কাটমানির কাঠগড়ায় তৃণমূল

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৯, ১১:০০

সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত


এ যেন ডাক্তার দেবী শেঠির হার্ট সার্জারি। লোকসভা ভোটে গো-হারা হেরে দু-বছর পর বিধানসভা ভোটেও যাতে একই রকম লেজে-গোবরে না হতে হয়, তার জন্য একদিনও দেরি না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ডেকে পাঠালেন প্রশান্ত কিশোরকে। ভোটে বৈতরণী পার করানোর ক্ষেত্রে অব্যর্থ চিকিৎসক বলে ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করা শল্যচিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গেই লেগে পড়লেন রোগী নিয়ে কাটাছেঁড়ায়। নিদান বাৎলে দিলেন তৎক্ষণাৎ- তার পরামর্শমতো শুরু হয়ে গেল অ্যাকশন।
সেই অ্যাকশন এখন চলতে থাকবে একটার পর একটা, রীতিমতো হার্ট সার্জারির মতোই প্রশান্ত কিশোরের এই চিকিৎসায় গোটা রাজ্যজুড়ে একটা বড়সড় ধরনের হৈচৈ ফেলে দেবার দরকার ছিল। যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রেরই খবর, মমতার ‘কাটমানি’ নাট্য আসলে সেই তোলপাড় সৃষ্টিরই উদ্দেশ্য।
ভোট মিটতে মমতা নজরুল মঞ্চে ডাকলেন দলের কাউন্সিলারদের বিশেষ বৈঠক। গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজার তিনেক দলীয় কাউন্সিলের সভায় মমতা ফাটিয়ে দিলেন সেই বোমা। প্রশান্ত কিশোরের বানিয়ে দেওয়া সেই বোমা ফাটিয়ে দিয়ে মমতা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের যারা এতদিন মানুষের কাছ থেকে কাটমানি খেয়েছেন, তারা সবাই এবার টাকা ফেরত দিন। কোনো বিরোধীপক্ষীয় নেতার মুখ থেকে নয়, খোদ মমতার মুখ থেকে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে এ-রকম বিস্ফোরক অভিযোগ এনে মমতা সেদিন তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন গোটা রাজনৈতিক মহলে। মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল মমতার সেই অবিশ^াস্য; কিন্তু সেটা ছিল বিস্ময়ের সবেমাত্র শুরু। মমতার সেই ঘোষণার পরদিন থেকে জেলায় জেলায় প্রতিদিন শুরু হয়ে গেল ‘কাটমানি-বিক্ষোভ’। না সিপিআই(এম), না কংগ্রেস, এমনকি না বিজেপি- কোনো বিরোধী দলের তরফ থেকেই শুরুর দিকে ছিল না এসব বিক্ষোভে কোনোরকম মদত। কিন্তু তবুও একটার পর একটা জেলায়, একটার পর একটা এলাকায় তৃণমূলের বাছা বাছা, নেতা, নেত্রী, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান, সভাধিপতি থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের কর্তাব্যক্তিরা পর্যন্ত সকলের বিরুদ্ধে শুরু হয়ে গেল ‘কাটমানি’ বিক্ষোভ। বাড়ি ঘেরাও, মারধর, লুটপাট ইত্যাদি ঘটনায় গ্রামে গ্রামে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক হুল্লোড় শুরু হয় গেল। এখন যা চলছে এবং ক্রমশ তা বাড়ছে।
অতি সম্প্রতি এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব হাতে তুলে নিয়েছে বিজেপি। যার ফলে অতি দ্রুত গোটা রাজ্যে শাসক দল চিহ্নিত হচ্ছে ‘কাটমানি’র দল হিসেবে। যার ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক গুজন। দলের নিচু থেকে ওপর পর্যন্ত তাবৎ নেতা ও কর্মীরা অবাক হয়ে দেখছেন স্বয়ং দলনেত্রীর খুলে দেওয়া প্যান্ডোরার বাক্স থেকে বেরিয়ে আসা ‘কাটমানি দৈত্য’ গিলে খাচ্ছে গোটা তৃণমূল দলটাকে, আর তা নীরবে দেখে যাচ্ছে দলনেত্রী। অথচ এর বিরুদ্ধে একটাও মুখ খুলছেন না দলনেত্রী। আর তিনি মুখ খুলছেন না বলে কাটমানি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে মুখে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না দলের অন্যান্য নেতা। কেবলমাত্র একদিন একবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় মিডিয়ার সামনে এক বিবৃতিতে বলেন, দলের ৯৯.৯৯ শতাংশ নেতাকর্মীরা সৎ। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। না তিনি, না দলের অন্য কেউ, না মমতা স্বয়ং। জেলায় জেলায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী অথবা বিরোধীদের উদ্যোগে অথবা কোথাও বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলতে থাকা কাটমানিসহ বিক্ষোভের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলছেন না। এমনকি শুরু হওয়া বিধানসভা অধিবেশনেও মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ‘কাটমানি’।
এমনকি বিধানসভায় বিরোধীরা আক্রমণের মূল লক্ষ্যে দাঁড় করিয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ‘কাটমানি = সিএম’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সভাকক্ষে তারা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকেই রাজ্য ‘কাটমানি’ কারবারের প্রধান কারবারি বলে চিহ্নিত করেছেন। শুধুু তিনি নন, মুখ্যমন্ত্রীর ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের অন্যদের তরফে বিশাল আর্থিক লুটপাট নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন ও কাটমানি নিয়ে শে^তপত্র প্রকাশের দাবি তুলেছেন।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে গোটা তৃণমূল দলটি এখন কাটমানির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক অভিযুক্ত চোরেদের দল। এমনিতে ভোটে ভরাডুবির পরে দলে দলে লোকজন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ঢুকে পড়ছে। তার ওপর এই কাটমানি বিক্ষোভের দরুন জনমানসে গোটা তৃণমূল দলটাই এখন মস্ত ভিলেনে পরিণত। অথচ এর সবটাই শুরু মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সূচনা থেকে এবং তারপর এত কিছু ঘটে চলা সত্ত্বেও তিনি সম্পূর্ণ নির্বিকার, নিশ্চুপ। কিন্তু কেন? না তৃণমূলের লোকজন, না সাধারণ মানুষ, না মিডিয়া- কেউই ঠাহর করে উঠতে পারছে না গোটা বিষয়টির পিছনে মমতার কী উদ্দেশ্য।
অবশেষে মমতার ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ বলে পরিচিত ছোট্ট বৃত্তের গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এক ব্যক্তির সূত্রে জানা গেল, রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা এই কাটমানির মহাপ্রহসনের পিছনে আছেন মহানির্দেশক প্রশান্ত কিশোর। তিনি ভোটের বাজারে ভেল্কি দেখাতে ওস্তাদ বলে ইতোমধ্যে পরিচিত। ২০১৪ সালে দেশজুড়ে মহা মোদি ঝড় তুলে কেন্দ্রে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা প্রশান্ত কিশোরেরই কৃতিত্ব বলে সবাই জানে। এরপর উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে বিপুল সমর্থন নিয়ে বিজেপির সরকারে আসা প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনামাফিক কৌশলেরই সুফল বলে মনে করে সবাই। আর সর্বশেষ, অন্ধ্র। সেখানে তারই ছকে দেওয়া স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো ডাকসাইটে শক্তিকে হারিয়ে রীতিমতো ঝড় তুলে বিজয় লাভ করলেন জগমোহন রেড্ডি। শোনা যায় উদ্যোগটা না-কি ভাইপোর মস্তিষ্কপ্রসূত। লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর গোটা দলে পার্টির সবাই যখন হয় দুশ্চিন্তায় মুহ্যমান অথবা পদ্দশিবিরে ঝাঁপ দেবার প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখন অভিষেক লেগে পড়লেন কীভাবে দলকে এই শোক-সাগর থেকে তুলে এনে ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে জয় ধরে রাখা সম্ভব করা যায়। অভিষেকেরই ভাবনা অনুযায়ী মমতা রাজি হয়ে যান ও ডেকে পাঠানো হয় প্রশান্ত কিশোরকে। পরদিনই তিনি চলে আসেন নবান্নে। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তার সঙ্গে মমতার কথা বলার সময় দ্বিতীয় ব্যক্তি বলতে ছিলেন শুধু অভিষেক। মিডিয়ায় প্রচারিত হয় আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে স্ট্রাটেজিটের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। নবান্নের বৈঠকে যোগ দিতে আসার আগেই এ রাজ্যের হালফিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিয়েই এসেছিলেন। মমতার সঙ্গে ‘ডিল’ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নেমে পড়ে প্রশান্তর টিম। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সংগৃহীত নমুনা-রিপোর্ট অনুযায়ী প্রশান্ত কিশোর বুঝে যান, এ-মুহূর্তে তৃণমূল দলটি সবদিক থেকে একটা কালিমালিপ্ত চেহারায় পরিণত হয়েছে। এ থেকে দলকে উদ্ধার করে আবার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে দরকার এক বিশেষ ঝট্কা। ঝট্কার সেই দফাই হলো ‘কাটমানি’।
প্রশান্ত কিশোরের কৌশল হলো গোটা তৃণমূল দলটাই সম্পূর্ণভাবে ভাবমূর্তি খোয়ানো দলে পরিণত। এই দলের নিশ্চিত ভবিতব্য হলো দলের বেশিরভাগ অংশটাই চলে যাবে বিজেপিতে। আর যারা আপাতত বিজেপিতে চলে যাবে না, তারাও ঢলে থাকবে পদ্মশিবিরের দিকেই। ফলে তৃণমূলের বর্তমান এই কাঠামোকে দিয়ে আর কিছু হবার নয়। তাই প্রশান্ত কিশোরের কৌশল হলো- জনগণের কাছে চোর, বাটপাড়, লুটেরা, তোলাবাজ ও কাটমানি খাওয়ার মানুষ বলে প্রতিষ্ঠিত এসব বাজে দল থেকে বিদায় হোক। আর দলকে দুর্নীতিমুক্ত ও সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন হিসেবে গড়ে তোলা এক নব কর্মযজ্ঞের সূচনা করা হোক, যার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন ‘মা মমতা’। প্রশান্ত কিশোরের লক্ষ্য হলো রাজ্যবাসীর কাছে এটাই প্রতিষ্ঠা করা- তৃণমূল চোর আর মমতা ‘চোর-তাড়–য়া’। ভোট বিশারদের ছকে দেওয়া সেই চিত্রনাট্য অনুযায়ীই নিপুণ ভঙ্গিমায় অভিনয় করে চলেছেন মমতা।
টাকার অঙ্কটা না-কি ৪০০ কোটি টাকা। এবারের লোকসভা ভোটে গো-হারা সত্ত্বেও ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জিতিয়ে দিতে দাওয়াই বাতলানোর ডাকসাইটে ওঝা প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে ডিল হয়েছে না-কি ৪০০ কোটি টাকার। কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ওঝা। তার প্রথম দাওয়াই অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানি খাওয়া তৃণমূল নেতাদের অবিলম্বে টাকা ফেরত দেবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সুপরিকল্পিত এই নাটুকে ঘোষণা অনুযায়ী ইতোমধ্যে রাজ্যের জেলায় জেলায় কাটমানি খাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে মারমুখী বিক্ষোভ ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছে, যার ফলে গোটা তৃণমূল দলটাই লাটে ওঠার জো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে প্রশান্ত কিশোরের এই ঘোষণা করাবার উদ্দেশ্য ছিল, তৃণমূল দলটা ইতোমধ্যে জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত ও ঘৃণিত বলে পর্যবসিত। এ অবস্থা থেকে উঠে এসে নতুন করে দলকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রশান্ত কিশোরের দাওয়াই অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগা পাশতলা সৎ। নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি হিসেবে প্রমাণিত করতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ অনুযায়ী মমতা বাজারে ছেড়েছিলেন তার কাটমানি ঢপ। কিন্তু সেই ঢপ যে এ-রকম রাক্ষুসে চেহারা নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই গোটা তৃণমূল দলটাকে গিলে ফেলার উপক্রম করবে তা বুঝে উঠতে পারেন নি মমতা ও তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকেরা। বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা তো বটেই, মমতার চারপাশে ঘিরে থাকা তার ঘনিষ্ঠতম নেতারাও মমতাকে কাটমানি ঘোষণার এই উল্টো বিপত্তি সম্পর্কে তাদের আতঙ্কের কথা জানান। তারা প্রত্যেকেই দলনেত্রীকে বলেন, কাটমানি ঘোষণার ফলে আখেরে ভালো হবে এমন কোনো ইঙ্গিতই তো দেখা যাচ্ছে না। বরং গ্রামে গ্রামে গোটা তৃণমূল দলটাকেই যেভাবে কাটমানি আতঙ্ক গ্রাস করে ফেলেছে, তাতে অচিরেই দলটাই উঠে না যায়। তারা অবিলম্বে মমতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখতে বলেন, কীভাবে এই কাটমানি-জাল দ্রুত গুটিয়ে ফেলা যায়। প্রশান্ত কিশোরের যে পরামর্শ গত কয়েক সপ্তাহ আগে মমতা এই কাটমানি নাটকের অবতারণা করেছিলেন তাতে সে-সময় এর সুফল সম্পর্কে নিশ্চিত হলেও এখন দলনেত্রীর মনোভাব দলের অন্যদের সমান। তার মনেও এখন গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে এভাবে দলের নিচেরতলার সবাইকে ‘চোর’ প্রমাণ করে কিছুতেই দলের ভাবমূর্তি ফেরানো সম্ভব নয়। বরং এ উল্টো ফলই ঘটে চলেছে। এই সংশয়ের অবস্থান থেকে তিনি আবার ডেকে পাঠান প্রশান্ত কিশোরকে। সেইমতো নবান্নে হাজির হন প্রশান্ত কিশোর। রুদ্ধদ্বার কক্ষে তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন মমতা ও অভিষেক।
রুদ্ধদ্বার সেই বৈঠকে সঠিক কী কথা হয়েছিল তা না মমতা-অভিষেক, না প্রশান্ত কিশোর কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেন নি। তবে বৈঠক শেষে সকলেরই যে উদ্বিগ্ন মুখম-লের ছবি মিডিয়াম্যানদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে, তাতে দেখা যায় মমতা-অভিষেক ও প্রশান্ত কিশোর সকলেই এ নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত। তবে তারা কিছু না বললেও ইতোমধ্যে গোটা তৃণমূল দলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে দলনেত্রীর এই কাটমানি নাট্যের বিরুদ্ধে। মুখে বলার সাহস না থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু আড়ালে তারা প্রত্যেকেই বলছেন, লোকসভা ভোটে ব্যাপক পরাজয়ের পরও দলের যেটুকু অস্তিÍত্ব ছিল, তাও ডুববে মমতার এই স্বখ্যাত কাটমানি-সলিলে। জেলায় জেলায় সর্বত্র একদিকে যেমন বিজেপি’র নেতৃত্বে অথবা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাটমানি নেওয়া তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল, তখন পাশাপশি তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের ক্ষোভ ফেটে পড়ছে দলনেত্রীর বিরুদ্ধেও। তারা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না, কেন মমতা নিজে হাতে দলের এই সর্বনাশ করতে গেলেন। কিন্তু এসব হা-হুতাশ করেও এখন কোনো লাভ নেই। কাটমানি নিয়ে রাজ্যজুড়ে পরিস্থিতি যেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে এখন আর কারও পক্ষেই এই জাল গুটিয়ে আনা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এ ব্যাপারে প্রশান্ত কিশোরের পক্ষ থেকেও ‘অ্যান্টিডোট’ বাতলানো।
এদিকে প্রশান্ত কিশোরের সাহায্য নিয়ে ২০২১ সালে তৃণমূলের ভোট বৈতরণী পার করার এই উদ্যোগকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেছেন, কে এই প্রশান্ত কিশোর? সুপার চিফ মিনিস্টার না-কি তিনি? উত্তরপ্রদেশে সপা-কংগ্রেসকে এই তো ডুবিয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রশান্তকে ৪০০ কোটি টাকা না দিয়ে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ একদিকে তিনি পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ, অন্যদিকে রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলো লাটে ওঠার জোগাড়।”

লেখক : ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯