নজর কাড়তে পার্টিলুক

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১৬:৩৭

অনলাইন ডেস্ক

বিয়ে কিংবা জন্মদিনের সাজটা হওয়া চাই অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে। আবার পোশাক আর সাজের মধ্যেও একটা মেলবন্ধন থাকা চাই। জমকালো অনুষ্ঠানের সাজ একটু ভারী হয়ে থাকে। বিশেষ করে অনুষ্ঠানটি যদি রাতের হয়, তবে জমকালো সাজেই গর্জিয়াস লাগবে। আর যদি দিনের বেলায় হয়, তবে পার্টিলুক আনতে একটু ভারী মেকআপ নিন, তবে তাতে যেন স্নিগ্ধ আমেজ থাকে।
গরমের দিনের অনুষ্ঠানে খুব ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলুন। দাগ-ছোপ বা ব্রণের সমস্যা না থাকলে শুধু ময়েশ্চারাইজার, ফাউন্ডেশন বা বেবি ক্রিম দিয়ে বেজ করে নিন। রোদ-গরমে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী করতে লিক্যুইড ফাউন্ডেশন না দিয়ে লুজ ফাউন্ডেশন দিন। ডার্ক সার্কেল থাকলে কনসিলার ব্যবহার করুন। ব্রণ, মেছতার দাগ বা চোখের কোণের কালি আড়াল করতে হালকা-কনসিলার ভালো কাজে দেয়। ফাউন্ডেশন আর কনসিলার ভালোভাবে ব্লেন্ড করে এরপর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগিয়ে নিন। এতে বেজ মেকআপ ত্বকে ঠিকমতো বসবে। আইশ্যাডোয় এখন বাদামি, সোনালি, মভ, পিচের মতো স্কিনটোন ঘেঁষা রংগুলো ভালো চলছে। এর কোনো একটি রং দিয়ে চোখ সাজিয়ে নিন। এরপর রঙিন কাজল, আইলাইনার ও ন্যাচারাল মাশকারা ব্যবহার করুন। সবশেষে লাগিয়ে নিন ক্রিমি ম্যাট লিপস্টিক। দিনের সাজে বেবি পিংক, লাইট রেড, লাইট অরেঞ্জ রংগুলো ভালো লাগবে। গোলাপি ও বাদামি রঙের লিপস্টিক একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করার চলও এখন চলছে। এই রং দুপুরের সাজে ভালো লাগবে।
রাতের নিমন্ত্রণের সাজটা অবশ্যই বেশ গর্জিয়াস হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এরপর ফাউন্ডেশন কিংবা প্যানকেক দিয়ে ইচ্ছামতো বেজ করুন। ত্বকে দাগ না থাকলে সরাসরি প্যানকেক ব্যবহার করতে পারেন। বেজ দীর্ঘস্থায়ী করতে বেকিং ভালো কাজে দেয়। বেকিং হলো ফাউন্ডেশন দেয়ার পর ত্বকে একগাদা লুজ পাউডার দিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিয়ে তারপর ব্রাশ দিয়ে বাড়তি পাউডার ঝেড়ে ফেলা। রাতের সাজে নজর দিন হাইলাইটিংয়ের দিকে। এখন সোনালি, রূপালি হাইলাইটিং আর সামান্য কনট্যুরই ট্রেন্ড। বেজ করা হলে শাইনিং হাইলাইট দিয়ে ব্লাশন করুন। বেশ গর্জিয়াস একটা লুক আসবে। রাতের অনুষ্ঠানে চোখের জন্য ডার্ক শেডগুলো বেছে নিন। কপার, চেরি, পিচ, গোল্ডেন ব্রাউন, চকলেটের মতো মেটালিক কালারগুলো এখনকার স্টাইল। আইশ্যাডো দেয়া শেষ হলে লাইনার দিন। লাইনার এখন টেনে দেয়ার চল চলছে। ট্র্যাডিশনাল লুক পছন্দ করলে চোখের নিচের পাতায় কাজল দিতে পারেন। আবার গ্লসি শ্যাডোও ব্যবহার করতে পারেন। রাতের সাজে ম্যাট ন্যুড লিপস্টিক বেছে নিন। এখন মভ, চেরি, পিচ, গোলাপি রংগুলো জনপ্রিয় ন্যুড লিপস্টিকের তালিকায় রয়েছে। রাতের সাজে ব্রিকরেড, ব্লুবেরি, ডিপ পার্পেল, কফি কালার ভালো লাগবে। নিমন্ত্রণের পোশাক হিসেবে মেয়েদের জমকালো সাজে শাড়ি অন্যতম। এখন ট্র্যাডিশনাল শাড়িরই কদর বেশি। বিভিন্ন ধরনের সিল্ক, মসলিন, জামদানি, কাতান শাড়িগুলো এখন গার্জিয়াস উৎসবের জন্য বেছে নিতে পারেন। কাঞ্জিভরম, টাঙ্গাইল সিল্ক, বালুচুরি সিল্ক ধরনের শাড়িগুলোও দিনের নিমন্ত্রণের জন্য মানানসই। ঈদের জন্য কেনা ট্রেন্ডি লাছা ফোরটাচ, গ্রাউন্ড লং ফ্রক, লং কোটি, কেপ কোট কিংবা গাউন কামিজগুলো ঈদের রাতের পার্টিতে অনায়াসে পরা যাবে। এসেসট্রিক কাট, আনারকলি কাট, গ্রাউন্ড লং ফ্রক, কোটি কামিজ দিনের অনুষ্ঠানে তালিকায় রাখতে পারেন। যেহেতু গরম তাই স্লিভলেস পোশাক আরামদায়ক হবে। শাড়ির সঙ্গে বেছে নিতে পারেন জমকালো ব্লাউজ।
ভ্যাপসা গরমে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে চুলের সাজও হওয়া চাই স্টাইলিশ ও আরামদায়ক। দিনের বেলায় চুল ছেড়ে না রাখাই ভালো। পশ্চিমা ঘরানার পোশাকের সঙ্গে উঁচু করে করা যেতে পারে কোনো ঝুঁটি বা খোঁপা। আর সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে একটু ভিন্ন ঢঙে বেণি করে নিতে পারেন। এক পাশে বেণি করে অন্য প্রন্তে ক্লিপ ও কাঁটা দিয়ে বেঁধে নিলেও সুন্দর দেখাবে। রাতে শাড়ি পরলে একটু ব্লো ড্রাই করে পিঠের ওপর চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। এক পাশে এনে রাখলেও মন্দ লাগবে না। সম্ভব হলে চুলের নিচের অংশ কোঁকড়া করে নিতে পারেন।

যন্ত্র ছাড়াই চুল কোঁকড়া
১. সামনের চুলগুলো টুইস্ট করে পেছনে উঁচু করে এলোমেলো বা মেসি খোঁপা করা যেতে পারে।
২. চুল হালকা ওয়েভি করে মাঝখানে সিঁথি করে রাখতে পারেন। এই চুলের সাজ সব পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে।
৩. চুল সামনের দিকে ব্যাক ব্রাশ করে পেছনে উঁচু করে লম্বা একটি ঝুঁটি করে নিতে পারেন।
৪. ছোট করে ছাঁটা চুল এক পাশে সিঁথি করে শুধু স্ট্রেটনার দিয়ে সোজা করে বা ব্লো ড্রাই করে ছেড়ে রাখলেও সুন্দর দেখাবে।
৫. লম্বা চুল ওয়েভি করে নিচে কোঁকড়া করে নিন। এরপর চুলগুলো ভেতরের দিকে ঢুকিয়ে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন।
৬. উঁচু করে দুই পাশে দুটি খোঁপা করে নিলে সালোয়ার-কামিজ ও ফিউশন ঢঙের পোশাকের সঙ্গে স্টাইলিশ দেখাবে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০১৭

  • ১৩ আগস্ট ২০১৭

  • ০৬ আগস্ট ২০১৭

  • ৩০ জুলাই ২০১৭