ঠোঁট ও হাতের যত্ন

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৭, ১৪:০১

অনলাইন ডেস্ক

এক টুকরো সুন্দর মুখের হাসিতে জগৎ জয় হয়ে যায়। সেই সুন্দর হাসির জন্য ঝলমলে দাঁতের যত্ন যেমন দরকার, তেমনি দরকার ঠোঁটের। হাতের যত্নেরও দরকার রয়েছে। আপনার ঠোঁটের যদি মুখের ত্বকের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকে তা হবে একেবারে বেমানান। ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বক অপেক্ষা অনেক বেশি নাজুক ও কোমল হয়। তাই ঠোঁটকে সুন্দর রাখতে চাই বাড়তি কিছু যতœ। সুস্থ, সুন্দর ও প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁটে গোলাপি রং পেতে নিয়মিত টিপস মেনে চলতে পারেন। অনেক কারণেই ঠোঁটের সৌন্দর্য হারাতে পারেন। ঠোঁটের সৌন্দর্য না হারানো ও এর যত্ন নেয়া অত্যাবশ্যক।
প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে অন্তত ৫ মিনিট ঠোঁট ম্যাসেজ করতে হবে। এ জন্য কয়েক ফোঁটা লেবুর রস আম- বাদাম তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই ট্রিটমেন্টে ঠোঁটের আর্দ্রতা ফিরে আসবে। নিয়মিত ব্যবহারে খুব সহজেই কালো দাগ কমে আসবে। প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে এসে আপনার ঠোঁট থেকে লিপস্টিক বা লিপগ্লস তুলে ফেলুন। সামান্য তুলায় অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল লাগিয়ে হালকা করে মুছে ফেলুন। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ঠোঁটের মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। ঠোঁট কালো হওয়ার জন্য এটা বিশেষভাবে দায়ী।
গোলাপের পাপড়ি পিষে এর মধ্যে গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। তা প্রতিদিন ঠোঁটে লাগান। ঠোঁট গোলাপি করতে হলে গোলাপের পাপড়ির রসের মধ্যে তুলসী পাতার রস মিশিয়েও লাগাতে পারেন।
অযত্নে অনেকের ঠোঁট কালো হয়ে যায় এবং খুব বেশি ফেটে যায়। তারা ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিতে পারেন বাড়তি যত্ন । গোলাপের পাপড়ির সঙ্গে মধু বা মাখন মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন সারারাত। বিট-রুটের রসের সঙ্গেও গোলাপের পাপড়ি ও মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে পারেন সারারাত। লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লিপস্টিক বেছে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নারিকেল তেলের সঙ্গে বাদাম তেল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। সপ্তাহে দু’দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। কালো দাগ দূর হবে। একটা লেবুর অর্ধেক কেটে তার ওপর দুই ফোঁটা মধু দিয়ে বৃত্তাকারে ঠোঁটে ম্যাসেজ করতে হবে। এর পর বরফজলে ঠোঁট ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়। লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন। পানিশূন্যতা ঠোঁটের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। তাই প্রতিদিন পানি পান করুন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস।
কমলার খোসা নিয়ে ঠোঁটে লাগান অথবা কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে নিয়ে তাতে খানিকটা গোলাপজল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন। অল্প পরিমাণ চিনি ও কোল্ডক্রিম মিশিয়ে ঠোঁটের স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করুন। কোল্ডক্রিমের বদলে অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে ঠোঁটের ন্যাচারাল কালার ফিরে আসবে। ৪ ফোঁটা নারকেল তেল ও ৬ ফোঁটা টমেটোর রস একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লাগাতে হবে। সুন্দর ঠোঁটের জন্য এটি সপ্তাহে তিনবার লাগানো যায়। ঠোঁটে সব সময় ভালো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করা উচিত। নকল কিংবা নিম্নমানের লিপস্টিক ঠোঁটে লাগালে ঠোঁটের ত্বকের ক্ষতি হয়। ঠোঁট পরিষ্কার করতে হয় আলতোভাবে। খুব জোরে ঘষলে ঠোঁটের চামড়ার ক্ষতি হয়। এতেও ঠোঁটে কালো দাগ পড়তে পারে।
গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে তুলার সাহায্যে ঠোঁটে লাগাতে হবে। ৫ মিনিট ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পুদিনা পাতা বেটে রস আলাদা করে নিয়মিত ঠোঁটে লাগান। বরফের কিউব নিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন, পরে বাদাম তেল ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ম্যাসেজ করুন। এতে ঠোঁটের ন্যাচারাল কালার ফিরে আসবে।
দুধের সরের সঙ্গে ডালিমের বিচির গুঁড়া মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। এতে ঠোঁটে গোলাপি আভা আসবে। এক্ষেত্রে সর না নিয়ে ঘি ব্যবহার করতে পারেন।

হাতের যত্ন
প্রথমে হাত ভেজানো, এরপর হাতে সাবান লাগানো, হাতের আঙুলের ভেতরের অংশ ও নখ পরিষ্কার করা, এরপর পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা, সব শেষে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছে ফেলা। কিন্তু হাত ধোয়ার পর তা যদি পরিষ্কারই না হয় তাড়াহুড়োর কারণে, তাহলে আয়োজনটাই বৃথা। এত কথা বলছি কারণ, সামনেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদে ঘরে কিছু মাংস আসবেই। তাই মাংস কাটা, প্যাকেট করার প্রক্রিয়ায় আরও অনেক কাজ করতে হয়। হাতটা কোনোমতে সাবানের পানিতে ভিজিয়েই হয়তো অন্য কাজে ঢুকে যাচ্ছেন। ক্ষতিটা হাতের ত্বকের ওপর দিয়েই যাবে। এক ঝলকে জেনে নেয়া যাক কীভাবে আপনার হাত যত্নে রাখবেন।
কোরবানির ঈদের আয়োজন ভিন্ন রকম। এর প্রস্তুতিটাও তেমন। সারাদিনের কাটা-ধোয়ায় অনেকের নখ ভেঙে যায়, হাত কেটে যায়। যাদের সারাদিন এসব কাজ করতে হবে, ঈদের আগে তাদের ম্যানিকিওর করে নখ ছোট করে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ঈদের আগে এই কয়েক দিন হাতে প্রতিদিন রাতে লোশন লাগান। হাতের ত্বককে যতটা সুরক্ষিত রাখবেন, ঈদের কয়েক দিনের ধকলে ঠিক ততটাই কম ক্ষতি হবে।

হাত ধোয়ার বেসিনে যা রাখবেন :
১. হলুদের গুঁড়া
২. সাবান
৩. লোশন।
হাত ধোয়ার সময় প্রথমেই একটু হলুদের গুঁড়া ভালো করে হাতে মেখে নিন। এতে মাংসের গন্ধ চলে যাবে এবং দ্রুত পরিষ্কারক হিসেবেও কাজ করবে। হাত ধুয়ে এবার সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। হাত মুছে ভালোভাবে লোশন লাগিয়ে ফেলুন। ঈদের পরও সম্ভব হলে ম্যানিকিওর করে নিন। এতে করে নখ ও হাতের ত্বকের সৌন্দর্য ও সুস্থতা- দুটোই বজায় থাকবে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০১৭

  • ১৩ আগস্ট ২০১৭

  • ০৬ আগস্ট ২০১৭

  • ৩০ জুলাই ২০১৭