ত্বকের যত্ন কখন কেমন

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৭, ১৬:৩৬

অনলাইন ডেস্ক

মানুষ তার জন্মলগ্ন থেকেই সৌন্দর্যের পূজারি। নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই। আর মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রধানত নির্ভর করে তার ত্বকের সৌন্দর্যের ওপর। কি শীত কি গ্রীষ্ম যে কোনো ঋতুতেই ত্বকের যত্ন অপরিহার্য। সূর্যের প্রখর তাপে পুড়ছে প্রকৃতি। এর প্রভাব পড়ছে আমাদের ত্বকেও। সানগ্লাস, ছাতা এমনকি সানস্ক্রিনেও রক্ষা পাচ্ছে না ত্বক। গরমে ত্বকের ক্ষতি হয় অনেক বেশি। এ জন্য দায়ী সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি। শুষ্ক, রুক্ষ ত্বক। এতটাই খারাপ অবস্থা যে ত্বকে সাদা খড়িও দেখা যাচ্ছে। সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হয়েছেন। ক্রিম লাগানোরও সময় পাননি। ফলাফল সারাদিন শুকনো মুখে ঘুরতে হবে। ত্বকের কোমলতার জন্য এর স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখা প্রয়োজন। আর্দ্রতার অভাবে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে সহজেই বুড়িয়ে যায়। তাই সৌন্দর্যচর্চায় ক্লিনজিংয়ের মতো ময়েশ্চারাইজিং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে একদিন পরিচর্যা নিয়ে সপ্তাহে বাকি ছয় দিন কিছুই না করাটা খারাপ। ত্বকের ধরন বুঝে সব ঋতুতেই প্রতিদিন উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, যা ত্বক কোমল রাখবে।

কখন ত্বক ময়েশ্চারাইজ করবেন
সকালে মুখ ধোয়ার পর অথবা গোসলের পর অবশ্যই ত্বক ময়েশ্চারাইজ করা উচিত। যারা সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিতকক্ষে বেশিক্ষণ থাকেন, তাদের নিয়মিত ত্বক ময়েশ্চারাইজ করা জরুরি। বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে আর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বাইরে থেকে ফিরে ত্বক পরিষ্কার করে গায়ে লোশন মাখতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে সারাদিন ত্বক কোমল থাকবে। আঙুল দিয়ে মুখে ঘষে নয়, বরং আলতো করে আঙুল দিয়ে চেপে চেপে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক তা সহজেই শুষে নেবে। মুখের সঙ্গে গলায়ও কিছুটা ময়েশ্চারাইজার মাখা উচিত।

ব্রণ ও সানবার্ন হলে
নানা কারণে ছেলেদের বাইরে থাকতে হয় বেশি। ফলে রোদ ও ধুলাবালির সংস্পর্শে অনেকের ত্বকে ব্রণ ও সানবার্নের সমস্যা দেখা দেয়। তাই ত্বকের যতেœ সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তৈলাক্ত ও ঘামে ভেজা ত্বকে ধুলাবালি লেগে লোমকূপ বন্ধ হয়। এতে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। ব্রণ থাকলে প্রতিদিন শেভ না করে একদিন পরপর শেভ করাই ভালো।
শেভ করার পাঁচ মিনিট আগে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। শেভের আগে রেজারটি অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে উষ্ণ গরম পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর শেভ করুন। শেভিংয়ের সময় রেজার নিচের দিকে টানুন। অনেকেরই শেভ করার পর ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়। সে জন্য হালকা শেভিং ক্রিম, জেল বা ফোম ব্যবহার করুন। র‌্যাশ হওয়ার প্রবণতা যাদের রয়েছে, তাদের আফটার শেভ লোশন এড়িয়ে চলা ভালো। শেভিংয়ের পরে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগানো জরুরি।
ব্রণ সমস্যা কমাতে হারবাল ফেসিয়াল করাতে পারেন। বাসায়ও কোনো ফেসপ্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। ব্রণ থাকলে এর ওপর দারুচিনি পেস্ট করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ব্রণে নখ লাগানো ঠিক নয়। এতে ত্বকে দাগ হয়। এছাড়া বাইরে থেকে ফিরে বেশি করে পানির ঝাপটা এবং ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা উচিত। সূর্যের তাপে ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ ও সানবার্ন হয়। ছেলেদের হাতে ও মুখে সানবার্ন বেশি দেখা যায়। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিমের এসপিএফ ৪০ থেকে ৫০ হওয়া দরকার। সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম লাগানোর ৪ ঘণ্টা পর ধুয়ে আবার লাগিয়ে নিন। ৪ ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন লোশনের কার্যকারিতা কমে যায়। সানস্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে টক দই, গোলাপজল ও মুলতানি মাটি একত্রে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগালে সানবার্ন থাকবে না। আটা, টমেটো ও কাঁচা হলুদের রস দিয়েও প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। মুখ ধোয়ার ১৫ মিনিট পর গোলাপজল টোনার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মাসে অন্তত একবার ফেসিয়াল করুন।

ধরন বুঝে ত্বকের যত্ন
যাদের ত্বক বেশি তৈলাক্ত, তারা ঘুমের আগে ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে স্ক্রিন টোনার লাগাতে পারেন। লেবু, শসা দিয়ে বানানো প্যাকও ব্যবহার করা যায়। এতে তৈলাক্ত ভাব কমবে, ত্বক সতেজ হবে। তবে দুধ বা দুধের সর তৈলাক্ত ত্বকে লাগানো ঠিক নয়। দুধের বদলে তিলের পেস্ট লাগাতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে আবার তিলের পেস্ট ব্যবহার করা যাবে না। এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাবে। দুধ বা অলিভ অয়েল দিয়ে প্যাক বানিয়ে লাগান। ঘুমের আগে ব্যবহার করুন ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম। মিশ্র ত্বকে মধু, পেঁপে দিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করুন। এছাড়া ফলের রস ত্বক কোমল করার সঙ্গে সঙ্গে রোদে পোড়া ভাবও দূর করে।
ঘরে বসে যতেœর পাশাপাশি ত্বকের ধরন বুঝে পার্লার থেকে নিতে পারেন ডিপ ক্লিনজিং, ভিটামিন ‘সি’ ট্রিটমেন্ট, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, হার্বাল, স্পেশাল হার্বাল, অ্যালোভেরা, ডায়মন্ড ও ফ্লাওয়ার ফেসিয়াল।

জেনে রাখুন
দিনে আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাদ্য তালিকায় ভিটামিনসমৃদ্ধ তাজা ফল ও সবুজ শাক-সবজি রাখুন।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯