গরমে স্বস্তিময় মেকআপ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৪

অনলাইন ডেস্ক

গরমে দিনে বা সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে মেকআপ বেশি হলে পুরো সাজটাই মাটি। তাই গরমের দিনে আপনাকে মেকআপ করতে হবে হালকাভাবে, যাতে আপনি ফ্রেশ থাকতে পারেন। গরমে ফ্রেশ থাকার জন্য
পারফেক্ট মেকআপ নিয়ে এবারের আয়োজন_

গরমের সময় মেকআপ করা খুবই মুশকিল। বেশিক্ষণ মেকআপ ফ্রেশ থাকে না। বিশেষ করে দিনের বেলায় সহজেই মেকআপ গলে যায়। গরমের সময় মেকআপ করতে হবে ‘সফট অ্যান্ড ডেলিকেট’। সামারে অন্যান্য সময়ের থেকে আলাদা মেকআপে কী রঙের ব্যবহার করবেন সেটার দিকে খেয়াল রাখা দরকার। যেমন গরমের সময় উপযুক্ত ওয়াটার বেসড ও পাউডার মেকআপ, লিপ কালারের মভ, পিংক কালার ব্যবহার করতে পারেন। স্কিন টোন ও পোশাক অনুযায়ী মেকআপের রং বেছে নিন। গরমের সময়ে মেকআপ কী রকম হলে ভালো হয়, সেই নিয়ে ভুল ধারণার শেষ নেই। তাই মেকআপ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। মেকআপ করার সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন।
মিনারেল মেকআপ : ন্যাচারাল মিনারেল যেমন জিঙ্ক অক্সাইড, আয়রন অক্সাইড, টাইটানিয়াম ডিঅক্সাইডের মতো উপাদান দিয়ে মিনারেল মেকআপ তৈরি করা হয়। এই মেকআপের সবচেয়ে ভালো দিকটা হলো, সব ধরনের ত্বকেই মিনারেল মেকআপ বেশ উপযোগী। তবে অতিরিক্ত শুল্ক কিংবা ম্যাচিওর স্কিনে পাউডার বেইসড মেকআপ ত্বককে করে তোলে রুক্ষ থেকে রুক্ষতর। এক্ষেত্রে আরও সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে ত্বকে রিংকলসের সমস্যাটি। আর শুষ্ক ও ম্যাচিওর স্কিনে মিনারেল মেকআপ ব্যবহার করলে নিয়মিত নারিশিং ক্রিম অথবা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাটা জরুরি।
মিনারেল মেকআপে কেমিকেল, অ্যালকোহল, ডাই ও কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয় না। আর পছন্দমতো রং তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয় ইনঅর্গানিক পিগমেন্ট। সাধারণত এই ধরনের মেকআপে ত্বকে অ্যালার্জি বা ইরিটেশন হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে ব্লাশঅন, ব্রোঞ্জার এসব কিছু পাউডার ফর্মে পাওয়া যায়, এই ফাউন্ডেশনে ইচ্ছে করলেই ব্রাশ ব্যবহার করা যায়। ত্বকে দাগছোপ থাকলে কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক সময় লিকুইড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে পড়ে অধিক চকচকে, আর এই ক্ষেত্রে মিনারেল মেকআপই পারে ত্বককে রাখতে উজ্জ্বল ও ঝকঝকে। অন্যদিকে যদি ত্বকে সোনালি আভার ছোঁয়া কেউ দিতে চায়, তবে ব্যবহার করতে পারে গোল্ড ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন অক্সিডেশন জিমেজ থেকে ত্বককে যেমন রক্ষা করে, তেমনি বয়সের ছাপ রুখতেও সহযোগিতা করে।
মিনারেল মেকআপে রয়েছে নানা ধরনের মিনারেল। যেমন জিঙ্ক অক্সাইডের মধ্যে রয়েছে সান প্রটেকশনের প্রয়োজনীয় উপাদান। এছাড়া জিঙ্ক অক্সাইড ইনফ্লেমেশনের সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে। স্কিন ট্রিটমেন্টেও এই মেকআপ বেশ উপকারী। আর যাদের রয়েছে সেন্সেটিভ স্কিন, তাদের ক্ষেত্রেও এই মেকআপ উপযুক্ত। মিনারেল মেকআপ লোমকূপের মুখ বন্ধ করে না।
মিনারেল মেকআপের টাইটানিয়াম ডিঅক্সাইড সানস্ক্রিন লোশন ও ক্রিম তৈরির অন্যতম একটি উপাদান। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই মেকআপ সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে পারে। টাইটানিয়াম, গোল্ড, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ত্বক সজীব রাখতে সাহায্য করে। আবার লেজার বা পিল ট্রিটমেন্ট করার পরেও ত্বকে মিনারেল মেকআপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

মেকআপ সামগ্রীর যথাযথ ব্যবহার
সবাই নিজেকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। কেউ যথাযথভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়, কেউ আবার শতভাগ না পারলেও কিছুটা সফলতার মুখ দেখেন। কিন্তু অনেকেই আবার মেকআপ উপকরণের সঠিক যতœ নেওয়ার পদ্ধতি জানেন না। ফলে এই অসতর্কতার কারণে ত্বকে নানা রকমের ইনফেকশন দেখা দেয়। ইনফেকশন থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে মেকআপ উপকরণের সঠিক যতœ নিতে হবে।
১. মেকআপ সামগ্রী কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, তা যেন বায়ু নিরোধক পাত্রে থাকে। বিশেষ করে আইলাইনার, নেইল পলিশ, লিপগ্লস, মাশকারা ধরনের তরল মেকআপ প্রসাধনগুলো ব্যবহারের সময় শিশিটিকে ঢেকে রাখুন। না হলে বাতাসে এর ভেতরের তরল উড়ে গিয়ে প্রসাধনগুলোকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তোলে।
২. এ ধরনের তরল প্রসাধনসামগ্রী খুব বেশি রোদ বা বাতাস আসে এমন স্থানে না রেখে ঠা-া জায়গায় রাখলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
৩. অনেক সময় লিপলাইনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমরা লিপলাইনারের ঢাকনা (ক্যাপ) খুলে ফেলে দিই। লিপলাইনার পেনসিলটি খোলা থাকার কারণে এর মুখে ধুলাবালি লেগে যাওয়ায় পরে ব্যবহারের সময় ঠোঁটে ছোট ছোট ফুসকুড়ির সৃষ্টি হয়। তাই শুধু লিপলাইনারই নয়, কাজল ব্যবহারের পরও এর মুখের ঢাকনা লাগিয়ে রাখুন।
৪. ফেস পাউডার কেনার সময় ছোট বক্স কেনাই ভালো। কারণ বড় বক্সে দীর্ঘদিন থাকার কারণে পাউডার জমাট বেঁধে যায়।
৬. লিপস্টিকটি যদি ক্রিমের মতো হয়ে থাকে, তবে তা ফ্রিজে রাখতে হবে। ম্যাট লিপস্টিক হলে ঠা-া স্থানে রাখলেই তা ভালো থাকে। অনেক লিপস্টিকে তুলি দেওয়া থাকে। লিপগ্লস ও লিপস্টিক দেওয়ার পর তুলিটি টিসু দিয়ে ভালো করে মুছে রাখুন। না হলে তুলিতে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।
৬. মেকআপের পাফ সপ্তাহে অন্তত একদিন গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
৭. কন্ডিশনার, ময়েশ্চারাইজার, ফাউন্ডেশন, কনসিলার ব্যবহারের সময় বেশি করে হাতের তালুতে নিলে তা পুনরায় একই টিউব বোতলে ঢুকিয়ে না রেখে আলাদা পাত্রে রাখুন।
৮. ব্লাশন দিয়ে মেকআপ করার পর তা ধুয়ে শুকিয়ে টিসুতে পেঁচিয়ে রাখুন।
৯. অনেক সময় মেকআপের প্রসাধনসামগ্রী মুখে লাগানোর জন্য পাফটিকে ভিজিয়ে নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ভেজা পাফটি ব্যবহারের পর তা ধুয়ে আবার শুকিয়ে টিসু দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন।
১০. রিমুভার খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। তাই রিমুভার ব্যবহারের সময় এর শিশিটি ঢেকে ব্যবহার করুন। রিমুভারের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া থাকে না। তাই রিমুভার খুব বেশি না কিনে এক বছরের ব্যবহার উপযোগী শিশি কেনাই ভালো।
১১. মেকআপ ব্যবহারে এসব সচেতনতা তো আছেই, এছাড়া মেকআপ ব্যবহারে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, একই মেকআপ প্রসাধন যেন একাধিক মানুষ ব্যবহার না করে।
১২. মেকআপ করার কারণে ত্বকের কোষ বন্ধ হয়ে টক্সিন বের হতে পারে না। ফলে ত্বকের কিছুটা ক্ষতি হলেও বিশেষ যতœ নিলে সেই সমস্যা দূর হয়ে যায়। কিন্তু একই লিপগ্লস, পাফ, ব্লাশার, লিপস্টিক, মেকআপ বক্স ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের সংক্রমণ হয়, যার স্থায়ী নিরাময় করা কষ্টকর হয়ে যায়।
১৩. প্রসাধন ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক হতে হবে, যাতে প্রসাধন অন্য কেউ ব্যবহার না করে।
১৪. মেকআপ কেনার সময় তা ভালো ব্র্যান্ডের কিনা, দেখে নিন। অনেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলেও মেকআপসামগ্রী ব্যবহার করে থাকেন। মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী কখনই ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকে চর্মরোগ, ফুসকুড়ি, এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০১৭

  • ১৩ আগস্ট ২০১৭

  • ০৬ আগস্ট ২০১৭

  • ৩০ জুলাই ২০১৭