জমে উঠেছে ঈদ বাজার

প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৭, ১৫:২০

অনলাইন ডেস্ক

দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে রমজানের ২ পর্ব। ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউজগুলোও তাই ইতিমধ্যেই নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাকে সাজিয়ে বসেছে তাদের পসরা। তবে ঈদে পোশাকের ঢং টা কেমন হবে, কোন রঙটা লাগল ফ্যাশনের পালে, ঈদ রাঙাতে এ ধরনের চিন্তাভাবনা এখন কম বেশি সবার মধ্যেই। রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সেসব চিন্তা-ভাবনা ও ঈদ বাজারের হালচাল তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ সাগর

ভারী বুননের চেয়ে সালোয়ার-কামিজেই আরাম বেশি
বরাবরের মতো এবারো ঈদে রমণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বাহারি রঙের কামিজগুলো। দেশি এবং বিদেশি ডিজাইনের মিশেলে উন্নত কাপড় এবং উজ্জ্বল রঙের কামিজগুলো নিমেষেই মন কেড়ে নেবে যেকোনো নারীর। পাঞ্জাবি গলা এবং হাইনেকের কামিজের প্রতিও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে অনেকের। হাতা কাটা, লম্বা হাতা এবং কনুই পর্যন্ত হাতা সহ উজ্জ্বল নকশায় সেজেছে এবারের ঈদ পোশাকগুলো।
একটু ঢিলেঢালা আর আরামদায়ক করে তৈরি করা এসব কামিজগুলোকে ফ্যাশনের ধারা বজায় রেখে করা হয়েছে একটু লম্বা। ফ্যাশনপ্রিয় নারীদের পছন্দের তালিকায় বেশ ভালোভাবেই জায়গা দখল করে নিয়েছে সিঙ্গেল কামিজগুলোও। ফ্যাশনের পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিটি ফ্যাশন হাউজে পরিবর্তন আনা হয়েছে কুর্তা ও কামিজের কাটিং প্যাটার্নে। কিছু কামিজের নিচে, হাতার শেষে চওড়া বর্ডারে বসানো হয়েছে সাটিন বা কাতানের পাড়। আর এসবের মাঝে দেখা যাবে ফতুয়ার মতো এবং বুকচেরা কামিজগুলোও।
সালোয়ার-কামিজে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে গলা ও হাতায়। এবার অফ শোল্ডার বা কাঁধ থেকে একটু নামানো সালোয়ার-কামিজও খুঁজছেন অনেকে। হাতায় এবার ঢোলা কাট বা চোস্তের মতো কুঁচি কিংবা বাটন দেওয়া থাকবে। গরমের কারণে আরামের বিষয়টাও থাকছে উপকরণে।
এবারের ট্রেন্ডে ঘের বেশি দেওয়া ফ্রক স্টাইলের কামিজও রয়েছে। আবার সাধারণ ছাঁটের কামিজের চাহিদাও রয়েছে বেশ। হাতার ক্ষেত্রে থ্রি-কোয়ার্টারই চলছে বেশি। তবে যেহেতু গরমকাল, সেহেতু স্লিভলেসও থাকছে। কামিজের ডিজাইনের সঙ্গে মিলিয়ে রয়েছে বাহারি সব সালোয়ার এবং ওড়নাও।
লম্বা কামিজের সাধারণ ঝুলের পাশাপাশি রয়েছে ত্রিকোণ ঝুলও। দুই পাশ দিয়ে একটু  বাড়িয়ে দেওয়া ঝুল আবার সামনে পেছনে অসমান কাটের কামিজ কিনছেন টিনএজাররা।
রোদ-বৃষ্টির সময় বলে এবার ভারী বুননে নয়, আরামে বেশি জোর দিতে দেখা যাচ্ছে ফ্যাশনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবাইকে। কাপড় হিসেবে সুতিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানালেন ডিজাইনাররা। এছাড়া অ্যান্ডি কটন, সিল্ক, হাফসিল্ক, আর কাতানটাও চলছে বেশি। রঙয়েও এসেছে বৈচিত্র্য। লাল, নীল, মেরুন, সবুজ, ফিরোজা, ম্যাজেন্টা, কমলা, গোলাপিসহ নানা উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে কাপড়ে। পোশাকের জৌলুস বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে লেইস, চুমকি, গ্লাস, পুঁতি, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, অ্যাপ্লিক আর কুচি। কামিজের গলায়, বুকে ও হাতায় ভারি কাজ নিয়ে এসেছে আরেকটু নান্দনিকতা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নামের দিক থেকে এবারের ঈদে সালোয়ার-কামিজের মধ্যে বিবেক, বিনয়, গঙ্গা, রাখি, সাইবা, ইস্তা সহ বুটিকসের কিছু কামিজের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। প্রায় সবধরনের কামিজগুলোই রয়েছে সুতি এবং জর্জেট কাপড়ে। তবে আরিকাজের পোশাকগুলোই কটনের মধ্যে স্পেশাল বলছেন বিক্রেতারা। আর এই পোশাকগুলো তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যেই বিক্রি করছেন তারা।

ফ্যাশনেবল গাউনে স্টাইলিশ ঈদ
এদিকে ঈদ বাজার ঘুরে এবং ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদে কামিজের পরিবর্তে গাউনের চাহিদাটাই বেশি। নীলের বিভিন্ন শেড, সাদা, কালো, গোলাপী, বেগুনি রঙের কাপড়ের ওপর ভরাট এবং হালকা কাজ করা গাউনগুলোই বেশি রয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়। বিদেশি ধাচের এই পোশাকগুলোতে বৃষ্টির গুমোট আবহাওয়া কাটাতে এগিয়ে এসেছে উজ্জ্বল রঙগুলো। এছাড়া প্রিন্টের পরিবর্তে হাতের কাজই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে নতুন ডিজাইনের গাউনগুলোতে।
এ লাইন, হেম লাইনে এসে সামনে-পেছনে উঁচু-নিচু ও দুই পাশে ঝুলে গেছে, বডি হাগিং, হাফ বডি স্টাইল, এক ছাঁটের গাউন ইত্যাদি কাট প্রাধান্য পাচ্ছে ক্রেতাদের পছন্দে। কম বয়সিদের কথা মাথায় রেখে লিনেন কাপড়ের ব্যবহারও করা হয়েছে। গরমের কথা চিন্তা করে ছোট হাতা কিংবা হাত কাটা রাখা হয়েছে বেশি। তবে আছে লম্বা হাতাও। শিফন, জর্জেট, নেট, নরম ক্রেপ সিল্ক, লিনেনের তৈরি গাউনগুলোই জমিয়ে রেখেছে এবারের ঈদ বাজার। আর এগুলো পরে বেশ আরামও পাওয়া যাবে গরমের এই সময়টাতে।
মিক্সড প্যাটার্নে ও ট্রপিক্যাল মোটিফে তৈরি শিফনের মেঝে ছোঁয়া গাউনও রয়েছে কিছু ফ্যাশন হাউজে। তবে ক্রেতাদের নজর সবচেয়ে বেশি বাহুবলিতে। গরম এবং বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের ওপর হালকা কাজ এবং সম্পূর্ণ কাজ করা বিভিন্ন কাটের বাহুবলি গাউন পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। রয়েছে আলাদা এবং অ্যাডজাস্ট করা ওড়নাও।
তবে বাহুবলি-টু সিনেমায় নায়িকা কোনো গাউন না পরলেও এই গাউনের নাম কেন বাহুবলি গাউন, তা জিজ্ঞেস করা হলে জানা যায়, ‘পোশাকের এই নামগুলো সাধারণত রাখা হয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য। তবে বিভিন্ন সময়ে এই নামগুলো দেশের বাইরে থেকেই নামকরণ হয়ে আসে।’
নামে যাই হোক না কেন, পাতলা কাপড় দিয়ে তৈরি হালকা ওজনের গাউনগুলো আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের অংশ হলেও এবার তা জায়গা করে নিয়েছে আমাদের দেশিয় কাটছাটে।
এছাড়াও বাজারে আরো রয়েছে ক্যাপ গাউন, ওয়েস্টার্ন গাউন, ওড়না অ্যাডজাস্ট জর্জেট গাউন, ভায়োলেট, লাসা, সোয়াগাত, গ্লামারিয়র, আশীর্বাদ, নাগিন এবং এলটি। তবে এগুলোর মধ্যে বেশি চলছে লাসা এবং ক্যাপ গাউন। আর এর সঙ্গে স্টাইলিশ পালাজ্জো। আর এর সবগুলোই আপনি পাবেন মোটামুটি পাঁচ হাজার থেকে পয়ত্রিশ হাজার টাকার মধ্যে।

উৎসব হোক রঙিন শাড়িতে
‘বাঙালী নারী, আটপৌরে শাড়ি’, এই কথা থেকেই বোঝা যায় যে, শত শত বছর ধরে শাড়িতে মিশে আছে বাঙালীয়ানার ছাপ। আর  তাইতো যে কোন উৎসব পার্বণে বাঙালী নারীর পোশাক মানেই অতুলনীয় শাড়ি। তা হোক ঈদ, পূজা অথবা দেশীয় সংস্কৃতির কোন অনুষ্ঠান।
ঈদের আর খুব বেশি দেরি নেই। পরিবারের সকলের জন্য ইতোমধ্যেই প্রায় সব কেনাকাটা শেষ। তবে বাড়ির যিনি কর্ত্রী, সকলের ভিড়ে তার শাড়িটা কেনা এখনো বাকি। সেজন্যই তো ফ্যাশান হাউজগুলোও তাঁর জন্যে সাজিয়েছে নানান ঢঙের শাড়ির পশরা। আর সকলের থেকে যে তার শাড়িটা একটুু আলাদাই হওয়া চাই।
শুধু কি কর্ত্রী, পরিবারের ছোট্ট মেয়েটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের শাড়ি রয়েছে বয়স্ক সদস্যদের জন্যও। শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দ করে কিনে নিলেই হলো।
শাড়ি মূলত ক্যানভাসের মতো। প্রথমেই কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে, উপলক্ষ বিবেচনায় এনে, ঋতুর কথা চিন্তা করে তবেই না পছন্দ। এরপর তো বয়সের বিষয়টা রয়েছেই। আর এই সবকিছু মিলিয়ে এবার ঈদে জমকালো শাড়ির থেকে হালকা নকশার শাড়ির দিকে বেশি ঝুঁকছেন নারীরা। গরম ও বর্ষার কারণে শাড়ির জমিনে মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে প্রকৃতির ফুল ও লতা-পাতা। আর জামদানি, মসলিন, শিফন, তসরসিল্ক, সিল্ক, হাফ সিল্ক, অ্যান্ডি কটনের শাড়িতে প্রাধান্য পেয়েছে উজ্জ্বল রঙ।
অপরদিকে ঈদের শাড়িতে থাকা চাই আভিজাত্য ও নতুনত্বের ছোঁয়া। সেদিক থেকে মসলিন, বেনারসি, ঢাকাই জামদানি এবং কাতান শাড়িই রয়েছে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দে। কমেছে পাথর, চুমকি, লেস বসানো জাঁকজমক শাড়ির চলটা। ঈদ সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী এই শাড়িগুলোর উপকরণ, রং এবং নকশাতেও যোগ হয়েছে নানান বৈচিত্র্য।
আর ক্রেতাদেরও তো চাহিদার শেষ নেই। কাপড়ে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও ধারার ছোঁয়া থাকতে হবে। পাড় আর আঁচলজুড়ে ভরাট কাজ থাকতে হবে। আবার যাঁর জন্য কেনা, তিনি লম্বা না খাটো ইত্যাদিও শাড়ি কেনার সময় বিবেচনায় থাকে। তবে সব মিলিয়ে নতুন নতুন অসংখ্য পোশাকের ভিড়েও এবারে শাড়ির চাহিদা কমেনি বলেই জানালেন মিরপুর বেনারসি পল্লীর ব্যবসায়ীরা।
ঢাকার মিরপুরের বেনারসি পল্লীর দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শাড়ির রঙে এবার প্রাধান্য পেয়েছে গাঢ় নীল, সবুজ,  মেরুন, গোলাপি ইত্যাদি। কসমস, ফুলকলি, বালুচরি, কাঞ্জিভরমসহ আরও বৈচিত্র্যময় নকশার কাতান এবং বেনারসি শাড়িরও সমাহার রয়েছে এখানে। এসব শাড়ির বুননে থাকছে কলকি, ফুল আর বরফি নকশার জমকালো কাজ। কোনো কোনো শাড়িতে তিন রঙের ব্যবহারে থাকছে মিনার কাজ, চওড়া জরি পাড়ের নকশা।
শাড়ির আঁচল ও কুঁচিতে এবার এসেছে পরিবর্তন। কাতান বা অ্যান্ডি সিল্কের শাড়ির আঁচল বা কুঁচিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মসলিন। ১২ হাত শাড়িতেই আঁচলের নকশাটাকে ছোট রেখে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জমকালো কাজ। যাঁরা সব সময় শাড়ি পরতে অভ্যস্ত নন, তাঁরাও ঈদের দিন স্বচ্ছন্দে পরতে পারেন আঁচল ছোট এমন নকশার শাড়ি।
বৈচিত্র্য থাকছে কুঁচির নকশাতেও। কুঁচিতে ছাপা নকশা তো থাকছেই, এ ছাড়া দুই রঙা শাড়ির পাড়ের ওপর থেকে কুঁচির সামনে দিকের অর্ধেক পর্যন্ত বুনটে থাকছে লতাপাড়ের নকশা। আর এখানে এই শাড়িগুলো আপনি পাবেন চার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
এছাড়াও নিউমার্কেট, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, ধানমন্ডির রাপাপ্লাজা সহ রাজধানীর প্রায় সব জায়গাতেই আপনি পেয়ে যাবেন বিভিন্ন ধরণের নতুন নতুন সব শাড়ি।
এবারের ঈদে নিজেকে ফ্যাশনেবল করে তুলতে এসব ট্রেন্ডি শাড়ি অনেক সাহায্য করবে আপনাকে। তবে শাড়ি যতই ট্রেন্ডি হোক না কেন, এর সঙ্গে ব্লাউজ অবশ্যই স্টাইলিশ হতে হবে। তাই আগে থেকে শাড়ির সঙ্গে স্টাইলিশ ব্লাউজ তৈরি করে নিন। আর রঙিন শাড়িতে উৎসবটিকে করে তুলুন আরেকটু রঙিন।

বাহারি ডিজাইনে ঈদ পাঞ্জাবি
ছেলেদের কাছে ঈদের পোশাক মানেই নতুন ধাঁচের পাঞ্জাবি। বাহারি রঙ, প্রিন্ট অথবা হাতের কাজ করা এক একটি পাঞ্জাবি প্রকাশ করে আলাদা আলাদা স্টাইল। তাইতো ঈদকে সামনে রেখে পছন্দের ঈদ পোশাকটি কিনতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দোকানে ঘোরাঘুরি শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। হাজারো পোশাকের ভিড়ে বেছে নিচ্ছেন নিজের পছন্দের ঈদ পোশাকটি।
মেয়েদের তুলনায় এবারে ছেলেদের পোশাকে তেমন বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব চোখে না পড়লেও একেবারে পিছিয়ে নেই ফ্যাশন হাউজগুলো। দেশীয় ব্র্যান্ডের শো-রুমগুলোতে ইতোমধ্যেই চলে এসেছে ছেলেদের ঈদের বিশেষ পোশাক। তবে অন্যান্য পোশাকের ভিড়ে বেচাকেনার দিক থেকে বিভিন্ন ঢঙের পাঞ্জাবিই রয়েছে সবচেয়ে এগিয়ে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে জুট কটন, কাতান, জয়শ্রী সিল্ক কাপড়ের জমকালো পাঞ্জাবির সংগ্রহ বেশি। দাম ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানালেন, সুতির পাঞ্জাবি আর কাবলি সেটও ভালো চলছে। আর এই পাঞ্জাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহুবালি, সুলতান এবং পিকের মতো বাহারি সব নামও। নামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তথ্য পাওয়া যায়, পাঞ্জাবিগুলো মূলত ভারত থেকে আসে। সেখানেই নামগুলো রাখা হয়। তবে নাম আলাদা হলেও পাঞ্জাবি-চুড়িদারের সেটগুলো দেখতে প্রায় একই রকম। আর এই সবকিছুর মধ্যে সুতি কাপড় এবং ইন্ডিয়ান শেরওয়ানিগুলো বেশি চলছে বলেও জানা যায়।
ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে পাঞ্জাবির ক্রেতাদের কাছে ঈদের কালেকশান ও দাম সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জানা যায়, ‘অন্যান্যবারের তুলনায় এবারে পাঞ্জাবির ডিজাইনে নতুনত্ব এসেছে অনেক বেশি। কাপড়গুলোও বেশ আরামদায়ক করা হয়েছে গরমের বিষয়টা মাথায় রেখে। আর দামের দিক থেকেও রয়েছে মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই।’
বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়সহ রাজধানীর বিভিন্ন পাঞ্জাবির দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এবার মেরুন, সবুজ, নীল, ফিরোজা, ম্যাজেন্টা, কমলা, গোলাপিসহ নানা উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে কাপড়ে। রয়েছে সাদা এবং সাদার বিভিন্ন শেড। পুরু হাতের কাজ অথবা এ্যামব্রডারির মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে পাঞ্জাবির হাতা এবং গলাতে। কিছু পাঞ্জাবিতে আবার কাঁধ থেকে ঝুলের শেষ অবধি রয়েছে হরেক রকম ডিজাইন। রয়েছে লং এবং শর্ট পাঞ্জাবিও। আর এই সবগুলোর মধ্য থেকেই আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দেরটি।
এছাড়া ছোটদের পাঞ্জাবিও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় সব ফ্যাশন হাউজেই। আর পাঞ্জাবির পাশাপাশি আপনার মাপ এবং পছন্দ অনুযায়ি বিভিন্ন রকমের পায়জামা ও সুতি ট্রাউজার সংগ্রহ করে নিতে পারবেন নির্দিষ্ট দোকান থেকেই।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০১৭

  • ১৩ আগস্ট ২০১৭

  • ০৬ আগস্ট ২০১৭

  • ৩০ জুলাই ২০১৭