয় কথা আমার বাস্তুহারা ভাইরা সাত কোটি বাঙালি আজ বাস্তুহারা হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ ঘর-বাড়ি গ্রামে গ্রামে পুড়ায়া দিয়াছে, এইজন্য বারবার এ কথা আমি বলছি, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, যত তাড়াতাড়ি হয় আপনাদের নিজের জায়গায় বন্দোবস্ত আমি করে দিচ্ছি।
এ দেশের যুবক ছেলেরা রক্ত দিয়েছে, সমস্ত দলের মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা জীবন দিয়েছে, আমার সামরিক বাহিনীর ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছে, পুলিশ রক্ত দিয়েছে, বুদ্ধিজীবী রক্ত দিয়েছে, মা-বোন রক্ত দিয়েছে। এই রক্ত যেন বৃথা না যায়। যারা রক্ত দিয়ে এই স্বধীনতা দিয়ে গেল, তারা মরে নাই। তাদের আত্মা বেঁচে আছে। তারা দেখবে, তাদের আত্মা দেখবে যে বাংলার মানুষ সুখে বাস করছে কিনা, বাংলার মানুষ পেট ভরে খাচ্ছে কিনা, বাংলার মানুষ শান্তিতে বাস করছে কিনা। ওদের আত্মা সেইদিন শান্তি পাবেÑ যেদিন আপনারা পেট ভরে ভাত খাবেন, গায়ে আপনাদের কাপড় হবে, থাকার বন্দোবস্ত হবে, বেকার সমস্যা দূর হবে, সেই দিনই আমি সত্যিকারের স্বাধীন বাংলার নাগরিক হিসেবে আপনাদের দাবি করতে পারবÑ এর আগে আমার দাবি করার অধিকার নাই।

সূত্র : অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পিপল্স ভয়েস-১

১৭ জানুয়ারি ১৯৭২ : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত বিবৃতি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার একটি নয়া পুলিশ-বাহিনী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত করেছেন। এটি হবে গণ-পুলিশ বাহিনী; অতীতের ন্যায় এ বাহিনী ভয়-ভীতি ও নির্যাতন চালানোর হাতিয়ার হবে না।
আমাদের প্রাণ-প্রিয় মাতৃভূমিকে অতি দ্রুত গড়ে তোলা এবং আমাদের  জাতীয় লক্ষ্যসমূহ হাসিলের জন্য প্রাপ্ত সকল সম্পদ (বস্তু ও জনশক্তি) কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য আমাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অগ্রগতির নীলনক্সা তৈরির জন্য আমাদের অসংখ্য ট্রেনিংপ্রাপ্ত শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, পরিসংখ্যানবিদ, ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতিবিদ, চিকিৎসক, কারিগর এবং সকল রকম দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। আমাদের সমাজের শিরোমণি বুদ্ধিজীবী ও দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। আমাদের অগ্রগতির পথ নির্দেশ করতে পারতেন, তাঁদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য বর্বর শক্তি প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। আমরা বহু মূল্যবান জীবন হারিয়েছি। আমাদের অবশ্যই এই ক্ষতি পূরণ করতে হবে এবং উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে নয়া দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কালবিলম্ব না করে যাতে আমরা আমাদের নয়া সমাজ গঠনের কাজ শুরু করতে পারি, তজ্জন্য সম্ভাব্য দ্রুত সময়ের মধ্যে যুদ্ধের ধ্বংসলীলার স্বাক্ষর মুছে ফেলতে হবে। 
সরকার মনে করেন যে, গণ-বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ করে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য পড়াশোনা ত্যাগ করেন, তাঁদের জাতীয় উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা উচিত। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার যে সকল মুক্তিযোদ্ধা তাদের পড়াশোনা ও ট্রেনিং পুনরায় শুরু করতে চান, তাঁদের দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনসমূহে সকল রকম সুযোগ-সুবিধে দানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। যাঁরা পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাঁদের আশু উপযুক্ত পদে নিয়োগ করা হবে। জাতীয় মিলিশিয়া গঠনের উদ্দেশ্য হলো গণ-বাহিনীর সদস্যদের একটি সংস্থা ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনয়ন করা। এরপর জাতীয় পুনর্গঠন, উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা এবং আইন ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগে যোগ্যতা, মনোভাব ও দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য তাঁদের নির্বাচন করা। 
আমি আপনাদেরকে স্মারণ করিয়ে দিতে চাই যে, ঘৃণ্য ও কুখ্যাত আল- বদর, আল-শাম্স ও রাজাকার-বাহিনীর বহু সদস্য নিজেদেরকে গণ-বাহিনীর লোক বলে চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের জনগণের জানমালের প্রতি হুমকিস্বরূপ হয়ে রয়েছে। আশঙ্কা করা যাচ্ছে, তারা হয়তো জাতীয় মিলিশিয়া শিবিরে হাজির হবে না এবং আমি যে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, তার মধ্যে তাদের অস্ত্রসমর্পণ করবে না। এই নির্ধারিত সময়ের পর অনুমোদন ব্যতীত যারা অস্ত্র বহন করবে, আমরা দেশবাসী ন্যায়সংগতভাবেই তাদেরকে উপরোক্ত কুখ্যাত সংস্থাসমূহের সদস্য বলে সন্দেহ করবো এবং তারা অপ্রীতিকর পরিণতির সম্মুখীন হবে। 

সূত্র : বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা-২৬-২৭

৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ : ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিবাহিনীর সকল দলের অস্ত্রসমর্পণ উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণ
আমাদের সংগ্রাম কোন দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। আমরা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। আমেরিকা হোক বা অন্য যে কোন দেশই হোক আমাদের স্বাধীতার বিরুদ্ধে যারাই ষড়যন্ত্র করবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিরোধ করব।
হানাদার বাহিনী আমাদের সোনার বাংলাকে শ্মশান করে গেছে। তবে তারা আমাদের সোনার বাংলার মাটিকে নিতে পারেনি। এই মাটিতেই আমাদের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য চাই সকলের সমবেত সাহায্য ও সহানুভূতি। 
স্বাধীনতা লাভ করা যেমন কঠিন, স্বাধীনতা রক্ষা করাও তেমনি কঠিন। জনগণের জন্যে গণতন্ত্র ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলেই তারা সত্যিকারের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র হবে, সমাজতন্ত্র আসবে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েম হবে। 
আমাদের অস্ত্রের সংগ্রাম শেষ হয়েছে। এবার স্বধীনতার সংগ্রামকে দেশ গড়ার সংগ্রামে রূপান্তরিত করতে হবে। মুক্তির সংগ্রামের চেয়েও দেশ গড়ার সংগ্রাম কঠিন। তাই দেশ গড়ার কাজে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। 

সূত্র : বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা-৩১

৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ : কলকাতায় রাষ্ট্রীয় সফরে  বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
গত ৭ই মার্চ [১৯৭১] তারিখে আমি জানতাম পৈশাচিক বাহিনী আমার মানুষের উপর আক্রমণ করবে। আমি বলেছিলাম আমি যদি হুকুম দেবার না পারি তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ তৈয়ার করো। আমি বলেছিলাম যা কিছু আছে তা নিয়ে শক্রর মোকাবেলা করো। আমি বলেছিলাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমার লোকেরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৃদ্ধ থেকে বালক পর্যন্ত সকলেই সংগ্রাম করেছে। 
তারা [পাকিস্তান সরকার] শুধু আমার স্বাধীনতা হরণ করে নাই, তারা আমার মাতৃভাষার উপর আঘাত করেছিল। তারা আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত করেছিল। তারা শুধু তাই করে নাই, শোষণ করে বাংলাকে সর্বশান্ত করেছিল। আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। বার বার মোকাবেলা করেছি। ১৯৪৮ সালের রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন আপনাদের জানা আছে। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আমার ছেলেরা জীবন দিয়েছিল। 
১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করেন পাকিস্তানে। এই আইন করা হয়েছিল বাংলাকে শোষণ করার জন্য এই আইন করা হয়েছিল বাংলাকে কলোনি করার জন্য। এই সামরিক আইন জারি করা হয়েছিল বাংলার মানুষকে পথের ভিখারী করার জন্য। আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার ভায়েরা জীবন দিয়েছিল। 
আমরা কারাবরণ করেছিলাম। কিন্তু বাংলার মানুষ আপনারা খবর না পেলেও বাংলার মানুষ মাথা নত করে নাই। তারা সংগ্রাম চালিয়েছিল এবং সংগ্রাম চালিয়েছিল, ১৯৬২ সালে আমার ছেলেদের ওপর গুলি চালায়। ১৯৭০ সালের উপর ইতিহাস পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের তিনটা আদর্শ ছিল, সে আদর্শ এ সভ্য জগতে চলতে পারে না। কী ছিল তাদের আদর্শ? ভাগ করেছে দুটো দেশ হয়েছে। তাদের একমাত্র স্লোগান ছিল, “সব নেতাদের ইসলাম খতরামে হায়, কাশ্মীর কো ফতে করণে পড়ে গা, হিন্দু হামারার দুশমন হায়।” আর কোন স্লোগান নাই, আর কোন আদর্শ নাই, মানুষ না খেয়ে মরছে, তার কথা বলবে না। কতোটা মানুষ পথের ভিখারী হচ্ছে তার কথা বলবে না। দুঃখী মানুষের গায়ে কাপড় নাই তার কথা বলবে না।
কিন্তু আমরা, আপনারা জানেন যে তেইশ বছর পর্যন্ত শতকরা ৯২ জন লোক  [পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি] আমাদের। সারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সামরিক বাহিনীতে নেওয়া হতো। বাঙালিদের সামরিক বাহিনীতে নেওয়া হতো না। কারণ বাঙালি হাতে অস্ত্র পাইলে তাদের উপায় ছিল না। তাই বাঙালিকে অস্ত্র দেওয়া নিষেধ ছিল। 
মনে করেছিল বন্দুক দিয়েই বাংলাদেশকে দাবায়ে রাখবে। আহম্মকের দল জানে না, যে জাতি একবার জেগে উঠে, যে জাতি মুক্তি পাগল, যে জাতি স্বাধীনতাকে ভালবাসে সে জাতিকে বন্দুক কামান দিয়ে দাবায়ে রাখা যায় না। আহম্মকের দল তা জানেন না। ইতিহাসে তারা পড়ে নাই। ভাইরা আমার তাই আপনারা জানেন, যা কিছু সামান্য আমার পুলিশের লোক ছিল তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শতকরা ৬০ জন বাঙালি পুলিশকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যা কিছু আমার সামরিক বাহিনীর লোক ছিল তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যা কিছু আমার শিক্ষিত লোক ছিল তাদের অনেককে গুলি করেছে। তাদের গুলি করা হয়েছে। রাস্তা বাংলাদেশে নাই শেষ করে দিয়ে গেছে। শুনে আশ্চর্য হয়ে যাবেন যে, যাবার আগে কতগুলো খাবার গুদাম ছিল, যার মধ্যে আটা ময়দা চাউল ছিল, তা পর্যন্ত ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।
আমেরিকা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারলাম না। আর আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, মুখে মুখে মেহেরবাণী করে গণতন্ত্রের কথা না বলে গণতন্ত্র যাতে চলে সেদিকে একটু খেয়াল রাখুন। দুনিয়ায় সা¤্রাজ্যবাদের দিন চলে গেছে। ভারতবর্ষ আর বাংলাদেশে সা¤্রাজ্যবাদীদের খেলা চলবে না।
ভাইয়েরা আমার, আমি, আমার দেশে সাম্প্রদায়িকতা, বাংলার বুকে নাই আপনারা দেখেছেন। ভারতের জনসাধারণকে আমি অনুরোধ করবো যে ভারতের বুকে যেন সাম্প্রদায়িকতার বীজ আর না আসে। কারণ এটা মনুষ্যত্বের বাইরে। এটা মানবতার বাইরে, যে কোন ধর্মের বিরুদ্ধে। সেই জন্যই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র যেখানে বলা হয় তা পুরোপুরি আপনাদের পালন করতে হবে।

সূত্র : অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পিপল্স ভয়েস-১

৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ : কলকাতার বিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রদত্ত ভাষণ
সরকার একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় এবং দুর্গত জনতার অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে বদ্ধপরিকর। আর এজন্যে কাজ করতে হবে যুদ্ধকালীন অবস্থারই মনোভাব নিয়ে।  লাখো লাখো জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিশ্বের কোন শক্তিই আর এই স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। বিশ্বের ইতিহাসে আমাদের মতো এতো বড় মূল্য দিয়ে আর কেউ স্বাধীনতা অর্জন করেনি। বহু কষ্টে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের শেষ মানুষটিও প্রাণপণে সংগ্রাম করবে।
দখলদার পাকিস্তানী পশুরা আমাদের দেশকে তছনছ করে দিয়েছে। হত্যা করেছে তারা ৩০ লাখ মানুষ। হত্যা করেছে তারা জ্ঞানী-গুণী, বিজ্ঞানী আর বুদ্ধিজীবীদের, নষ্ট করেছে মা-বোনের ইজ্জত। জ্বালিয়ে দিয়েছে শতকরা ৪০ ভাগ বাড়ী। লুটে নিয়েছে দেশের সমস্ত ধনসম্পদ। আমার দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে বজ্রকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে সুদৃঢ় আত্মপ্রত্যয় নিয়ে সংগ্রাম করেছে। উচ্ছেদ করেছে হানাদার পশুশক্তিকে। আজ সমান দৃঢ়তা আর আস্থা নিয়েই তারা এই ভাঙ্গা হাটে গড়ে তুলবে সোনার বাংলা।

সূত্র : বঙ্গবন্ধুর ভাষণ,  ঢাকা : চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর, তথ্য মন্ত্রণালয়, ২০১২, পৃষ্ঠা-৩৩

৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ : কলকাতা কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত ভাষণ
বাংলাদেশ যে চারটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত তার অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। আমার সরকার বিভিন্ন মতাবলম্বী লোকের মধ্যে কোন পার্থক্য করবে না। আমার জনগণ ও সরকার যে কত সহনশীল বাংলাদেশের  মুক্তির পর একজন অবাঙালিকেও প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য হত্যা না করার মধ্যে তার প্রমাণ নিহিত। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার বর্বর পাকবাহিনীর নৃশংসতার শিকার হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিবাহিনী কখনো প্রতিশাধ গ্রহণের চেষ্টা করেনি। যদি তারা চাইত তবে বাঙালি হত্যার ব্যাপারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতাকারী সকল অবাঙালিকে তারা ১৬ই ডিসেম্বরই খতম করে দিতে পারত। তবে বাংলাদেশে বসবাসকারী অবাঙালিদের স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। সর্ববিষয়ে তাদের বাঙালি হতে হবে। যদি তারা তাই করে তবে আমাদের মতই তারাও হবে বাংলাদেশের নাগরিক। এজন্য “তাদেরকে এখানে অবশ্যই বাঙালি হিসাবে বসবাস করতে হবে।” প্রতিশোধ গ্রহণের মাধ্যমে সত্যিকার কোন মহৎ উদ্দেশ্য সাধিত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি না।

সূত্র : বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা-৩৫

জয় বাংলা মুজিবর
লেখক : মহাদেব সাহা

শুনেন এবার শ্রোতগণে শুনেন দিয়া মন,
ইয়াহিয়ার পতন হল শুনুন সর্ব্বজন।
পশ্চিম পাকিস্তানে ২ খুসী মনে লড়াই বন্ধ হল,
পূর্ব্ববঙ্গ একেবারে দখল হইয়া গেল।
ইন্দিরার বুদ্ধি ভারী ২ দেখতে পারি শুনুন ভাই সবে,
স্বীকৃতি দেওয়ার সাথে উল্লাসে উঠে মেতে।
আনন্দে মাতোয়ারা ২ দেশ ভরা বাঙ্গালীদের ভাই,
রাস্তা ঘাটে মিছিল চলছে দেখতে তব পাই।
এইবার ইন্দিরা ২ পাকাহিরা বুদ্ধিমতি বটে,
ভারতের জওয়ানদেরে পাঠাইল তাতে।
পূর্ব্ববঙ্গ দখল কর ২ নাহি ছাড় শত্রুদের এখন,
গোলা বারুদ অভাব নাই জানাই বিবরণ।
দেখি অকারণে ২ নানা স্থানে বিহারী হানাদার,
জনগণের উপর চালায় নির্ম্মম অত্যাচার।
আরো গুলি করে ২ বহু মরে সাধারণ লোক,
সে দৃশ্য দেখিয়া দুঃখে ফেটে যায় বুক।
আরো পথে ঘাটে ২ নদী পাড়ে পড়ে আছে লাস,
পূর্ব্ব বাংলা জুড়ে দেখি উঠি সন্ত্রাস।
পশ্চিমী হানাদার ২ নারীদের নির্য্যাতন করে,
মায়ের কোল হতে শিশুকে আছাড় দিয়া মারে।
আরও বাপের সামনে ২ খুসী মনে মেয়ের উপর,
পাশাবিক অত্যাচার করে ঐ সব বর্ব্বর।
সে সব বিভীষিকা ২ মরীচিকা লেখার সাধ্য নাই,
ইতিহাসে এমন নজীর কভূ শুনতে নাহি পাই।
হিটলারের অত্যাচার ২ ওরা করেছিল ম্লান,
নর পিশাচরূপে দেখা দিল ইয়াহিয়া খান।
আর পূর্ব্ববাংলায় ২ দেখা যায় রক্তের হোলি খেলা,
ইয়াহিয়ার গলে দেখি লক্ষ মুন্ডের মালা।
মুজিব বাহিনী ২ আঘাত হানে আগাইয়া যায়,
জয় বাংলা বলে তারা জয় নিশান উড়ায়।
আরও ইয়াহিয়া ২ জাত বেহায়া জাতিতে পাঠান,
বাঙ্গালীদের ধ্বংস করতে চালান অভিযান।
আরো ভুট্টোবেটা ২ রামপাঠা শয়তানের চর,
ঝাঁকে ঝাঁকে সৈন্য পাঠায় বাংলাদেশের পর।
কার্য্য বৃথা গেল ২ বিফল হল ইয়াহিয়ার বাণী,
ইয়াহিয়া কোথায় গেল ধরে আন এখনি।
এই কথা শুনে ২ ইয়াহিয়া পালাইয়া যে গেল,
ভুট্টোবেটা গ্যাড়াকল শুরু যে করিল।
এসব গ্যাড়াকল ২ মহাছল কেন করছ ভাই,
যুদ্ধক্ষেত্রে নামলে আবার রক্ষা কিন্তু নাই।
ইহা নাহি হইবে ২ না শুনিবে বাঙ্গালী সকল,
বাঙ্গালীদের মেরুদ- ভাঙ্গিতেছে কেবল।
জাগো বাঙ্গালী ভাই ২ বাংলা চাই স্বাধীনতার তরে,
বাংলাদেশে স্বাধীনতা আসিয়াছে ফিরে।
তাই ভারতের বীর ২ স্থির ধীর জওয়ানের দল,
পাকিস্তানকে জব্দ করতে করিল কৌশল।
তারা আঘাত হানে ২ যেইখানে গোলাবারুদ আছে,
সামরিক জিনিষের উপর আঘাত হানিয়াছে।
কিন্তু রক্তলোভী ২ দানব সবাই উল্টো চাল চালে,
কাশ্মীর হতে পাঞ্জাব এসে হঠাৎ হানা দিলে।
অমৃত সহরেতে ২ একদিন রাতে বোমা বর্ষণ করে,
বহুলোক সেইখানেতে আক্রমণে মরে।
মোদের জওয়ান ভাই ২ দেখতে পাই মাতৃভূমির তরে,
অগ্রসর হইয়া চলে জীবন তুচ্ছ করে। তারপর বহুগ্রাম ২ অবিরাম দখল করে নেয়,
শত্রুদের ট্যাঙ্ক বিমান ধ্বংস করে দেয়।
হিন্দু মুসলমান ২ বৌদ্ধ খৃষ্টান আমরা ভাই ভাই,
শিখ মারাঠি কারো প্রাণে ভেদাভেদ নাই।
আমরা ভারতবাসী ২ ধরব অসি মাতৃভূমির তরে,
বিশে^র কোন শক্তি নাই মোদের জব্দ করে।
ইয়াহিয়ার অবিচার ২ চমৎকার দেখতে তব পাই,
আম্বালা এক হাসপাতালে বোমা ফেলে তাই।
তারপর বাড়ী ঘরে ২ বোমা ফেলে ধ্বংস করে দেয়,
নিরীহ মানুষের প্রাণ ছিনাইয়া নেয়।
খেয়ে রাম ঠেলা ২ জঙ্গী মোল্লা হইল বেহুস,
তার কাছ তাই শত্রু হল সাধারণ মানুষ।
পূর্ব্ব বাংলার লোক ২ তাদের দুঃখ সদা দেখতে পাই
তোমার প্রতি আস্থা তাদের একটুও নাই।
তাইত আন্দোলন ২ সর্ব্বক্ষণ : পূর্ব্ব বাংলায় হয়,
পূর্ব্ব বাংলার লোক তোমাকে জঙ্গী শাসক কয়।
তোমার অত্যাচার ২ তাদের আর জানতে বাকী নাই,
মিথ্যাবাদী প্রতারক শয়তানের গোঁসাট।
ইয়াহিয়া ভারী চালাক ২ হই অবাক আজব চাল দেখে,
গুরু কিন্তু মানল তিনি আমেরিকাকে।
কিন্তু নিজের চেলা কাঁচাকলা ভুট্টা জঙ্গীকে,
পাঠাইয়া দিল যে বেটা চীনা গুরুর দিকে।
এদের মতলব খারাপ ২ করবেন মাপ আমি বলে যাই
দু’দেশের শক্তি নিয়ে করতে চাই লড়াই।
মনে এই ভাবিয়া ২ দুজন গিয়া দুই কুল ধরে,
একই রকম মতলব কিন্তু তাহাদের অন্তরে।
কিন্তু আমেরিকা ২ কেমন বোকা ভেবে নাহি পাই,
ইয়াহিয়ার ছলনায় তারা ভুলে গেল ভাই।
তারপর ভুট্টোবেটা ২ রামপাঠা কা-জ্ঞান নাই,
ডাকাতের সর্দ্দার তিনি দেখতে তব পাই।
গিয়ে পিকিংতে ২ চো এন লাইয়ের সাথে পরামর্শ করে,
নাক বোচা ঐ চীনা নারীর প্রেমে দেখি পড়ে।
কিন্তু চীনা ড্রাগন ২ সর্ব্বক্ষণ নিজ স্বার্থের তরে,
কন্যা দিয়া ভুট্টোর সাথে আত্মীয়তা করে।
তারা যুক্তি করে ২ : তারপরে মন স্থির করে,
গোপনেতে দেখি ভাইরে অভিসন্ধি করে।
এ সব মহাসন্ধি ২ করছ বন্দী মুজিবরকে ভাই,
মুজিবরকে বন্দী রেখে যুদ্ধ চালাবে তাই।
ইহা নাহি হবে ২ না চলিবে বুঝে নিও দিলে,
ষুদ্ধের জন্য ষড়যন্ত্র করিতেছে তলে তলে।
এসব ছেড়ে দিয়ে ২ পালাও গিয়ে সাবধান করি তাই,
নইলে ইয়াহিয়ার মত মরতে হবে তোমাকে জানাই।
ভুট্টো চালাক ভারি ২ জানতে পারি আজব চাল চালে
তলে তলে মহাকল চালায় এইবারে।
তারপরে ভারতেরে ২ কাবু করে ফাঁদে ফেলে দিব,
একে একে ভারত ভূমি গ্রাস করিয়া নিল।
আরও শুন বলি এই দালালী কভু চলিবে না,
ভুট্টোর ক্ষেতে ভুট্টো ফলতে আরত দিব না।
এইবার অসি ধরলে ২ ভুট্টোকে পাঠা বলি দেব,
বারে বারে সব জ¦ালাতনের দুঃখ তুলে নিব।
জানি তলে তলে ২ এর মূলে আছে আরেকজন,
নিস্কন নাম তার শুনেন সর্ব্বজন।
দুষ্ট বিশ^াসঘাতক ২ মহাপাতক শকুনী হয়ে,
চক্রান্ত করিল তিনি পাকিস্তানে গিয়ে।
বলে ভুট্টার সনে ২ খুব গোপনে হানাদার পাঠাও,
ছলে বলে কাশ্মীর রাজ্য দখল করে নাও।
এবার ভুট্টাবেটা ২ রামপাঠা শয়তানের চর,
মুজিবরের সঙ্গে যুক্তি করিল পর পর।
কিন্তু কোন যুক্তি না পায় উক্তি ভুট্টাবেটা ভাই,
মুজিবরকে মুক্তি দিয়া ঠেলা খাচ্ছে তাই।
পশ্চিম পাকিস্তানে ২ খুসি মনে বিক্ষোভ শুরু হল,
নিরুপায় হইয়া ভুট্টা আবার ফন্দি চালাইল।
বলে মুজিবরে ২ বারে বারে করে যে বিনয়,
জয় বাংলা নাম ভুলে পাকিস্তান কয়।

        সুর_প্যারোডি
ওগো ভুট্টো খাঁ ওকে আজ সরে যেতে বলনা
মুজিবরের সঙ্গে যুদ্ধ করব না করব না
প্রাইভেটে এই কথা বলনা
চারিধারে ঋণের দায়ে মরি আমি লাজে,
ধারের জন্য যার কাছে যাই ল্যাঙ মারে লজে।
আমার এই দুঃখের কথা কেন সে বোঝে না,
তুই একবার মুজিবের কাছে চল না।
কর্ম্মচারী মাহিনার জন্য আসছে শত শত,
স্তোব বাক্য দিয়ে তাদের বুঝাইব কত।
আমার এ কথা তারা মানে না মানে না,
ও ভুট্টোগো তুই একবার বুঝাইয়া বল না।
রাস্তা পেলে পালাইতাম বলি তোর ঠাঁই
ইহা ছাড়া অন্য উপায় আর আমার নাই।
হজ¦ করতে যেতে মোর মনে ছিল বাসনা,
ও ভুট্টোগো আমার সঙ্গে চল না।

        গান_কিনামে ডেকে
ইয়াহিয়া খান বড় বেইমান
বাঙ্গালীদের মেরে মেরে করিলেন শ্মশান।
যশোইরে নাই বেশী আর হিন্দু মুসলমান,
স্ত্রীর সামনে গুলি করে বধে স্বামীর প্রাণ।
কোলের ছেলে কেড়ে নিয়ে নদীতে ভাষাণ,
জনশূণ্য করে দিলেন সোনার চট্টোগ্রাম।
নাই কি কভু এদের কাছে প্রাণের কোন দাম,
সত্যিই কি এদের প্রাণ পাযাণে নির্মাণ।
মানুষ মেরে ধ্বংস করে তুলে যে নিশান।

        সুর_ভাটিয়ালী
মুজিব বাইয়া যাওরে অকূল দরিয়ার মাঝে,
তোমার ভাঙ্গার নাওরে মুজিব বাইয়া যাওরে।
জয় বাংলা বাংলা বৈলারে মাঝি বাদাম দাও তুলিয়া,
ইন্দিরা গান্ধীর নাম লইয়া নৌকা দাও ছাড়িয়া মাঝিরে।
কোথায় গেলা কোথায় রইলা দেখা দাওনা আসিয়া,
ওযে দেশের বন্ধু দেশে এল দেখে যাও আসিয়া।
ইন্দিরা গান্ধীর নাম লইয়া নৌকা দেও ছাড়িয়া মাঝিরে,
বঙ্গবন্ধু মুক্তি হইয়া দেশে আইল ফিরে।
ওযে হাব তুলিয়া নৌকা ছাড় করুণ স্বরে বাজাও বাঁশী,
মুজিবরের মুক্তি হল দেখ বাংলাবাসীরে।   

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯