শহিদ কবি মেহেরুন্নেসা : সূর্যজ্যোতির পাখি

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:২২

অনলাইন ডেস্ক

পিয়াস মজিদ :

    প্রথম শহীদ বাংলাদেশের মেয়ে
    দুটি ভাই আর মায়ের তপ্ত বক্ষ রক্তে নেয়ে
    দেশের মাটির ’পরে
    গান গাওয়া পাখি, নীড় হারা হয়ে
    লুটালি প্রবল ঝড়ে।
    ঝড় থেমে গেছে বাংলাদেশের কেটেছে অন্ধকার।
    সোনা ঝরা এই রোদের আলোকে তুই ফিরিবিনা আর।
    (‘মেহেরুন্নেসা’; সুফিয়া কামাল)

মেহেরুন্নেসা তার মাত্র বছর-ঊনত্রিশের জীবনেই তাকে নিয়ে বিস্তৃত লেখার পরিসর তৈরি করে দিয়ে গেছেন; কবি হিসেবে, একজন স্বাধীনচেতা নারী হিসেবে, সর্বোপরি দেশপ্রেমিক একজন মানুষ হিসেবে। জন্ম ১৯৪২-এ, পশ্চিমবঙ্গের খিদিরপুরে। মা নূরননেসা ও বাবা আবদুর রাজ্জাক। চার সন্তানের এই পরিবারের কনিষ্ঠা কন্যা মেহেরুন। বড় বোন মোমেনা খাতুন, ছোট দুই ভাই রফিকুল ইসলাম বাবলু ও শহিদুল ইসলাম টুটুল। শৈশব কেটেছে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে। ছোটবেলা থেকেই যেন বহিঃপৃথিবীর প্রতি আগ্রহ প্রবল ছিল তার। তাই বাবার সঙ্গে ছোট্ট মেয়েটি কয়লার দোকানে বসতেন। হয়তো উত্তরকালে কয়লাখনির মানুষদের নিয়ে কবিতা লেখার বীজ বপন হয়েছিল এই সময়েই-

    কয়লা খনির গভীরে দেখেছি জ্বলতে
    জ্বালানীবিহীন মহাজীবনের সলতে
    তবুও কখনো ওদের শুনিনি বলতে
    আমরাও জানি জীবন নাট্য ঘরে
    বাঁচার খেলা খেলতে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে দাঙ্গায় উদ্বাস্তু হয়ে মেহেরুনদের পরিবার ১৯৫০ সালে ঢাকা চলে আসেন। বেগম রোকেয়ার বোন যেমন করিমুন্নেসা, মেহেরুন্নেসার বোনও তেমনি মোমেনা খাতুন। স্বভাব-ছড়াকার, কবি মেহেরুননেসা বোনের সাহচর্যে বই পড়তেন, মুখস্থ রাখতেন অসংখ্য ছড়া ও কবিতা। বর্ণপরিচয়, আদর্শলিপি, মাইকেল, রবীন্দ্রনাথের সহজপাঠ, সঞ্চয়িতা, সুকান্ত, নজরুলের সঞ্চিতা, জসীমউদ্দীনের কবিতাÑ এসব ছিল মেহেরুন্নেসা রানুর প্রিয় পাঠ্যতালিকায়।
খেলাধুলাতে ছিলেন নিমগ্ন ভীষণ। সুর তুলতেন গানে, বিশেষ পারদর্শী ছিলেন হাতের কাজে।
পুরনো ঢাকার নানায় এলাকায় বাস করে ১৯৬৫-তে তাদের পরিবার থিতু হন মিরপুরে। ‘চাষী’ শিরোনামে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় হাবীবুর রহমান সম্পাদিত খেলাঘর-এর পাতায় (১৯৫৩/৫৪)। ১৯৫৪-তে বেগম পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতায় আমরা উচ্চারিত হতে দেখি অন্য এক মেহেরুন্নেসাকে-

    তোমার ছন্দ বাণীতে জ্বলুক শত দুঃখের চিতা
    জীবন সারথী তোমারে পেয়েছি ব্যথিত মনের মিতা।

কবিজীবনের ঊষাকালেই কবিতাকে নিজস্ব গহন দুঃখের মিতা মেনে নিয়েছেন কবি; ভবিষ্যতে যে কবিতা ব্যক্তিগত আর্তির বলয় ভেদ করে বৃহৎ মানুষের আর্তনাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। এ কথা স্বীকার করতে হয় ধর্মীয় চেতনায় কিছুটা আচ্ছন্ন ছিল তার প্রাথমিক কবিতাজগত, যদিও যুগের দাবিতে তা গিয়ে মেশে সামাজিক অঙ্গীকারের দাউ দাউ মশালে। সমষ্টিমানুষের কথায় মুখর হয়ে উঠে ব্যক্তি কবিমানুষের নির্জন কলম। ১৯৫৪-তে ‘রাজবন্দী’ শিরোনামের কবিতায় ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’-এর মতো বক্তব্যের জেরে গোয়েন্দাদের নজরে পড়েন। এ সময় থেকেই তার কবিতা প্রকাশিত হতে শুরু করে ইত্তেফাক, দৈনিক পাকিস্তান, মাসিক মোহাম্মদী, কৃষিকথা, ললনাসহ মূলধারার পত্র-পত্রিকায়। বিস্ময়ের বিষয় এই যে, যখন রবীন্দ্রনাথ মূঢ় পাকিস্তানি নিষেধাজ্ঞার স্বীকার তখন মেহেরুন্নেসা রবীন্দ্রনাথকে আপন করে নিচ্ছেন বাংলার মানুষের গণবিষাদের অনুষঙ্গে-

    শুনবেনা তুমি আমার গীতাঞ্জলী? আমার গীতবিতান?
    শুনবেনা তুমি? বলনা রবি ঠাকুর?
    জলোচ্ছ্বাস আর করাল ঘূর্ণিঝড়
    এই তো আমার সঞ্চয়িতার ভরে আছে অম্বর।

রবীন্দ্রনাথের মতো তার চেতনায় অধিষ্ঠান ছিল বিদ্রোহের বুলবুল নজরুলেরও-

    শোন নজরুল! তেরোশত এই নতুন চুয়াত্তরে
    উঠে এসো তুমি, ক্ষুব্ধ বঙ্গ আকাশে ভয়াল-
    করাল মূর্তি ধরে।
    যত কান্নাকে যত বেদনাকে যত হাহাকার ঠেলে
    এসো ধূমকেতু রুদ্র মাতম, অগ্নিকেতন মেলে।

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি প্রবল ভালোবাসার বোধেই বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখে তার কবিমন হয়ে উঠেছে ব্যথাতুর; তেমনি ’৬৯, ’৭০ এবং ’৭১-এর স্বাধীনতামুখিন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তাকে দারুণ আলোড়িত করেছে। মকবুলা মনজুর জানাচ্ছেন-

“মেহেরুন্নেসা ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে, সত্তরের মিছিলে, একাত্তরের অসহযোগে আগুনের শিখা হয়ে জ্বলেছে। ঊনসত্তরের ফেব্র“য়ারিতে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে মেহেরুন্নেসা পড়েছিল তার সেই অবিনাশী কবিতা- ‘প্রভু নয় বন্ধু কে’। প্রশ্নের শাণিত তরবারি হয়ে সেদিন তার কবিতা আয়ুবশাহীর নিরেট ভিত্তিকে চিরে চিরে দেখতে চেয়েছিল। শুধু এই কবিতাটিই নয়, আরও অনেক কবিতা মেহেরুন্নেসা ছড়িয়ে দিয়েছিল আগুনের ফুলকির মতো।”
(দৈনিক বাংলা, জুন ১৯৭২)

মূলত ১৯৬৬-তে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬-দফাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া গণ-আন্দোলনের আভা তার কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৯৬৭ থেকে তিনি একুশে ফেব্র“য়ারির ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে বেশ কিছু কবিতা রচনা করেন। ভাষাশহিদ স্মরণে তার উচ্চারণ ছিল এমনই অভীক এবং সমকালীন সংগ্রামের ইঙ্গিতে দীপ্রÑ

    শহীদ ভাইরা! স্বর্গ শিখর হোতে
    চোখ মেলে দ্যাখো আজ বাংলার
    পীচমোড় কালো পথে
    তোমাদের যতো উত্তরসুরী বুলেটের মুখে হাসে।
    ...
    আজ ফাল্গুনী স্মৃতির তীর্থে নতুন কুচকাওয়াজ
    মাটির আকাশে লক্ষ সূর্য আগুন জ্বেলেছে আজ।

মেহেরুন্নেসা অনুলেখক হিসেবে কাজ করেছেন বাংলা একাডেমি ও ইউসিস লাইব্রেরিতে, পত্রিকার অফিসে করেছেন প্র“ফ সংশোধনের কাজ, ‘রানু আপা’ ছদ্মনামে লিখেছেন ফিচার, বাবার উপার্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় যুক্ত হয়েছেন ফিলিপস্ ওয়ার্কশপ নামে বিদেশি রেডিও তৈরির কারখানায়। এতসব সামলে বাংলা একাডেমিতে, লেখক সংঘ ও বেগম অফিসসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন সাহিত্যসভায়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসরে ছিল তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। চাকরি জীবনেও সংগ্রাম করেছেন মাতৃভাষার মর্যাদার জন্য। ফিলিপস্ কোম্পানি থেকে ইংরেজি ও উর্দু ম্যাগাজিন ছাপা হতো। মেহেরুন্নেসা সে কোম্পানির চাকরিতে যোগ দিয়ে ব্যক্তিগত চেষ্টায় ম্যাগাজিনের বাংলা বিভাগ চালু করেন।
অবাঙালি-অধ্যুষিত মিরপুর এলাকায় নিজেদের স্বাধীনসত্তা নিয়ে বেঁচে থাকার চিন্তা থেকে ১৯৬৯-এ মিরপুর এলাকায় বাঙালিদের উদ্যোগে গঠিত হয় ‘অ্যাকশন কমিটি’। মহান মুক্তিযুদ্ধ ক্রমশ জোরদার থাকলে অ্যাকশন কমিটির কার্যক্রমের ধরনেও আসে আমূল পরিবর্তন। যে কমিটি একসময় সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে, উত্তাল মুক্তিযুদ্ধের তরঙ্গে সে অ্যাকশন কমিটিও একাত্ম হলো জনতার সমুদ্রে। অন্যান্য অনেক মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে এই কমিটির সভায়, মিছিলে মেহেরুন্নেসাও ছিলেন অগ্রভাগে। অপর দিকে পাক-হানাদারদের দোসর মিরপুরের অবাঙালি বিহারি সম্প্রদায়ের কুচক্রিরা বাঙালিবিরোধী ঘৃণ্য নানা অপতৎপরতা চালিয়েছে, অমর একুশে ফেব্র“য়ারি উদযাপনে বাধা দিয়েছে আর শকুনের মতো খোঁজ রেখেছে কে কোথায় স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে তরান্বিত করতে কাজ করছে। তারা ঠিকই জেনেছে মেহেরুন্নেসাসহ মিরপুরের অ্যাকশন কমিটির বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জনসভায় অংশ নিয়েছেন, শপথ নিয়েছেন মুক্তি ও স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে। এরই মধ্যে ২৩শে মার্চ ১৯৭১ বেগম পত্রিকায় মেহেরুন্নেসা লিখলেন তার শেষ কবিতা ‘জনতা জেগেছে’-

    গণতন্ত্রের দীপ্ত শপথ কণ্ঠে কণ্ঠে সাধা
    আমরা ভেঙেছি জয় বাংলার যতো বিজয়ের বাঁধা।
    ...
    আনো দেখি আনো সাতকোটি এই দাবীর মৃত্যু তুমি,
    চির বিজয়ের অটল শপথ ‘জয় এ বাঙলা ভূমি’।


বাঙালির মুক্তির দৃপ্ত উচ্চারণে লেখা এই কবিতা কবি মেহেরুন্নেসা দাঁড় করিয়ে দেয় বাঙালিবিরোধী অপশক্তির মুখোমুখি। (হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র : দ্বিতীয় খণ্ড (নভেম্বর ১৯৮২) থেকে জানা যাচ্ছে একাত্তরের এই ২৩শে মার্চই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লেখক সংগ্রাম শিবির আয়োজিত বিপ্লবী কবিতা পাঠের আসরে হাসান হাফিজুর রহমান, আহসান হাবীব, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আলাউদ্দিন আল আজাদ, হুমায়ূন কবিরসহ অন্যান্য কবিদের সঙ্গে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন মেহেরুন্নেসা। কবিতা পাঠের এ আসরে সভাপতিত্ব করেছিলেন ড. আহমদ শরীফ।)
২৩ মার্চ ১৯৭১ মেহেরুন্নেসা এবং তার দুই ভাই মিরপুর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য রফিক ও টুটুল ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিরপুরে নিজ বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন, যা স্থানীয় বাঙালিবিরোধী শক্তির আক্রোশের কারণ হয়। ২৫ মার্চ ইতিহাসের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ মিরপুরসহ গোটা ঢাকার বুকে চলেছে পরপর আরও কয়েক দিন।
অতঃপর ২৭ মার্চ ১৯৭১। মেহেরুন্নেসার বন্ধু কবি কাজী রোজী রচিত জীবনীগ্রন্থে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ১২ নম্বর রোডের ৮ নম্বরে মেহেরুন্নেসাদের বাড়ি আক্রমণ এবং তার শাহাদাতবরণের যে তথ্য ওঠে এসেছে এভাবে-

“২৭শে মার্চ মেহেরদের বাড়িতে অবাঙালিরা অতর্কিতে আক্রমণ করে। মেহেরের দুই ভাই রফিক এবং টুটুলকে প্রথমেই মেরে ফেলার উদ্যোগ নেয়। মা বাধা দিতে গেলে ধাক্কা মেরে দূরে ফেলে দেয়। মেহের বুকে কোরান শরীফ চেপে বলে- ‘আমরা তো মুসলমান আমাদের মারবে কেন? ...আর যদি মারতেই হয় আমাকে মার। ওদের কোনো দোষ নেই। ওদের ছেড়ে দাও।’
ওই নিষ্ঠুর পাষণ্ডদের মন তাতে গলে নি। শহীদ হলেন রফিক এবং টুটুল। ধড় থেকে ওদের মুণ্ডু আলাদা করে ফেলল ওরা। শহীদ দুই ভাই ধড়ফড় করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। ওদের এভাবে মরতে দেখে মা জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন। এজিদেরা মাকেও কেটে ফেলল। শহীদ হলেন মা। এরপর ওরা মেহেরের উপর আক্রমণ চালালো। বাঁচতে পারলেন না মেহের। মাথাটা দেহ থেকে আলাদা করে লম্বা চুলের বেণী দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখলো। পৈশাচিক নৃত্য করতে থাকলোÑ উল্লাস করতে থাকলো। ওদের সেই তাণ্ডব নৃত্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শী একজন প্রতিবেশী (অবাঙালি) পরে জানিয়েছেন, জীবনে এরকম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ তিনি কখনো দেখেন নি।”
(শহীদ কবি মেহেরুন্নেসা, কাজী রোজী, বাংলা একাডেমি, ঢাকা ২০১১)

মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে যুগপৎ গণহত্যা ও প্রতিরোধের মার্চ পৌঁছে যায় বিজয়ী ডিসেম্বরে। যে স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত পতাকায় আরও অনেক শহিদের মতো লেগে আছে ঊনত্রিশ বছরের তরুণী কবি মেহেরুন্নেসার রক্তের লাল সেই বাংলাদেশে একাত্তরের ঘাতক দালাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মানে কবিতার অব্যর্থ অক্ষর-অস্ত্রে আগুয়ান এক শহিদ নারী মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ। মেহেরুন্নেসাকে স্মরণ মানে একই সঙ্গে স্মরণ সেই দায়বদ্ধ অদম্য তারুণ্যকে যে তার প্রিয় জীবনের প্রথম তিরিশ পেরোনোর আগেই স্বদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নে একাকার করে দিতে পারে তার সমূহ ব্যক্তিগত স্বপ্নসাধ। শতাধিক কবিতার রচয়িতা মেহেরুন্নেসা লিখেছেন কিছু মিষ্টি গানও। একটি গানের বাণীর শেষাংশে দৃষ্টি দিলে মনে হবে যেন নিজের আসন্ন আগামী অন্তর্গত ভাবনায় ছিল তাঁর-
    দু’কূলে আমার রচে ইতিহাস
    আমি বয়ে যাব প্রিয়
    আগামী অতীতে আমার কাহিনী
    হয়ে রবে স্মরণীয়

কবি মেহেরুন্নেসার স্বপ্ন ছিল তার কবিতার বইয়ের নাম হবে ‘সূর্যজ্যোতির পাখি’। মৃত্যুর প্রগাঢ় অন্ধকার বই প্রকাশের সুযোগ তাকে দেয় নি কিন্তু শহিদ মেহেরুন্নেসার কবি-আত্মার নিশ্চয়ই কোনো খেদ নেই তাতে, কারণ তার পবিত্র তরুণ রক্তে ভেজা স্বাধীন বাংলাদেশই তো এক শাশ্বত সূর্যজ্যোতির পাখি হয়ে গান গেয়ে চলে নিরন্তর।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯

  • ৩ অক্টোবর ২০১৯

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯