সামাজিক অস্থিরতা : প্রাসঙ্গিক ভাবনা

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ১২:৫১

শেখর দত্ত

 

সামাজিক অস্থিরতা ও গুজব এখন দেশব্যাপী পরিব্যাপ্ত। বাস্তবে অস্থিরতা ও গুজব পারস্পরিক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অস্থিরতা বাড়ে তো গুজব বাড়ে আর গুজব তিলকেও তাল করে অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অস্থিরতা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বাস্তব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন। আর অস্থিরতার পরিবেশ পেয়ে গুজব ছড়ায় কায়েমি স্বার্থান্বেষীরা, যারা ঘোলা পানিতে মৎস্য শিকারে তৎপর। ফলে ওই দুয়ে মিলে অরাজকতা অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, অস্থিরতার রয়েছে বিভিন্ন রূপ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে অস্থিরতা রূপ পায়। তবে এক ক্ষেত্রে অস্থিরতা অপর ক্ষেত্রকে প্রভাবিত ও যুক্ত করে এবং একসময় তা বিস্তৃত ও গভীর হয়ে ওঠে। এখানে বলতেই হয় যে, মানুষ হচ্ছে সব কিছুর নির্ণায়ক। মানুষ যদি থাকে ক্রিয়াশীল ও অগ্রগতির পক্ষে তবে গতিকে কেউ রোধ ও পশ্চাৎমুখী করতে পারে না। আর মানুষ নিষ্ক্রিয় ও হতাশ হলে সর্বনাশ রোধ করা সম্ভব হয় না।
শোকের মাস আগস্টের শুরু আগামীকাল। তাই বর্তমান অস্থিরতা ও গুজবের বাড়বাড়ন্ত পরিবেশের মধ্যে কলামটা লেখার আগে কেবল এসব চিন্তা এবং তা থেকে উত্থিত নানা প্রশ্ন মনোজগতকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে এই মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আমাদের দেশের ইতিহাসের নৃশংসতম ও হৃদয়বিদারক হত্যাকা-, যা ছিল প্রতিবিপ্লবেরই নামান্তর এবং তা আমাদের জাতির অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ ও উল্টোমুখী করে দিয়েছিল। ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেটে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন তথা ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের জাতির স্বপ্নসাধ ধুলায় মিশে গিয়েছিল। ক্ষমতা নিরঙ্কুশ, কুক্ষিগত ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য হত্যা-ক্যু-পাল্টা ক্যু, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সামরিক শাসনের রাজনীতি আমাদের জাতিকে জন্মলগ্নের মর্মবাণী থেকে বিচ্ছিন্ন করে নীতি-নৈতিকতাহীন জায়গায় টেনে নিয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে ভিন্ন এক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বাস্তবতায় আজ আমরা আবার উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি সত্য; কিন্তু ওই হত্যাকা-ের মাসুল হাড়ে হাড়ে এখনও গুনতে হচ্ছে। ওই হত্যাকা-ের আগের দিনগুলো যখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তখন যমজ দুই ভাই অস্থিরতা ও গুজবের কথা মনে করে মনটা ভারাক্রান্ত ও উদ্বেগপূর্ণ হয়ে ওঠে। মনে প্রশ্ন জাগে আবারও কি অস্থিরতা ও গুজব আমাদের জাতিকে সেই ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর পথে টেনে নেবে? না-কি আমরা তা মোকাবেলা করে সামনে অগ্রসর হতে সক্ষম হব? এ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যদি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে তিন বছরের কথা স্মরণে আনি তখন মনে হয়, তখনকার চাইতে এখনকার অস্থিরতার রূপের ভিন্নতা রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী কিন্তু প্রাপ্তির জায়গাটা ছিল খুবই সংকুচিত। প্রশাসন, খাদ্যসহ রাষ্ট্রের তেমন কিছুই ছিল না। শূন্য থেকে সব কিছু শুরু করতে হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে নানামুখী আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিকূলতার মধ্যে ক্ষমতার একাংশের মধ্যে সুবিধাবাদী সুযোগ সন্ধানী ‘চাটার দল’-এর দুর্দমনীয় উত্থান ও লুটপাটসহ তাদের অনৈতিক কাজ, উগ্রবাম ‘রাতের বাহিনী’সহ অন্য বাহিনীর ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কাজ, পরাজিত প্রতিক্রিয়াশীলদের ধর্ম ও ভারত-সোভিয়েত নিয়ে অপপ্রচার ও অপতৎপরতা এবং সবশেষে বন্যা ও খাদ্য জাহাজ নিয়ে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রভৃতি রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক সবক্ষেত্রে অস্থিরতা বৃদ্ধি করে চলছিল। পাকিস্তানি ধারার বিপরীতে দেশবাসীর আকাক্সক্ষা অনুযায়ী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে অগ্রসর করার প্রচেষ্টার ফলেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছিল। ক্রমেই সবক্ষেত্রের অস্থিরতা একত্রিত হয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা দানা বেঁধে ওঠে। ওই পরিস্থিতিতে দেশ হয়ে উঠেছিল যেন গুজবের কারখানা।
আজ জাতি হিসেবে আমরা যখন বিশ^ দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। তখন বাস্তবতার কারণেই আবারও সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা আর সঙ্গে সঙ্গে দেশ যেন হয়ে উঠেছে গুজবের কারখানা। তবে তখনকার সঙ্গে এখনকার অস্থিরতা ও গুজবের পার্থক্য রয়েছে। সেই সময়ে এ দুই ছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সবক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত এবং তা একত্রিত হয়ে এক দুর্দমনীয় ও ভয়ঙ্কর রূপ পরিগ্রহ করেছিল। কিন্তু এখন তেমনটা হয়নি। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা এখন নেই। তবে অন্যদিক থেকে পার্থক্যটি মারাত্মক। তখন প্রচারমাধ্যম ছিল একমাত্র পত্রিকা। আর এখন ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অস্থিরতা ও গুজবকে সহজেই সারাদেশ ও বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারে। কেবল দেশ থেকেই নয়, বিদেশে বহাল তবিয়তে বসেও দেশের অস্থিরতা ও গুজবে বাতাস দেওয়া যায়।
তখনকার ও এখনকার পার্থক্য বিবেচনায় নিলে বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করা যাবে, তখন খাদ্য ঘাটতি সামাজিক অস্থিরতা ও গুজবের সৃষ্টি করেছিল। আর এখন ধানের অতি ফলন তথা উদ্বৃত্ত খাদ্য অস্থিরতা ও গুজব সৃষ্টি করছে। দুধে পানি দেওয়া ছিল সমস্যা আর এখন দুধে সিসা ও এন্টিবায়োটিক হচ্ছে সমস্যা। রাস্তাঘাট সমুদ্র ও বিমানবন্দর চালু করা ছিল তখনকার সমস্যা আর এখন নিজ খরচে যখন পদ্মাসেতু হচ্ছে, তখন বাচ্চাদের অপহরণ ও মাথার খুলি হচ্ছে সমস্যা। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি আগে সমাজ ও মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল না এবং তাতে ক্ষমতাসীন দলের পা-ারা যুক্ত থাকত না, এমন নয়। কতটুকুই বা প্রচারে আসত। কিন্তু এখন মুহূর্তেই সব হয়ে যাচ্ছে ভাইরাল। লোভ-লালসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতা যখন ক্রমে করালগ্রাসী হচ্ছে, এক দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আরেক দেশের নাক গলানো যখন বাড়ছে, তখন স্বাভাবিক কারণেই অস্থিরতা আর সেই সঙ্গে গুজব সৃষ্টির উপাদান বাড়ছে এবং বিস্তৃত ও গভীর হচ্ছে। গভীরে গিয়ে একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, দেশ-বিদেশ থেকে ঘুঁটি চালিয়ে বর্তমান দিনগুলোতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ প্রদান এবং সব অস্থিরতা এক করার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি এবং নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ২০১৩-১৪ সালে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গুজবকে সর্বব্যাপী করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছিল আর এখন সামাজিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে নানা গুজব রটিয়ে তা রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কলামটা লেখার জন্য যখন ২৯ জুলাইয়ের দৈনিক পত্রিকাগুলো দেখছি, তখন হঠাৎই ইনকিলাব দৈনিকের প্রথম পাতায় বড় অক্ষরের দুই কলামের একটি হেডিং দেখে ঘরপোড়া গরুর মতো বুকটা ধক করে উঠল। হেডিংটি হচ্ছে, ‘দেশের শাসন প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ায় কেউই নিরাপদে নেই’। এ কী কথা! শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে! এমনিতেই নৈরাজ্য, সামাজিক অস্থিরতা আর সেই সঙ্গে সত্য-মিথ্যা প্রচার তথা গুজব নিয়ে দুর্ভাবনা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। এই অবস্থার মধ্যে ওই নিউজের ভেতরে ‘ভয়েস অব আমেরিকা’র মনোগ্রাম লাল-নীল অক্ষরে লেখা দেখে চমকে উঠলাম। ২৭ জুলাই ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘দেশে অন্যায় হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে, কিন্তু দলীয় সম্পৃক্ততার কারণে বিচার হচ্ছে না। শাসন প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।’
প্রসংগত বলতেই হয়, দেশে নিঃসন্দেহে অনেক পর্বতপ্রমাণ সমস্যা রয়েছে। নতুন নতুন সমস্যাও সৃষ্টি হচ্ছে। সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, কোন ক্ষেত্রে কতটা হচ্ছে, যথাযথ কি না, আরও কতটুকু করা সম্ভব প্রভৃতি সব নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে বসে বিদেশি প্রচারমাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলা কতটা বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত? কথাটা যে সত্য নয় এবং জাতীয় স্বার্থে ক্ষতিকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পদ্মাসেতুতে বিশ^ব্যাংকের অর্থ সাহায্য বন্ধ করাটার সময়ও এমনটা করা হয়েছিল। প্রসংগত তথ্য ও উপস্থাপনার ভুলের কারণে দেশের ইমেজ নষ্ট হয়েছে বিধায় প্রিয়া সাহা অবশ্যই নিন্দিত এবং খতিয়ে দেখে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু করলে তার বিচারও হতে পারে। দেশের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়া মানে তো অকার্যকর রাষ্ট্র হওয়া। এটা করাই কি এখন এসব নিরপেক্ষ দাবিদারদের উদ্দেশ্য? জানি না এ-ধরনের ক্ষতিকর বক্তব্য নিয়ে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যে রূপ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, এক্ষেত্রে তা উঠবে কি না? জানি না পুরো বক্তব্য খতিয়ে দেখে তা আইনের আওতায় আনা হবে কি না? তবে দেশে সৃষ্ট অস্থিরতা ও গুজবের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোনো মহল থেকে কোনো ধরনের যড়যন্ত্র-চক্রান্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন অত্যাবশ্যক। ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। অবুঝ প্রাণীর মতো আমরা ভয় পেয়ে বসে না থেকে অতীতের অভিজ্ঞতায় যথাসাধ্য সব কিছু করা আজ সময়ের দাবি।
সময়ের এই দাবি মেটাতে ইতোমধ্যে জানা গেছে, লন্ডনে চিকিৎসারত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে গুজব ও ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘জনসচেতনতা সপ্তাহ’ পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর সভা চলাকালীন তিনি কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মোতাবেক আওয়ামী লীগ ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট তিন দিনব্যাপী জনসচেতনতা অভিযান পরিচালনা করবে। সমাজের সৃষ্ট অস্থিরতা ও মাত্রাতিরিক্ত গুজবের প্রেক্ষাপটে গণসম্পৃক্ততার এ পদক্ষেপ খুবই সময়োপযোগী। কতটা সফল হবে এ কর্মসূচি না-কি লোক দেখানো কর্মসূচি হবে, তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।
ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ নিয়ে বহুল আলোচিত বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে, দলটি সরকারের কর্মকা-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংগঠনিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সুর-লয়-তাল কাটছে। অস্থিরতা বাড়ছে এবং গুজব ছড়ানো হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে বলতেই হয়, আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং যেসব মন্ত্রী-এমপি-জেলা নেতারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। ২০০ জন নেতার তালিকা থেকে ৭০ জনকে এবং ৬০ জন মন্ত্রী-এমপির তালিকা থেকে ৪ জন এমপিকে শোকজ নোটিস পাঠানোর কথা ছিল। জানা যাচ্ছে এ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলেও এ ধরনের শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ নিয়ে শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে পিছিয়ে যেতে হয়েছে।
১৯৭৪ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় দুর্নীতিবাজ মুনাফাখোর মজুদদার ও কালোবাজারিদের গ্রেফতার করার জন্য সুপারিশ সরকারের কাছে করা হয়। ধরা পড়েন জাতীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। গণপ্রতিরোধ দিবসও পালিত হয়। কিন্তু দলীয় প্রতিরোধের মুখে ওই প্রক্রিয়া অগ্রসর করা সম্ভব হয়নি। এসব অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষ এক প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু একদল গঠন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এসব কিছুর পরিণতি কি হয়েছিল তা সবার জানা। কথায় বলে অভিজ্ঞতার চাইতে বড় পথ ও পাথেয় আর কিছু নেই। শোকের মাস আগস্ট সামনে রেখে অতীতের সব অভিজ্ঞতা আমাদের জাতিকে পথ দেখাক, এটাই একান্ত কামনা।

লেখক : রাজনীতিক ও কলামিস্ট

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯