ঘুমঘর

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৪০

শৌফিক বাবু

 

বর্ষা মোজাম্মেল সাহেবের পরিবারের একমাত্র মেয়ে। তার বাবা মোজাম্মেল অত্যন্ত মজার একজন মানুষ। যে কি না মজা করতে করতে জীবনে অনেক কিছু করেছেন। ব্যবসায় লাভের পাল্লা ভারী করেছেন, অপরূপা সুন্দরী ক্লাসমেট বিপাশাকে বিয়ে করেছেন। বর্ষার মা বিপাশা সব সময় এক ধরনের আমোদ-ফুর্তির এক মহাব্যস্ততায় থাকেন। তার ভালোলাগা নিবদ্ধ রান্নাবান্নায় এবং সাজগোজে। বর্ষার মা কিছুটা কুসংস্কারমনা। সে বলে তার বাবার নাম এম আছে, তাই সে সবকিছুতেই সাফল্যের মুখ দেখে। আর একটা-দুইটা না, তার নামের মধ্যে আছে তিনটা গ। বর্ষার মা প্রতি শুক্রবার খিচুড়ি রান্না করে গরিবদের বাসায় ডেকে এনে খাওয়ায় এবং তারাও খায়। তার এই খিচুড়ি এত মজা হয় যে, সবাই এক মতে বলতে স্বর্গে গিয়েও তারা একই খিচুড়ি খেতে চায়। প্রতিদিন পাড়ার কেউ না কেউ এসে জিঞ্জেসা করবে। এই খিচুড়ি রান্নার পদ্ধতি-কৌশল কি? তার মা হেসে হেসে উত্তর দেবে, ভারতীয় এক গোষ্ঠী ছিল যারা রন্ধনশিল্প খুব ভালো জানত। আমার পূর্ব পুরুষ সেই বংশীয়।
বর্ষা আজ অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছে। এখন ঘড়িতে বাজছে ১০:৩০। সে সচরাচর ওঠে ৬:৩০। তার মানে সে চার ঘণ্টা বেশি ঘুমিয়েছে। চকচকে রৌদ্র এসে তার সাদা বিছানার বেড়ে পড়েছে। এত সুন্দর এই রৌদ্রের ঝলকানি চেয়ে চেয়ে দেখে এক জনম পার করে দেওয়া যায়।
কম্পিউটারে একটানা রবীন্দ্রসংগীত বাজছে। তার কম্পিউটারে অটোমেটিকভাবে ৮টা থেকে গান শুরু হয়। গানগুলো র‌্যানডমলি একটার পরে আরেকটা বাজতে থাকে। এখন সে বিছানা থেকে নামবে না। সে জানে, সে নামার আগ পর্যন্ত আব্বু মুখে কিছু দেবেন না। রেজোওয়ানা চৌধুরীর কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত খুব মানিয়ে যাচ্ছে।
শীতের হাওয়ায় হাওয়ায় লাগলো কাঁপন
আমলকীরই ডালে ডালে

বর্ষা গান করে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়। বর্ষার চোখের আইরিশের রং নীলচে। তাই সে গাঢ় নীল রঙের একটা ফ্রক পরে। সে সাদা রঙের একটি সাইড ব্যাগ ও জুতা পরে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। তার হঠাৎ মনে হয়। আয়নার প্রতিবিম্বের সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। প্রতিবিম্বর একজন নীল হিমপরি দেখতে যাচ্ছে। তার দিকে তাকালে গা হিম হয়ে যায় তাই হিমপরি। সে নাস্তার টেবিলে এসে লজ্জিত হয়। সবাই তার জন্য নাস্তা সামনে রেখে বসে আছে। তার আব্বু ও আম্মু এবং কাজের মেয়ে দুজনের দৃষ্টিতে অপরিচিতের দিকে তাকানোর দৃষ্টি। তার বাবা বললেন, “ঝঁৎবষু ঃযরং রং সু ঢ়ৎরহপবংং ঃযধঃ ও শহব!ি”
বর্ষার খুব লজ্জা লাগছিল, সবাই নাস্তা খেতে শুরু করল। বর্ষার মনে কিছু ডায়ালগের ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
তাই সে নাস্তার স্বাদ আস্বাদন করতে পারছে না। কারণ আজ তার প্ল্যান বাদল ভাইয়ের অফিসে যাবে। বাদল ভাই তার আম্মুর বন্ধু। অতঃপর তার আব্বু-আম¥ ও বাদল ভাই একই সূত্রে গাঁথা হয়ে যায় সময়ের আবহে যেমন কেউ যদি স্বপ্নে দেখে ওর আব্বু ও আম্মুকে, তার মানে ওই স্বপ্নে বাদল আংকেলও থাকবে। বর্ষা জানতে পারে তার আম্মুর সাথে আব্বুর বিয়ে না হলে, বাদল ভাইয়ের সাথে বিয়ে হতো। হলো সে অস্বাভাবিক সুন্দরী। তার বাবা বলে, তুমি কি জানো তোমার দিকে কোনো ছেলে এক মিনিট তাকিয়ে থাকতে পারবে না। এতক্ষণ তাকিয়ে থাকলে ওই ছেলে তোমার রূপের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যারে। বিপাশা জুসের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বললেন, তোমার তো আজ স্কুল বন্ধ, তাই কি? বর্ষা বলল, হ্যাঁ, তবে আজ আমি বাদল আংকেলের আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে যাব, আজ আমার ঠা-া ঠা-া ইনভাইটেশন ফরম মি. বাদল। ও! ওই ইমপারশিয়াল পারসোনালিটি বাদল। তুমি জানো ওর স্ত্রী বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় মারা যায়। তবুও সে বিয়ে করেনি। তাহলে বুঝে দেখো! এবং কেউ ওর শত্রু নেই এই পৃথিবীতে। আমরা ওকে ভার্সিটিতে বলতাম এ ম্যান উইদাউট এনিমি। বর্ষা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার স্কুলের প্রতিটা অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রী তাকে চেনে। কারণটা বর্ষা ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে। আজ সে প্ল্যান করেছে যতজন পারে ফুটপাথের ওপর গাছের ঝিরিঝিরি ছায়া পড়েছে। বর্ষা বুঝতে পারছে আজ তাকে অনেক সুন্দর লাগছে। রাস্তার সবাই তার দিকে তাকাচ্ছে। পরির মতো রূপসি মেয়ের তার মায়ের বন্ধুকে ভালোলাগার কোনো কারণ নেই। কিন্তু একদিনের ঘটনার জন্য। বাদল আংকেল কেন যেন তার ভালো লাগে। সেদিন বৃহস্পতিবার। স্কুল হাফটাইম পর ছুটি হয়ে যায়। বর্ষা দাঁড়িয়েছিল পুরনো বট গাছটার নিচে। বটগাছটা তার সবটুকু ছায়া দিয়ে পুরো রাস্তাটাকে মায়ার আবেশে ঢেকে রেখেছে। এমন সময় বাদল আংকেল তার একটা মারুতি গাড়ি নিজে ড্রাইভ করে আসছিলেন।
সে একটা হালকা ব্লু রঙের হাওয়াই শার্ট পরিহিত। বর্ষাকে দেখে সে মিষ্টি করে হাসলেন। বর্ষার মনে হলো এই লোকটা তার খুব কাছের, খুব চেনা। ভবিষ্যৎতের যে বাঁধে আমরা সবাই বাঁধা, সেখানে থেকে বর্ষা তাকে উপলব্ধি করে। সব কথা শুনে বাদল বর্ষাকে তার গাড়িতে উঠতে বলে। বর্ষা তার পাশের সিটে বসে। বাদল বলে, আমার স্ত্রী, তুমি যে চেয়ারটায় বসে আছো সেখানে বসতো। বাদল এমনভাবে কথা বলছে কোনো-না-কোনো বা স্তরে তারা দুজনই সমান- গাড়িটা শাহবাগের মোড়ে থামিয়ে বাদল বর্ষাকে বলে, আমি তোমাকে দেখেই বুঝতে পারছি তুমি কিছু খাওনি। এবং ইউ আর ফিলিং হাংগ্রি। ওং রঃ ঃৎঁব. বর্ষা হাঁ সূচক মাথা নাড়ল। বাদল হঠাৎ বিমর্ষ হয়ে গিয়ে বলল, ‘জানো মৈত্রী আমার ঘ্রাণ মেন্স করতে পারত। আমি আসার দু মিনিট আগে ও আমরা ঘ্রাণ পেত। আর বর্ষার মতো কিশোরী মেয়েটা অবাক হয়ে খেয়াল করল লোকটা তার সমপর্যায়ে উন্নীত হয়ে তার সাথে মিশছে। সেদিন বাসায় ফিরে বর্ষা আর ভালোমতো ঘুমাতে পারে না। আগে পরে ভেতরে শুধু ছিল সেই নিজে। আজ তার মনে আরেক অস্তিত্বের অঙ্কুরণ সে টের পায়। সে তার ভেতরে দেখতে পায় প্রগাঢ় বাদল। বর্ষা সারাক্ষণ ভাবে বাদলের ভেতরে বাদল বর্ষাকে দেখতে পায় কি না? বর্ষা রিকশা নিয়ে খুব দ্রুত বাদলের অফিসের দিকে যাচ্ছে। রিকশা যত অফিসের কাছে এগোচ্ছে তার বুকের ভেতরে কে যেন ক্রমান্বয়ে জোরে জোরে হাতুডি পেটাতে থাকে। বর্ষা কোনো কিছু সাজিয়ে রাখতে পারছে না। সে প্রকৃতির কাছে সব সঁপে দিয়েছে। যেমনটি হওয়ার ছিল তেমনটাই হবে। বাদলের রুমে ঢোকার আগে একজন অসম্ভব রূপবতী মেয়ে তাকে আটকায়। মেয়েটিকে দেখেই বর্ষার কেন যেন খুব রাগ হতে থাকে। তার মনে হয় মেয়েটার এত রূপ থাকা উচিত হয়নি। আরেকটু কম রূপ দিয়ে পাঠানো উচিত ছিল। তবে বাদল আংকেল প্রায়ই বলে, পৃথিবীতে দুটো জিনিস খুব বেশি। একটা হয় মজার মজার খাবার এবং অপরটি হলো সুন্দরী মেয়ে। আর এজনই পৃথিবীতে মৃত্যু এত ভয়াবহ এবং অকাম্য। মেয়েটা খুব গুছানো বাংলায় বলল, ‘আপনি কাকে চাচ্ছেন এবং কার কাছে যাবেন, জানতে পারি?’
আমি মি. বাদলের সাথে দেখা করব, আপনি একটু অপেক্ষা করুন, উনি ডাকলে আপনি যাবেন। সাথে সাথে বর্ষার ডাক এলো। বর্ষার রুমে ঢুকেই মনে হলো এখানেই তার স্বর্গমুখ। রুমটা সিম্পলভাবে সাজানো, এসি চলছে আর ক্রিমানথিলাম ফুলে স্প্রে করা।
বর্ষাকে ঢুকতে দেখেই বাদল বলল, প্রিন্সেস অব দ্য হেভেন, সো সারপ্রাইজড ইউ আর অন আর্থ। হ্যাঁ, আপনার আইসক্রিমের দাওয়াতটা ফেলতে পারলাম না। কারণ আমার আইসক্রিম অনেক পছন্দ।
ওকে তোমাকে ডিলিশিয়াস জ্যাস্ট ডেলিভারড আইসক্রিম খাওয়ানো হবে। তার আগে তুমি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দাও। তুমি কি জানো তোমার আমার মধ্যে একটা মিল আছে? বর্ষা হাজার চেষ্টা করেও কোনো মিল খুঁজে পেল না। তাছাড়াও সে মনে মনে প্রচ- নার্ভাস।
আমি খুঁজে পাচ্ছি না।
দেখো তোমার নাম বর্ষা আর আমার নাম বদল। এটা কি একটা মিল না?
আর আমার নাম ব দিয়ে শুরু এবং তোমার নামও ব দিয়ে শুরু। তোমাকে আমি একটা ফিলোসফি বলব। আমার নাম বাদল। মানে এর মূল উপাদান অবশ্যই পানি। আর আমার একটা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি আছে ও তার মূল উপাদানও পানি। একইভাবে তোমার নামও বর্ষা আর তুমিও আইসক্রিম খুব লাইক করে। হা হা হা। তুমি তো বৃষ্টি খুব লাইক করো। তাই না।
হ্যাঁ...
হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ।
বর্ষা জানো আমার স্ত্রী মৈত্রী বাতাসে আমার গন্ধ পেত। সে অনেক আগে বলে দিত যে আমি একটু পর আসব। আর সবাইকে অবাক করে দিয়ে আমি ঠিক চলে আসতাম।
উনি কয় মিনিট আগে বলতে পারতেন?
প্রায় পাঁচ মিনিট আগে।
বর্ষাকে অবাক করে দিয়ে বড় ট্রে নানা রকমের আইসক্রিম এসে ঘরে প্রবেশ করল। বাদল বর্ষাকে বলল জানো, বিয়ের আগে আমি খুব আইসক্রিম খেতাম। মৈত্রী বলত দেখো, তোমার জীবিকা হবে এই আইসক্রিম। আর দেখো কীভাবে মিলে গেল এই আইসক্রিমের ফ্যাক্টরি থেকে আমার সব আয়। বাদল বলল, তুমি আমাকে অন্য কিছু বলতে এসেছো, শুধু আইসক্রিম খাওয়ার জন্য তুমি আমার কাছে আসোনি।
বর্ষা বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন তো।
বর্ষা আইসক্রিম মুখে দিতে দিতে খুবই চিন্তিত হয়ে বলল, আপনি আমার ছোটবেলা থেকেই আমাদের পরিবারের সাথে চলছেন। আমার মনে আপনার একটা রূপ তৈরি হয়েছে, মানে একটা একিজসটেনস। ‘আপনাকে আমি ভালোবাসি’- বলে বর্ষা কাঁদতে শুরু করল। আমি আপনাকেই বিয়ে করতে চাই। আর আপনি জানেন আমার পিতামাতা আমার কথার বাইরে যাবেন না।
তুমি একজন মোহগ্রস্ত কিশোরীর মতো কথা বলছো, তুমি বুঝছো না তুমি কি বলছো। আমি কখনও এটা করতে পারব না। আমি বিয়ের পর ষোলো বছর ধরে বিয়ে করিনি। কারণ আমার ভেতরে একিজসটেনস ঝুড়ে একটা মেয়ে সবকিছু চালাচ্ছে, সে আমার স্ত্রী মৈত্রী।
বর্ষার চোখভর্তি পানি। সে কখনও পরাজিত হয়নি। কিন্তু আজ সে সব হারিয়েছে। সে বলল, আপনি কি জানেন আমাদের বাসার একটা রুমে সবসময় তালা বন্ধ থাকে? রুমটা আমার আব্বু ব্যবহার করত। রুমটা রহস্যঘেরা। আমি একদিন ওই রুমে ঢুকে পড়ি। আর আমার চোখ ঘুমে জড়িয়ে যায়। আমি টানা দুদিন ওই রুমে ঘুমাই। ওই রুমের চাবি আমার কাছ থাকে। কিন্তু আজ আমি ওই রুমে ঢুকে যাব, আমি মৃত্যুঘুম দিব, মাইন্ড ইট। আমার আব্বু বলেছে, ওই রুমে যে একবার ঢুকে পড়বে, তার ঘুম ভেঙে বের হবার নিশ্চয়তা প্রায় জিরো পার্সেন্ট। আমার আব্বুটা আসলেই অনেক বুদ্ধিমান। বর্ষা চোখর্ভতি পানি নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় বাদলকে মৃদুস্বরে বলল, ‘বিধাতা এমন কোনো পৃথিবী বা জায়গা আমার জন্য বানায় নি যে আমি এ অপ্রাপ্তি লুকিয়ে রাখব’ বলে- দৌড় দিয়ে আফিস থেকে বের হয়ে যায়। আর বাদল যারপরনাই আবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
মোজাম্মেল সাহেব ও বর্ষার মা দরজা ধরে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে। বিপাশা রক্ত চোখে মোজাম্মেলকে বলে, তুমি দায়ী, আমি পুলিশকে খবর দেব, তুমি কেন এ মৃত্যুকূপটাকে ঘরে রাখলে। মোজাম্মেল বলল, আরে তুমি তো জানো, আমার খুব ইনছমনিয়া। আমি এ ঘরে পাঁচ মিনিট বসে থেকে বের হই। আর ওষুধের মতো কাজ করে।
বিপাশা উম্মাদের মতো দৌড় দিয়ে সিঁড়ি থেকে নেমে বাদলকে ফোন করল।
কিছুক্ষণ পর বাদল এসে ঘরে ঢুকল। বাদলের হাতে একটা সোনালি কাঠি এবং অন্য হাতে একটা রুপালি কাঠি। দরজার স্ক্রু খোলা হয়েছে। ভেতরে অনেক লতানো গাছ। অনেকটা বনের মতো ঝোপঝাড়। অচেনা একটা গাছে একটা নীল রঙের অচিন ফুল ফুঠে আছে। বর্ষা অচিনপুরী রাজকন্যার মতো মৃতপ্রায় ঘুমাচ্ছে। বাদল সোনার কাঠির বর্ষার ডান চোখে এবং রুপার কাঠিটা বাম চোখে ছোঁয়ায়। অবাক ব্যাপার হলো, বর্ষা সাথে সাথে চোখ খুলে তাকায়। বর্ষা সাথে সাথে বলে আপনি বোধহয় জানেন না, আমিও দূর থেকে আপনার ঘ্রাণ পাই।
তাই আমি চোখ খুলেছি। বর্ষা নীল রঙের একটা বড় ফুলের দিকে আঙ্গুল দিয়ে ফুলটা তাকে দিতে বলে। বাদল জলদি করে তাকে ফুল এনে দেয়। বর্ষা বলে শত শত ছেলেরা আমাকে ফুল দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকত; কিন্তু আমি নিতাম না। তোমার দেওয়া ফুলটি আমি নিলাম।
বাদলের চোখে পানি। হঠাৎ বাদলের চোখের পানিতে বর্ষাকে দেখতে ঠিক মৈত্রী মতো লাগল। অনেকদিন পর সে মৈত্রী দেখল! মৈত্রী তো দেখতে ঠিক এমনই ছিল!

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯

  • ৩ অক্টোবর ২০১৯

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯