মধুমাস বড় মধুময়

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৭, ১৪:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাংলা অভিধানে মধুমাস শব্দের অর্থ হলো, চৈত্রমাস। কিন্তু দেশের পত্রপত্রিকায় জ্যৈষ্ঠ মাস নিয়ে কোন কিছু লিখতে গিয়ে লেখা হয় মিষ্টি ফলের রসে ভরা মধুমাস। এভাবেই জ্যৈষ্ঠ মাসের সাথে মধু মাস বিশেষণটি জড়িয়ে গেছে। অভিধানের মধুমাস অভিধানেই আছে।  কিন্তু লোকমুখে এখন জ্যৈষ্ঠই যেন আসল মধু মাস। বাংলা বিচিত্রা’র প্রতিবেদন

মজাদার ফল ও বাহারি ফুলের পসরা নিয়ে হাজির মধুমাস। রসালো ফলের মৌ মৌ গন্ধে উতলা এখন প্রকৃতি। চারদিক এখন পাকা ফলের সৌরভে মাতোয়ারা। মিষ্টি ফলের রসে টইটম্বুর মধুমাস। মধুমাস বলতে জ্যৈষ্ঠ মাসকে বুঝালেও বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাস জুড়ে মধুমাসের আমেজ বিরাজ করে। গাছে গাছে রসালো পাকা কাঁঠালের সুগন্ধ। গাঢ় সবুজ আমের শরীরে সিঁদুরের ছোপ। পেকে ওঠা লিচুর লোভে লিচুগাছ ঘিরে দিনে পাখি আর রাতে বাদুড়ের কোলাহল। পাকা জামের মধুর রসে মুখ রঙিন করার স্বপ্নদোলা। জাম-জামরুল-লিচু, আনারস, করমচা, আতা, তরমুজ, ফুটি, বাঙ্গি, বেল, খেজুর, কাঁচা তাল, জাম্বুরা, কাউফল, গোলাপজাম, কামরাঙা, লটকনসহ হরেক ফলের স্বাদে বাঙালির রসনা তৃপ্তির মৌসুম। বাহারি আর পুষ্টিকর সব ফলের প্রাচুর্য এই মৌসুমকে দিয়েছে মধুমাসের মহিমা। মধুমাস জ্যৈষ্ঠে রস টসটস বর্ণিল রঙের ফলে ছেয়ে গেছে বাজারগুলো। শহর বন্দর, নগর কিংবা গ্রামের হাটবাজারে এখন মিষ্টি ফলেরম ম ঘ্রাণ।
গ্রীষ্মের প্রচ- খরতাপে অতিষ্ঠ তৃষ্ণার্ত বাংলার মানুষের প্রাণ জুড়ায় মধুমাসের রসালো ফল। প্রকৃতির উদার দান এই সুস্বাদু ফলের সম্ভার। এ সময় গাছে গাছে দোল খায় পাকা আম ও লিচু, যা দেখে মন ভরে যায়। শুধু ফল-ফলারি নয়Ñ কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া লাল বর্ণের ফুল ও কনকচূড়া, হলুদচূড়া এবং মাধবীজবা বলে দেয় জ্যৈষ্ঠ এসেছে। ফলের সঙ্গে ফুলের সমারোহে প্রকৃতি সেজে ওঠে এক অন্যরকম সাজে। প্রাণ জুড়াতে বৈশাখেই চলে আসে তরমুজ, বাঙ্গি, বেল, জামরুল, শসা আর কাঁচা আমের শরবত। সারা বছরের মধ্যে এ মাসেই রসালো আম ও লিচুর স্বাদ পাওয়া যায়। ফলের রাজা আমও আসে রাজকীয় হালে। কত নামের বাহারি আম তার শেষ নেই। সব মিলিয়ে সাত-আটশ’ জাতের আম রয়েছে।
জাতীয় ফল কাঁঠাল হলেও ফলের রাজা আম। আমাদের দেশে আম খুবই জনপ্রিয়, সুস্বাদু ও মজাদার ফল। দেশের প্রায় সকল অঞ্চলেই আম পাওয়া যায়। মধু মাস এলেই মনে পড়ে যায় পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের সেই বিখ্যাত ছড়াটিÑ ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা/ ফুল তুলিতে যাই/ ফুলের মালা গলায় দিয়ে/ মামার বাড়ি যাই/ ঝড়ের দিনে মামার দেশে/ আম কুড়াতে সুখ/ পাকা জামের মধুর রসে/ রঙিন করি মুখ।’

সবার দৃষ্টিতে ‘রসালো লিচু’
মধুমাসে রাজধানীর বাজারে উঠেছে রসালো ফল লিচু। লাল টসটসে এই মিষ্টি ফলটি সহজেই দৃষ্টি কারে সবার। কম সময় গাছে ও বাজারে থাকে বলে লিচুকে বলা হয় ‘অতিথি ফল’। সাধারণত বাজারে এক মাসের বেশি লিচু থাকে না। এবার সপ্তাহখানেক আগে রাজধানীর বাজারে উচ্চমূল্য নিয়ে লিচুর  আমদানি হয়। তখন দাম ছিল প্রতি শত ৫ থেকে ৬ শত টাকা। এখন সে দাম কমে সর্বনিম্ন ৩শ টাকায় এসেছে। দিন যতই যাচ্ছে বাজারে লিচুর আমদানি ততই বাড়ছে। সেই সাথে কমছে দাম। ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মাসটাই বাজারে লিচু পাওয়া যাবে। দেশের উত্তরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক লিচু উৎপাদন হচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে এখন ব্যাপক লিচু উৎপাদন হয়। এখানকার লিচু আকারে বড় ও কড়া মিষ্টি। দিনাজপুরের লিচুই এখন দেশসেরা। রাজশাহী অঞ্চলে মূলত বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ি, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে।

ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন লিচুর ফলন ভাল হচ্ছে। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী অঞ্চলে লিচুর বাগান রয়েছে ৩৮৭ হেক্টর জমিতে। গতবার ছিলো ৩৭০ দশমিক ৪ হেক্টর। বাগানের পরিধি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬ হেক্টর। জেলায় লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরু থেকেই মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় বাড়তি সেচের প্রয়োজন পড়েনি। প্রচন্ড খরার কবল থেকে রক্ষা পাওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। ব্যাপক লিচু উৎপাদনের কারণে চাটমোহরের গুনাইগাছায় গ্রামের নাম হয়েছে ‘লিচু গ্রাম’।
জ্যৈষ্ঠ মাস মধুমাস হওয়ায় বাজারে রয়েছে কাঁচা-পাকা আম, তরমুজ, আনারস, কলা, বাঙ্গিসহ আরো কিছু রসালো ফল। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বাহারি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা। বাজারে এখনও দেশী পাকা আম দেখা যায়নি। যা দেখা যাচ্ছে তা ভারতীয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এগুলো ‘হিমসাগর’। তরমুজ বাজারে এসেছে আরও এক মাস আগে। সেই বাংলা নববর্ষে রাজধানীর বাজারে তরমুজ দেখা যায়। এখনও বাজারে তরমুজের আমদানি প্রচুর। বিক্রিও হচ্ছে তেমন। প্রচন্ড গরমের কারণে রসালো ফল তরমুজ সবার কাছেই প্রিয়। এখন দেড়শ টাকার মধ্যে ভালো তরমুজ পাওয়া যায়।

রাজধানীর বাজারে ফলের দোকান গুলোতে মৌসুমি ফলের দাম-দরের চিত্র তুলে ধরা হলো-লিচুর ‘শ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-৪০০ টাকা পর্যন্ত, বরিশালের ‘পেটি জাম’ পাল্লাপ্রতি ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর খাগড়াছড়ি থেকে আসা কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

কারওয়ান বাজার : এই বাজারে প্রতি ১০০টি লিচু ২০০ থেকে ৬০০ টাকা, আমের কেজি ৮০-১৪০ টাকা, প্রতিটি তরমুজ ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কেজিপ্রতি জামরুল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেল ৬০ থেকে ১৩০ টাকা, জাম্বুরা ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর বাজার : এখানে ১০০টি লিচু ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, প্রতিটি আনারস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁঠাল ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, বেল ৬০ থেকে ১৫০ টাকা, আম প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, জামরুল কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালী কাঁচা বাজার : ১০০টি লিচু ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, জাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, প্রতিটি আনারস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতিটি বেল ৬০ থেকে ১৫০ টাকা, জামরুল কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতিটি তরমুজ ৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মহাখালীতে।

বনানী কাঁচা বাজার : এখানে ১০০টি লিচু ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, প্রতিটি বেল ৮০ থেকে ২০০ টাকা, তরমুজ ১০০ থেকে ৪৫০ টাকা, আনারস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, জাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, জামরুল কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, আম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা আম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গুলশান-১ কাঁচা বাজার : সরেজমিন দেখা যায়, জাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ১০০টি লিচু ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, প্রতিটি বেল ১২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, আম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, প্রতিটি কাঁঠাল ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই বাজারে।

গুলিস্তান বাজার : সরেজমিন এ বাজারে দেখা গেল, ১০০টি লিচু ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, জামরুল কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, জাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, আম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মালিবাগ, রামপুরা, শান্তিবাগ, কচুক্ষেত, মোহাম্মাদপুরসহ বিভিন্ন ফলের বাজারেও প্রায় একই অবস্থা দেখা গেছে। আর দেশি ফল পেয়ারা, কলা, পেঁপেসহ আরো নানা ফল বিক্রি হচ্ছে বাজারগুলোতে। আমের মধ্য সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রাধান্য বেশি।

মধুমাসের ফল দেশ ছাড়িয়ে ইউরোপে
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশে গত বছর ৩০ টন আম রফতানি করা হয়েছিল রাজশাহী থেকে। এবারও সেসব দেশে যাচ্ছে রাজশাহীর আম। তবে পরিমাণটা তিনগুণেরও বেশি, প্রায় ১০০ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র থেকে এমনটা জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করা রাজশাহীর বিষমুক্ত আমের  চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, গত বছর ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করা রাজশাহীর ৩০ টন আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছে। এবার ১০০ টন রফতানি যোগ্য করতে ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কলিগ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ছানা। এবার প্রায় তিনশ’ বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছেন। এরমধ্যে উৎপাদিত আমের দু’শ টন পাঠাতে চান বিদেশে। এ জন্য মৌসুমের শুরু থেকে নিয়েছেন প্রস্তুতি। বাজার ধরার তাড়া। তাই শেষ মুহূর্তে যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই। সারা দিন বাগান ঘুরে ঘুরে তদারকি করছেন। কখন কী ধরনের পরিচর্যা লাগবে তাও করছেন। কারণ, আমে পোকা তো দূরের কথা, কোনো ধরনের সামান্য দাগ থাকলে তা আর চলবে না।
এ জন্য রফতানির শর্ত অক্ষরে অক্ষরেই পালনের চেষ্টায় খুবই যতেœ বড় করছেন আম। শফিকুল জানান, এবার কমপক্ষে দু’শ টন আম বিদেশে রফতানির প্রস্তুতি চলছে। সপ্তাহ খানেক পরই বাগান থেকে আম পাড়া হবে। এরপর সেই আম রফতানিকারকদের মাধ্যমে চলে যাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। চীনের প্রযুক্তিতে তৈরি ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আমে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার হয়নি। নির্ভেজাল আমের বাজার ধরতে পেরে তিনি বেশ খুশি। গত বছরও শফিকুল ইসলাম বিদেশে আম পাঠিয়েছিলেন। তবে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য তিনি কৃষি বিভাগ ও হটেক্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন ও হটেক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট এসব আম কিনে নিয়ে বিদেশে বাজারজাত করে থাকে। শফিকুলের মতো অনেক চাষীরই ভাগ্য ফিরেছে আম বিদেশে পাঠিয়ে। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার অন্তত দেড়শ’ চাষী উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন করছেন। এরই মধ্যে এসব চাষীকে নিয়ে গড়ে উঠেছে সমিতিও।
চাষীদের সংগঠন রাজশাহী এগ্রোফুড প্রডিউসার সোসাইটির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত বছর তিনি বিদেশে আম পাঠিয়েছিলেন। এবারও পুরো প্রস্তুতি রয়েছে। এ জন্য তিনি নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় বাগান লিজ নিয়ে পরিকল্পিতভাবেই আম উৎপাদন করছেন। এ বছর প্রচুর মুকুল ধরেছিল। আমের গুটিও ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু কয়েক দফা কালবৈশাখীতে বেশকিছু আম ঝরে গেছে। তবু যে পরিমাণ আম রয়েছে তাতে বেশ আশাবাদী তিনি। এবার অন্তত ২৫ টন আম তিনি রফতানির আশা করছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, বাঘা থেকে ৩০ জন চাষীকে ঢাকায় পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের পোকার আক্রমণ ঠেকাতে স্যাক্স ফেরমোন ফাঁদ রাখা হয়েছে গাছে। পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত এই ফ্রুট ব্যাগিং করা ছাড়াও আম দূষণমুক্ত রাখতে বাগানের মাটি এবং সেচের পানিও পরীক্ষা করা হয়। ‘হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট’ পদ্ধতিতে শোধন করে হাতে গ্লাভস পরে এসব আম প্যাকিং করা হয়। যাতে কোনো ধরনেরই দাগ না পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তার যৌথ সনদে এসব আম পাঠানো হবে।
ইউরোপের দেশগুলোতে রাজশাহীর আমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম পাঠানোর কথা বাঘা থেকেই। কারণ, বাঘার আম বেশি সুস্বাদু। বাগানও বেশি। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, কৃষি বিভাগ ও ফল গবেষণাগার পুরো মৌসুম ধরেই কঠোর মনিটরিং করে থাকে। যাতে আম রোগ বা পোকামাকড়ে আক্রান্ত না হয়। এসব আমের গুটি ছোট থাকা অবস্থায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। তবে পাকার এক মাস আগ থেকে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ রেখে ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম সুরক্ষিত করা হয়। এতে আমে কোনো পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারেনি। বর্তমানে খিরসাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া, আ¤্রপালি, মল্লিকা ও ফজলি বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে আমের দাম এখনও নির্ধারণ হয়নি। ড়

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯