পাকা বেল ও কাকের গল্প

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৭, ১৫:১৩

অনলাইন ডেস্ক

আনিসুল হক :

দুপুরবেলা একটা চিল ডাকে। বেলগাছটার ছায়া ছোট হয়ে কাণ্ডের কাছে লুটায়। একটা কাকও কা কা করে। নগেন ডাক্তার চশমার ওপর দিয়ে বেলগাছের দিকে তাকান। বেলের গায়ে সূর্যের আলো, প্রতিফলিত হয়ে তার চশমার কাচে পড়ে। তিনি মনে মনে বলেন, গাছে বেল পাকিলে কাকের কী?
হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হিসেবেই এই আমগাছিয়া পাড়ায় নগেন সরকারের নামডাক। এটাই তার পেশা। রাজ্যের হোমিওপ্যাথির বই পড়ে পড়ে তার চোখটা গেছে, কিন্তু হাতটা পেকেছে। হাতযশও খুব।
তার কাছে এলে তিনি সারিয়ে দিতে পারেন না, এই রকম রোগ কমই আছে। হোমিওপ্যাথি বিদ্যা বলে, হোমিওপ্যাথিতে সারে না, এমন কোনো রোগ নাই। তবে তার ধনন্তরী হলো গলায় মাছের কাঁটা লাগার ওষুধ। এটা তিনি এক ডোজেই সারিয়ে দিতে পারেন। পাউডারে, ছোট ছোট চিনির দলায়, পানিতে মিশিয়ে তিনি ওষুধ দেন। যে রোগের যেমন দাওয়াই।
বায়ান্ন বছরের নগেন ডাক্তার ঘোরতর কৃষ্ণবর্ণ, তার মাথায় টাক। তিনি পরেন একটা ফতুয়া, আর ধুতি।
দুপুরবেলা ওই ঘোষপাড়ার মেয়েরা কলতলায় নাইতে থাকে, নগেন ডাক্তারের চেম্বার থেকে সেখানটা দেখা যায়। চেম্বার মানে একটা কাঠের পাতাতনের ওপরে ১২ ফুট বাই ১৪ ফুট একটা দোকান ঘর। ওপরে টিন। পাশে ড্রামকাটা টিন। তবে তিনি ওষুধের র‌্যাক বানিয়ে নিয়েছেন কাঠ দিয়ে, ওপরে একটা চাটাইয়ের ছাদও। ফলে গরমটা তেমন আসে না।
সেখান থেকেই ঘোষপাড়ার মেয়ে মায়ার দিকে তার চোখ পড়ে যায়। মেয়েটা কি অকালে বিধবা হয়ে ফিরে এলো নাকি বাপের বাড়ি?
নগেন ডাক্তারের চেম্বারে ভিড় হয় সকাল দশটার দিকে। সব অসুখ-বিসুখ মানুষের দেখা দেবে রাত্রিতে। রাতটা কোনোমতে পার করে সকাল সকাল সব দৌড়াবে ডাক্তারের খোঁজে। তবে এখানকার লোকেরা বড় অলস। তাদের সকাল হয় আটটায়, কিন্তু বাড়ি ছেড়ে বেরুতে বেরুতে সাড়ে ন’টা বাজিয়ে দেয়, নগেন ডাক্তারের চেম্বারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দশটা।
মায়ার দিকে তার চোখটা যে পড়েছে, এইটা নগেন ডাক্তার এখন মায়াকে জানান দেবেন কী করে?
আহা। কী শরীর। কলাগাছের মতো পা দুটো। ভেজা শাড়িতে পেছনটা লাগছে কি মাইরি। আর দেখো কোমর। শাল কাঠের চেয়ারের হাতলটায় হাত লেগে লেগে চকচক করছে, কোমরটাও যেন তেমনি। বুক দুটো এত ভরাট। এত গোল।
নগেন ডাক্তার চোখ ফেরান। উঠে দাঁড়িয়ে তাক থেকে বই নামান। শরীরে যৌবনের বল ফিরিয়ে আনার ওষুধটা একটু দেখে নেওয়া দরকার। মনটাই তার এখনও তরুণ রয়ে গেছে। শরীরটা তো আর তরুণ নাই।
তখনই কাক কা-কা করে, ধুপ করে একটা বেল পড়েও গাছ থেকে আর নগেন ডাক্তারের মনে হয়, বেল পাকলে কাকের কী, নাকি কাক পাকলে বেলের কী? কথাটা কী হওয়া উচিত।
দুদিন পরে তিনি কথাটা নিয়ে আরও ভাবার সময় পান। আঠারো বছরের মায়া যখন এসে বলে, কাকাবাবু, মোক একনা ওষুধ দেন তো  কাকাবাবু।
ক্যানে রে মায়া? কী হইছে?
ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা। আর জ্বর জ্বর। শরীলে বল পাই না কাকাবাবু।
কাশি আছে?
আছে একটু একটু।
আয়। কাছে আয়।
হা কর।
হা হা।
আরও হা কর।
হা।
জিভ দেখি।
জিভ আরও বের কর।
চোখ দেখি। উপরে তাকা।
নগেন ডাক্তারের হাত মায়ার চোখের নিচে। নগেন ডাক্তারের বুক কাঁপে। আশ্চর্য তো, এই আটাশ বছরে এত রোগী দেখলেন, কোনোদিন এই রকম হয় নাই তো।
নগেন ডাক্তার স্টেথোস্কোপ গলায় থেকে কানে তোলেন। হাতে যন্ত্রটা নিয়ে মায়ার বুকে ধরেন। শ্বাস ল। জোরে। শ্বাস ছাড়।
নগেন ডাক্তার অনেকক্ষণ ধরে বুকটাই পরীক্ষা করেন। যেখানে হৃদপিণ্ড সেখানটা, যেখানে ফুসফুস সেখানটা। আহ, মেয়েটার বুক খাসা বটে।
নগেন নাড়ি টেপেন। অনেকক্ষণ ধরে টেপেন। মায়ার মুখ থেকে একটা গন্ধ আসে। বাসি গন্ধ। নগেনের পাগল পাগল লাগে।
নগেন ডাক্তার মায়াকে কাশির ওষুধ দেন। একটু কম ডোজে দেন। হোমিওপ্যাথির ওষুধে যত পানি মেশাবে, তত ডোজ বাড়বে। নগেন মায়াকে দেন কম পানিতে বেশি ওষুধ। এই ওষুধে যদি মেয়েটার নেশা হয়, মেয়েটা আবার আসবে। বেল পাকলে কাকের কখনও কখনও কিছু এসে যেতে পারে।

তৃতীয় দিনই মায়া আসে। তখন দুপুর খা খা করছে। চিলও ডাকছে না। কাকও না। পাড়ার এই রাস্তাটা একেবারে ফাঁকা। কুকুরগুলো পর্যন্ত ঘুমিয়ে পড়েছে। তার দোকানের পাটাতনের নিচে শুয়ে আছে বিড়াল। ওই দূরে, ঘোষদের বাড়ির পেছনের চাতালে জাবর কাটছে গরু। তার গা চাটছে বাছুর।
মায়া বলে, কাকাবাবু, কী ওষুধ দিনেন, বুকের মাঝত কাশ যে বসি গেল। একনা দেখি দেন তো বুকত কফ জমি গেল কিনা।
মায়া তার সামনে। এই রোগীর টুলে এর আগে কত রোগী বসেছে। আবালবৃদ্ধাবণিতা। যুবক রোগী, যুবতী রোগী। কিশোর রোগী, কিশোরী রোগী। কিন্তু নগেনের তো কোনোদিনও এমন বোধ হয়নি। বুক নয়, হৃদপিণ্ড নয়, ফুসফুস নয়, নগেনের চোখ যায় স্তনাভাসের দিকে। আস্তে আস্তে স্টেথোস্কোপ বুলিয়ে নগেন আঁচ করে, এই হলো বৃন্ত।
মায়া জোরে জোরে শ্বাস বলে। বলে, কাকাবাবু, শরীলটায় বড় জ্বালা কাকাবাবু। বুক জ্বলে।
নগেন স্টেথোস্কোপ ফেলে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন, মায়ার শরীরের কোন কোন জায়গায় আসলে ব্যথা। জ্বালা যন্ত্রণা। তিনি হাত বুলিয়ে বলেন, আরাম বোধ হয়।
হয় কাকাবাবু। হয়। কাকাবাবু, ভালো করে বুকটা দেখে দেন। বড় জ্বালা। মায়া শাড়ির আঁচল সরায়।
কাকাবাবু ঝাঁপ বন্ধ করেন। দুপুরবেলা। তার বাড়ি ফেরার সময় হয়ে গেছে।
বাড়ি ফিরতে নগেন ডাক্তারের দেরি হয়ে যায়।

***

চিত্রা কাঁসার থালায় ভাত বাড়েন। মাদুরে বসে নগেন সরকার ভাত মাখে তরকারি দিয়ে।
চিত্রা বলেন, আইজকা আসতে দেরি হইল যে। কী করলা এতসুম।
নগেন ভাত চিবান। চিত্রার মুখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন, সে কি কিছু বুঝে বলল, নাকি আঁচ অনুমানে।
তিনি বলেন, শিল্পী আর তাপস কই?
চিত্রা হাতের পাখাটা নেড়ে বলেন, কই আর থাকপে, স্কুলত।
নগেন মাথার ঘাম বাম হাতে মোছেন। যাক, চিত্রা তা হলে কিছু আঁচ অনুমান করতে পারেনি। তার চোরের মন তাই পোস্টম্যানকেও পুলিশ বলে ভুল করবে।
কিন্তু এই ছোট্ট গঞ্জটিতে এই কথা চাপা থাকে না। নগেন ডাক্তার যে ঘোষপাড়ার বিধবা যুবতী মায়ার মায়ায় পড়ে একেবারে দিওয়ানা হয়ে গেছে, বাতাসের আগে আগে তা ছড়িয়ে পড়ে। আর পাড়ার মহিলারা পান খাওয়ার নাম করে, সুপুরি খাওয়ার নাম করে চিত্রার বাড়িতে আসে, আর বলে, তোমারে ধন্য ধন্য করি দিদি, তোমরা বুলি সহ্য করতেছেন, হামরা হইলে অ্যালা বাপের বাড়ি রওনা হনু হয়।

চিত্রা কথা বন্ধ করেন। খাওয়া বন্ধ করেন।
নগেন ডাক্তার তাকে খেতে অনুরোধও করেন না।
চিত্রা বিছানা আলাদা করেন।
নগেন ডাক্তারকে নিবৃত্ত করা যায় না। মায়া তার চেম্বারে আসে। তার ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়।
চিত্রা সুটকেস গোছান। তিনি বাপের বাড়ি যাবেন।
নগেন ডাক্তার তাকে নিবৃত্ত করেন না।
চিত্রা যাবেনই বা কোথায়। বাবা বেঁচে নাই, মা তার ছেলের ঘরে গলগ্রহ হয়ে বেঁচে আছেন। পুত্রবধূদের খোটা সহ্য করতে তিনিই পারেন না।
এই অবস্থায় চিত্রা একদিন রাতে চেপে ধরেন নগেনকে। মাথার ওপরে বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে। ষাট পাওয়ারের বাতির চারদিকে পোকা। আর মাকড়সার জাল।
চিত্রা বলেন, আপনে আপনার দুই ছেলেমেয়ের নামে পণ করেন, আপনে আর ওই মায়ার সাতে দেখা করিবেন না, কথা বলিবেন না।
নগেন বলে, সেইটা আমি পারিব না। এইটা তোমাকে মানি নিতে হবে। এলা তোমরা ঠিক করো, তোমরা কী করবা। তোমার ইচ্ছা হইলে মোর ভাত খাবা। না হইলে চলি যাবা। মুই মায়াক না দেখি থাকিবার পারিব না।
সারা পাড়াত ঢিঢি পড়ি গেছে। ছাওয়া দুইটার স্কুল যাওয়া বন্ধ হইবার জোগাড়।
ওমার কী। ওমরা স্কুল যাবার পারে না ক্যানে? পুরুষ মানষের একটা মাইয়া মানুষ দিয়া হোয়ায়। তোমার শরীল চলে?

চিত্রা এখন কী করবেন। ভেবে পান না। সোনার সংসার ছিল তার। এই সোনার সংসারে আগুন লেগে গেল। তিনি প্রথমে যাদুটোনা করেন। মাদুলি বাঁধেন হাতে। নগেন ডাক্তারের বালিশে কবচ রাখেন। কিছুতেই কিছু হয় না। এক আধবার ভাবেন, বিষ খাবেন। কিন্তু ছেলেটা পড়ে এইটে, মেয়েটা সিক্সে। এদের ফেলে তিনি কই যাবেন। মা মারা গেলে বাবা হয় তালুই।
কিন্তু এটাও তো মেনে নেওয়া যায় না। নগেন ডাক্তার রংপুর শহরে বাসা ভাড়া করেছেন এবং মায়াকে সেখানে তুলেছেন। লোকে বলে, তারা বিয়েও করে ফেলেছেন। করেছে কি করেনি, আইনত করা যায় কি যায় না, এইসব নিয়েও লোকে তাকে পরামর্শ দিতে আসে। কিন্তু তিনি কি এখন মামলা করতে যাবেন স্বামীর বিরুদ্ধে।
নগেন ডাক্তার বলেন, তোমরা তো ভালো আছ। খাইতেছ, দাইতেছ। মাইয়াকে ছাওয়াকে পড়ার খরচ দিতেছি। সব ঠিকঠাক।
বেশি লাফালাফি করিও না। বেশি লাফাইলে টাকা-পাইসা দেওয়া দেমো বন্ধ করিয়া। তখন দেখমো ত্যাল কার শরীলত কত হইছে।

***

ঘুঘু ডাকে বাঁশঝাড়ে। বাঁশঝাড়ে পাতা ঝরে। চৈত্র মাসের বাতাসে পাতা ঝরে টিনের চালের ওপরে। আমের পাতা, কাঁঠালের পাতা। ঝরে কাঁঠালের এঁচোড়। দিনের বেলা চিত্রা দুপুরের খাওয়া খেয়ে বারান্দায় বসে আছেন। কাজের মেয়ে সন্ধ্যা তার মাথায় তেল বসিয়ে দিচ্ছে। আজকাল খুব মাথা ধরে।
সন্ধ্যা বলে, আরও টিপমো।
চিত্রা বলে, হ। দুই কপালের দুই পাশত চাপ দে।
সন্ধ্যা বলে, চুন লাগায়া দেই।
দে ক্যানে।
সন্ধ্যা বলে, তোমার এত মাথা বিষায়। তোমরা ওষুধ খান না কেনে। কাকা তো সপ্তাহে দুই তিন থাকে এই বাড়িতে।
চিত্রা বলে, ওমরা থাকে ওমার মতোন। মুই ওমার সাথত কথা না কও।
সন্ধ্যা বলে, তাইলে তোমরা ডাক্তারি বই পড়িয়া ওষুধ বাইর করেন। বইগুলান তো সোগ পড়ি আছে।
চিত্রা সঙ্গে সঙ্গে পিঁড়ি থেকে উঠে পড়েন। তাই তো। তিনি পড়েছেন ক্লাস নাইন পর্যন্ত। সেই বিদ্যায় এইসব হোমিওপ্যাথির বই তার পক্ষে পড়া কঠিন কিছু নয়। তিনি উঠে ঘরে যান। বইয়ের তাকে হাত দেন। বাতি জ্বালিয়ে খুঁজতে থাকেন মাথাব্যথার ওষুধ।
ওষুধের নাম বের করে তিনি খুঁজতে থাকেন ওষুধের শিশি। আলমারিতেই সব সাজানো আছে। চিত্রা মাথাব্যথার ওষুধ পেয়ে যান। বইয়ের নির্দেশ মোতাবেক ওষুধ খাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পরে মাথাব্যথা কমে যেতে থাকে।
চিত্রার মাথায় তখনই বুদ্ধি খেলে যায়। তিনি হোমিওপ্যাথির ডাক্তারি নিজে করবেন। পাড়ার মহিলাদের নানা গোপন অসুখবিসুখ লেগেই আছে। তারা আসবে তার কাছে। তাদের কাছে ভিজিট নেওয়া শুরু করলে তিনি নিজেই আয় রোজগার করতে পারবেন।
যে স্বামী মধ্যবয়সী স্ত্রীকে তার দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও অপমান করতে পারে, তার ভাত তখন তাকে আর খেতে হবে না।

***

দুই বছর পরের কথা। নগেন ডাক্তারের স্ট্রোক করেছে। তার শরীরের অর্ধেকটা অবশ। তিনি রংপুরের বাসা ছেড়ে চলে এসেছেন চিত্রার কাছেই। চিত্রাই তার চিকিৎসা চালাচ্ছে। চিত্রা অবশ্য তাকে স্বামী হিসেবে পরিচর্যা করছে না, দেখভাল করছে তার রোগী হিসেবে।
এই এলাকায় এখন ডাক্তার চিত্রা সরকারের পসার ভালোই জমে উঠেছে।
তার কাছে এলে তিনি সারিয়ে দিতে পারেন না, এই রকম রোগ কমই আছে। হোমিওপ্যাথি বিদ্যা বলে, হোমিওপ্যাথিতে সারে না, এমন কোনো রোগ নাই। তবে তার ধনন্তরী হলো গলায় মাছের কাঁটা লাগার ওষুধ। এটা তিনি এক ডোজেই সারিয়ে দিতে পারেন। পাউডারে, ছোট ছোট চিনির দলায়, পানিতে মিশিয়ে তিনি ওষুধ দেন। যে রোগের যেমন দাওয়াই।
আর সবচেয়ে তার পসার হয়েছে মেয়েলি রোগের চিকিৎসায়। দূর-দূরান্ত থেকে মেয়েরা আসে। তিনি মেয়েদের বলেন, লেখাপড়া করিবা। নিজের একটা আয় ইনকাম থাকা চাই। নাইলে ব্যবসা করিবা। সোয়ামির উপরে জানি নির্ভর করিয়া না থাকা নাগে। বুঝছেন?
বেলগাছে কাকেরা ডেকে ওঠে, কা কা...

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯