যুক্ত কর হে যোগের সঙ্গে

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১১:৫৫ | আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১২:০২

মথুরানাথ কুন্ডু

যা আমাদের দেহ মন প্রাণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুস্থ রাখে, নীরোগ ও নিরাময় করে, যা আমাদের সকল কাজকর্মের মধ্যে শান্ত সুষম ছন্দ সঞ্চার করে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের গ্লানি থেকে মুক্ত করে এবং সর্বোপরি যা আমাদের দেহে মনে আবদ্ধ আমিত্বকে দেহ মনের সুদূর পারে অসীমের সঙ্গে যুক্ত করে, সেই যোগের সম্বন্ধে আমাদের না জানা বা বেঠিক জানার অন্ত নাই। এই ক্ষুদ্র নিবন্ধ কিছু ভ্রান্ত ধারণার নিরসন ঘটিয়ে সত্যকে উপস্থাপন করবার সামান্য প্রয়াস।
প্রচারমাধ্যমের কল্যাণে আজকাল কয়েকটি যোগাসন এবং প্রাণায়াম প্রায় সকলেই জেনে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ভাবেন যোগের আদ্য, মধ্য এবং অন্ত তাদের করতলগত। এমন কী তাদের যোগশিক্ষক হবার যোগ্যতাও যথেষ্ট। ব্যাপারটা ঠিক অতটা সহজ নয়। হাজার হাজার বছর আগে যখন প্রচলিত সুগঠিত ধর্মগুলির উদ্ভব ঘটেনি তখন কিছু মানুষের অদম্য স্পৃহা, জীবনজিজ্ঞাসা এবং নিরন্তর সাধনার ফলে আমাদের এই অবিভক্ত উপমহাদেশে যোগের অভ্যুদয় ঘটেছিল। তাদের শরীর এবং মন-প্রাণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ বিজ্ঞানসম্মত সত্য আমাদের বিস্ময়ে হতবাক করে দেয়। বিজ্ঞানের বিশেষত পদার্থ-বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম আবিষ্কার আমাদের সেই বিস্ময় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মনে করা হয় পৃথিবীর প্রাচীনতম সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকেই যোগের প্রচলন ঘটেছিল। বৈদিক যুগে যোগের বহুল ব্যবহার হতো এবং বুদ্ধদেবের সাধনা ও শিক্ষণ যোগের দ্বারা বহুলাংশে প্রভাবিত। অতি প্রাচীনকালেই যোগ চীন, জাপান, তিব্বত এবং অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন রূপ পায়।
কালক্রমে মহতী যোগের বহমান ধারাটি লুপ্ত না হলেও ক্ষীণ হয়ে পড়ে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকা এবং ইউরোপে বিশুদ্ধ যোগের বহুল প্রচার করেন। পরবর্তীকালে পরমহংস যোগানন্দ তার প্রতিষ্ঠিত স্থাপনা সেলফ রিয়েলাইজেশন ফেলোশিপের মাধ্যমে লস এঞ্জেলেস থেকে যোগের একটি সুন্দর শিক্ষাক্রম তৈরি করে দূরশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় যোগের প্রচার করেন। শ্রীঅরবিন্দ তার যোগ-সমন্বয় (Synthesis of Yoga) মহাগ্রন্থে যোগের নানাদিক নিয়ে বিস্ময়করভাবে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। কৌতূহলী পাঠক উক্ত গ্রন্থটি পড়ে দেখতে পারেন। সাম্প্রতিককালে আমেরিকা এবং ইউরোপে রাজযোগের রহস্যজনক শিক্ষাসমূহ নামে-বেনামে বহুল প্রচার পেয়েছে। তবে সব দেশেই হঠযোগের আসন, মুদ্রা, প্রাণায়াম বিকল্প নিরাময় পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত এবং গৃহীত হয়েছে।
বিশুদ্ধ যোগের আদিগ্রন্থ প্রামাণিক তত্ত্ব পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগসূত্রে। যোগের ব্যবহারিক দিক নিয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা রয়েছে গীতায় এবং আসন, মুদ্রা, প্রাণায়াম সম্বন্ধে প্রক্রিয়ামূলক এবং সামগ্রিক তথ্য পাওয়া যায় হঠযোগ প্রদীপিকা গ্রন্থে। আমি পাঠকদের উক্ত গ্রন্থগুলো অনুবাদে হলেও পড়ে দেখতে বলব।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে যোগ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয় এবং এটি কোনোভাবেই হিন্দু ধর্মের সোপান নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে মানবিক, প্রক্রিয়ামূলক এবং বিজ্ঞানসম্মত। যোগের সঙ্গে কোনো ধর্মেরই কোনো বিরোধ নেই। বরং এটি বিভিন্ন ধর্ম বিশ^াসীদের নানাভাবে সাহায্য করতে পারে। যোগে কোনো মতামত চাপিয়ে দেওয়া হয় না এবং একটি বন্ধনহীন উন্মুক্ত মন তথা মনশূন্যতায় অবস্থানের প্রচেষ্টা করা হয়।
দেহ, মন এবং প্রাণের মধ্যে ভারসাম্য এনে আমাদের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ ঘটানোই যোগের লক্ষ্য। এখানে পুঁথিগত জানার প্রতি জোর না দিয়ে ‘হয়ে ওঠা’র দিকে জোর দেওয়া হয়। যোগের প্রতি বিশ^াস ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আপনা থেকে গড়ে ওঠে, চাপিয়ে দেওয়া হয় না। আমরা মানুষ হিসেবে যে যেখানে আছি সেখান থেকেই সরাসরি যোগ শুরু করতে পারি।
একবার একটা চোর এক মহাযোগীর কাছে গিয়ে বলে, ‘মহাশয়, আমি একজন চোর। চুরি করেই জীবিকা নির্বাহ করি। আমার মতো লোকের পক্ষে কি যোগশিক্ষা সম্ভব?’ সেই যোগী চোরের সত্য কথায় বিস্মিত হয়ে সংক্ষেপে বললেন, ‘অবশ্যই পার। সকলেই যোগশিক্ষার অধিকারী।’ এবার চোরের অবাক হবার পালা। সে বলল, ‘কিন্তু ইতোপূর্বে আমাকে অনেকে বলেছেন যে আগে চুরি করা বন্ধ না করলে যোগ শেখা যাবে না’- এবারে যোগী একটু হেসে বললেন, ‘তোমার মধ্যে জ্ঞানের আলো নেই তাই অজ্ঞানের অন্ধকারে তুমি চুরি করতে পারছ। অন্ধকারের সাথে সরাসরি লড়াই করা যায় না। যোগের আলো তোমার মধ্যে প্রবেশ করতে দাও তাহলে আর কোনো অন্ধকার থাকবে না। সেই দিব্য আলোতে চুরি কেন, কোনো অন্যায় কাজই করতে পারবে না। তোমার অন্তরের আলোই তোমাকে সঠিক পথ দেখাবে।’
সূর্যের কিরণ যেমন স্থান কাল পাত্র বিবেচনা না করে সর্বত্র সমানভাবে আলোকিত করে তেমনি যোগের আলো আমাদের অন্তর এবং বাহিরকে যুগপৎ উদ্ভাসিত করে তোলে। একটি গাড়ি ঠিকমতো চালানোর জন্য যেমন উপযুক্ত একটি পরিবহন যন্ত্র, জ¦ালানি বা শক্তির জোগান এবং দক্ষ চালকের প্রয়োজন তেমনি আমাদের পার্থিব জীবনপ্রবাহেও একটি নীরোগ শরীর, অফুরন্ত প্রাণপ্রাচুর্য এবং পরিশীলিত মনের একান্ত প্রয়োজন। যোগ এই দেহ, প্রাণ এবং মনের ভারসাম্য বজায় রেখে আমাদের সুস্থ এবং সৃষ্টিশীল রাখে। আমাদের সবরকম রোগের মূল কারণ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্বল্পতা এবং স্ট্রেস। যোগ আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত করে এবং সর্বতোভাবে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
আমাদের দেহমনের সর্বাঙ্গীন নিয়ন্ত্রণ মূলত প্রাণের পাঁচ রকম কাজের ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলো আমাদের জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আপনা-আপনি হতে থাকে। শ^াস-প্রশ^াস, রক্ত সঞ্চালন, হজম ক্রিয়া, সংগ্রহণ এবং রেচন ক্রিয়া বিভিন্ন বায়ুর সাহায্যে ঘটে থাকে এবং এদের কোনো একটির সামান্য বৈকল্যে শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যহানি ঘটে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এ-বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নয়; কিন্তু যোগীরা প্রাচীনকাল থেকেই এগুলো নিয়ন্ত্রণের দ্বারা রোগ নিরাময় করতে জানতেন।
সমস্ত দিন সবসময় আমাদের মনে নানারকম চিন্তার উদয় হতে থাকে, যার সম্বন্ধে আমরা সচেতনভাবে অবহিত থাকি না। এসব বাজে লাগামহীন চিন্তা-স্রোতের ফলে আমাদের মানসিক শক্তির অপচয় হয়, একাগ্রতা বিনষ্ট হয়। যোগ আমাদের সবসময় মনোযোগী থাকতে শেখায় এবং বাজে চিন্তা নিয়ন্ত্রণে এনে একাগ্রতা বাড়ায়। একাগ্র মনই সমস্ত ক্ষমতা ও সৃষ্টিশীলতার উৎস। আজকাল আমরা মানবসম্পদ উন্নতির কথা বলে থাকি। যোগের মাধ্যমে শারীরিক এবং মানসিক উন্নতির দ্বারা মানবসম্পদের যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রসারণ ঘটে যা ব্যক্তি, জাতি এবং দেশের পক্ষে বিশেষ কল্যাণকর।
যোগ মানুষের চেতনার সীমাহীন প্রসার ঘটায় যার ফলে মনের অন্ধকার দূর হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৈতিক জীবনের সর্বাঙ্গীন বিকাশ হয়। এর অনিবার্য ফলস্বরূপ আমরা সহজেই স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করে, সবসময়ে মানসিক ভারসাম্য বজায় রেখে বেঁচে থাকার নতুন মাত্রা খুঁজে পাই। জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। জীবন প্রকৃত আনন্দময় হয়ে ওঠে।
সাধারণত আমরা উৎকট অহংবোধের শিকার হয়ে আমাদের কর্মজীবন এবং নশ^র পার্থিব সঞ্চয়সমূহকেই জীবন বলে ভেবে বসি। কর্মজীবন এবং বিষয়-সম্পত্তি জীবনের ক্রমবর্ধমান পরিধিমাত্র। এর কেন্দ্রবিন্দুতে আছে আমাদের আসল অবস্থান বা সত্তা, যা সদা অঞ্চল, অবিকৃত এবং অপরিণামশীল। জীবনবৃত্তের পরিধি এই সদাস্থির কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে পরিধিনিরপেক্ষ থাকতে পারে। যোগ আমাদের জীবনকে স্থির কেন্দ্রাভিমুখী করে তোলে, যার ফলে আমরা সঠিক পথ এবং কর্মনির্দেশ অন্তর থেকেই পেয়ে থাকি এবং জীবনের পরম লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হই।
যোগের জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যর কথা অনেকটা বলা হলো। এবার দেখা যাক যোগ মানে কী। যোগ শব্দটি সংস্কৃত ‘যুজ্’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার মানে যুক্ত করা। যোগ আমাদের শরীর মন প্রাণকে অন্তহীন উৎসের সঙ্গে যুক্ত করে, যার উপলব্ধি করে রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন, ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ।’
এছাড়া যোগ আমাদের সবরকম অবস্থায় সমতা রক্ষা করায়- ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতি, জয়-পরাজয় সমানভাবে গ্রহণ করতে শেখায়। তাই গীতায় বলা হয়েছে, ‘সমত্বং যোগ উচ্যতে’, যেহেতু যোগের মাধ্যমে সমস্ত কাজে কুশলতা আসে তাই গীতায় আরও বলা হয়েছে ‘যোগ কর্মসু কৌশলম।’ তবে যোগের সবচেয়ে বড় সংজ্ঞা পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগসূত্রেÑ ‘যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধঃ।’ আমাদের চিত্ত সবসময়ে প্রমাণ, বিকল্প, বিপর্যয়, নিদ্রা ও স্মৃতি- এই ৫টি বৃত্তির মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এই বৃত্তিগুলোর সমূহ নিরোধ হলে আমরা মনশূূন্যতায় অবস্থান করি। সেটাই আমাদের প্রকৃত স্বরূপ- ‘তদা দ্রষ্টুঃস্বরূপে অবস্থানম।’ সুতরাং সেই চরম মনশূন্যতায় উত্তরণ করাই যোগের পরম লক্ষ্য। তখন আমরা দেহমনের সুদূর পারে নিজেকে হারিয়ে সমগ্র বিশ^চেতনার সঙ্গে একাত্ম বোধ করি।
স্বাভাবিকভাবেই যোগ নানা প্রকারের এবং অধিকারী ভেদে আমাদের যোগের পথও আলাদা হতে পারে। যেহেতু আমাদের সকলেরই একটি স্বাস্থ্যবান, নীরোগ শরীরের প্রয়োজন তাই প্রারম্ভিক যোগ হলো হঠযোগ। এটি আসন, মুদ্রা, প্রাণায়াম ও বন্ধের অভ্যাসের ফলে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং নানারকম দুরারোগ্য রোগও নিরাময় করে। রোগ প্রতিরোধ, নিরাময় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখাই হঠযোগের লক্ষ্য, তাই এটিকে রাজযোগের ঐচ্ছিক সোপান বলে গণ্য করা হয়। অবশ্য হঠযোগ ছাড়াও রাজযোগের সার্থক অভ্যাস করা যায়। রাজযোগ মূলত মানসিক এবং অন্তঃপ্রকৃতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনে। যেহেতু এটি অতিদ্রুত ফলদায়ী এবং প্রত্যক্ষ পথ, তাই এটিকে রাজযোগের মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি অষ্টাঙ্গযোগের পথ যথা- যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি।
এছাড়া আমরা নিয়ত আত্মানুসন্ধানের মধ্য দিয়েও যোগের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি। এটি বিচারধর্মী এবং জ্ঞানযোগের পথ। যারা স্বভাবতই ভক্তিপ্রবণ, ধার্মিক এবং ঈশ^র বিশ^াসী তাদের জন্য সহজপথ ভক্তিযোগের মাধ্যমে ঈশ^রে সমস্ত কিছু মানসিকভাবে সমর্পণ করা। তখন আমাদের ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ এবং কামনা-বাসনার নিরসন ঘটে। কবি গেয়েছেন, ‘তোমারি ইচ্ছা হউক পূর্ণ আমার জীবন মাঝে।’ জীবন তখন পাল তোলা নৌকার মতো অনায়াসে ঈশ^রনির্ভর হয়ে এগিয়ে চলে।
যদি আমরা ব্যক্তিগত লাভালাভের হিসাব না করে সুষ্ঠুভাবে নিজের কাজ করে যাই এবং নিজেকে মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে নিয়োজিত রাখি, তাহলে সেটি হবে কর্মযোগের পথ যা সবসময়ে কঠিন। তবে প্রকৃতি এবং রুচিভেদে আমরা যে যোগপথই অবলম্বন করি না কেন উপরিউক্ত পথগুলো একে-অন্যের পরিপূরক এবং এদের মধ্যে কোনো বিরোধিতা নেই এবং একটি যোগের নিষ্ঠাসম্পন্ন অভ্যাসের সঙ্গে সঙ্গে যোগের অন্য পথগুলোরও সমন্বয় ঘটে থাকে।
যোগের সবচেয়ে বড় ফল হলো সর্ববিধ দুঃখের সম্পূর্ণ নিবৃত্তি। মহর্ষি পতঞ্জলি বলেছেন, আমাদের সমুদয় দুঃখের কারণ ৫টি- অবিদ্যা, অস্মিতা, রাগ, দ্বেষ ও অভিনিবেশ। প্রকৃত জ্ঞানের অভাব, অহংবোধে আবদ্ধ থাকা, নানা বিষয়ে আসক্তি বা বিদ্বেষ এবং মৃত্যুভয় আমাদের দুঃখ দেয়। এগুলো জয় করতে না পারলে প্রকৃত আনন্দ বা শান্তির সন্ধান পাওয়া যায় না। এগুলো সম্যকভাবে দূর করার সার্থক উপায় হচ্ছে যোগ।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যোগের দ্বারা আমাদের দেহমন সুস্থ ও নীরোগ থাকে, মানসিক ক্ষমতার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ হয়, জীবন একটি সুষম ছন্দে ও আনন্দে ভরপুর হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপথে এগোতে থাকে। তাই আমরা রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গাই- ‘যুক্ত কর হে যোগের সঙ্গে মুক্ত কর হে বন্ধ, সঞ্চার কর সকল কর্মে শান্ত তোমার ছন্দ।’

লেখক : ভারতের প্রাবন্ধিক, যোগচর্চাকারী

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯

  • ৩ অক্টোবর ২০১৯

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯