চিকুনগুনিয়া নিয়ে কিছু কথা

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৭, ১৫:১৭

অনলাইন ডেস্ক

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

ঘরে ঘরে এখন চিকুনগুনিয়া, যা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, বাস-ট্রেন, আড্ডা, এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একই আলোচনা। এ শতাব্দীর শুরুতে ডেঙ্গু যখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, তাও এরকম আলোড়ন তুলেছিল। আর বর্তমানে শোরগোল চলছে চিকুনগুনিয়ার ভয়াবহতা নিয়ে সর্বত্র। রোগটি ভয়াবহ বা জীবনঘাতী নয়, চিকিৎসকদের এমন শত আশ্বাসবাণী সত্ত্বেও জনগণ মোটেই ভরসা রাখতে পারছেন না। হঠাৎ করে এ রোগের প্রকোপ এত বেড়ে গেছে যে, মানুষের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক পরিবারের কারও হলে অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগটি মহামারী না হলেও এটা যে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।
চিকুনগুনিয়া কেন হয় : রোগটি ভাইরাসজনিত, ডেঙ্গু জ্বরের মতো এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস এ্যালবোপিক্টাস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানব শরীরে প্রবেশ করে। চিকুনগুনিয়া মানবদেহ থেকে মশা এবং মশা থেকে মানবদেহে ছড়ায়। মানুষ ছাড়াও বানর, পাখি, তীক্ষè দন্তপ্রাণী, যেমন ইঁদুরে এই ভাইরাসের জীবনচক্র বিদ্যমান। মশা কামড় দেয়ার ৪ থেকে ৮ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
চিকুনগুনিয়ার ইতিহাস : চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত অসহনীয় ব্যথা সংবলিত জ্বর। প্রথম ১৯৫২ সালে আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব তানজানিয়া ও উত্তর মোজাম্বিক বর্ডার এলাকায় মাকন্ডি জাতির মধ্যে পাওয়া যায় এই ভাইরাস। ২০০৬ সালে ভারতে কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয় এই ভাইরাসে। ২০০৭ সালে ইতালি, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে রোগটির প্রাদুর্ভাব ছিল ভয়াবহ। ২০১৫ সালে আমেরিকার বহু দেশে রোগটির ভয়াবহতা টের পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম চিকুনগুনিয়ার রোগী শনাক্ত হয়। ২০১১ সালেও দোহারে কিছু লোক আক্রান্ত হয়। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০১৭ সালে রোগটি রাজধানীতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মূলত আফ্রিকা, এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশে এই রোগের প্রকোপ বেশি।
নামটি চিকুনগুনিয়া কেন : শব্দটি আফ্রিকান। রোগটিকে মাকন্ডি জাতির স্থানীয় ভাষায় বলা হয় কিমাকন্ডি, যার অর্থ ‘টু বিকাম কনটরটেড বা দুমড়ানো অবস্থা’। অনেকটা ‘ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া’। আসলে ব্যথার তীব্রতায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, রোগী ধনুকের মতো সামনে বেঁকে হাঁটে। এই জ্বরকে স্থানীয় ভাষায় ‘ল্যাংড়া জ্বরও’ বলা হয়। কারণ, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে বা গিরায় এত ব্যথা হয় যে, রোগীকে পঙ্গু করে ফেলে।
চিকুনগুনিয়ার মূল সমস্যা বা লক্ষণ কী : রোগের শুরুতে প্রচ- জ্বর, বমিবমি ভাব বা বমি, মাথাব্যথা, শরীর দুর্বল, শরীরে লাল র‌্যাশ এবং সর্বশরীরে বিশেষ করে মাংসপেশি, মেরুদ- বা অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা, এমনকি ফোলাও থাকে। যার কারণে চলাফেরা কঠিন হয়ে যায়। প্রচ- জ্বরে রোগী অচেতনও হতে পারে। তিন-চার দিনের মাথায় জ্বর সেরে যাওয়ার পরও অনেকেই দুর্বলতা, অরুচি এবং বমিভাব অনুভব করেন। কারও কারও ভাষায় জীবনের প্রতি চলে আসে বিতৃষ্ণা। আবার কিছু রোগী তীব্র গিঁটের ব্যথায় ভোগে, ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই সমস্যা কয়েক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার লংটার্ম ইফেক্ট কী : চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরোগ্য লাভ করে। ১০ শতাংশের কম রোগী জ্বর চলে যাবার পরও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট বা গিরায় এবং মাংসপেশিতে প্রচ- ব্যথায় ভোগে, যাদের অধিকাংশই দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই দ্রুত আরোগ্য লাভ করে। স্বল্পসংখ্যক রোগী কয়েক মাস পর্যন্ত মারাত্মক ব্যথায় ভুগতে পারে। ব্যথার তীব্রতা এতই বেশি যে, আক্রান্তদের অনেকেই দীর্ঘদিনের জন্য স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ এর তীব্রতা অনুভব করতে পারবে না। অনেক রোগী এমনভাবে বলে যে, তাদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভর্তা বানিয়ে ফেলা হয়েছে।
শনাক্তকরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কী জরুরি : লক্ষণগুলো দেখে খুব সহজেই রোগ শনাক্ত করা যায়। ৫-৭ দিন পর রক্তে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হয়, যা ৫-৭ দিন পর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই সময়ের আগে পরীক্ষাটি করলে পজিটিভ হবার সম্ভাবনা কম। আর-টি-পিসিআর এবং সেরোলজির মাধ্যমে ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। রোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে এই পরীক্ষাগুলো করার প্রয়োজন নেই এতে চিকিৎসায় কোনো লাভ হবে না। তবে রক্তের কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করা উচিত জ্বরের ৪-৫ দিন পর।
চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা কী : চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। একটি বা দুটি ট্যাবলেট তিন বেলা অথবা সাপোজিটরি ব্যবহার করা যায়। পানি দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করা এবং রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। প্রচুর পানি, ডাবের পানি, শরবত, গ্লুকোজ, স্যালাইন, স্যুপ জাতীয় তরল খাদ্য এবং স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে : পাঁচ দিনের বেশি জ্বর থাকলে, শরীরে বেশি র‌্যাশ উঠলে, অস্থিসন্ধির তীব্র ব্যথা থাকলে, প্রেসার দ্রুত ওঠানামা করলে, প্র¯্রাব অনেক কমে গেলে, শরীরের কোথাও রক্তপাত এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত হবে না।
গিঁটে ব্যথা থাকলে করণীয় : অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ভারী কাজ কম করা এবং বিশ্রামে থাকতে হবে। তবে হালকা সহনীয় ব্যায়াম করা ভালো। প্লাস্টিকের ব্যাগে ঠা-া বরফকুচি দিয়ে সেঁক দিলে ব্যথা উপশম হয়। গরম সেঁক পরিহার করতে হবে। হালকা মেসেজ এবং ফিজিওথেরাপি নেয়া যেতে পারে। প্যারাসিটামল খেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যথা নিরাময় হয়। অন্য ব্যথার ওষুধ যেমন আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন কোনোক্রমেই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাওয়া উচিত নয়।
স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে কী : স্টেরয়েডের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন দীর্ঘস্থায়ী, এমনকি মারাত্মক ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শর্ট কোর্স স্টেরয়েড দেয়া যেতে পারে।
ত্বকে র‌্যাশ হলে করণীয় : জ্বর কমে গেলে ২-৩ দিন পর এমনিতেই র‌্যাশ কমতে থাকে। অনেকের তীব্র চুলকানি এবং ত্বকের রং কালচে হতে পারে। সেক্ষেত্রে এ্যান্টি হিস্টামিন, কেলামিন লোশন ব্যবহার করা যায়। তীব্র চুলকানি হলে চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
অতিরিক্ত দুর্বলতায় করণীয় : অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতো চিকুনগুনিয়াতেও শরীরের মেটাবলিক সিস্টেমে বিঘœ, শরীরে পুষ্টি ঘাটতি, শরীর দুর্বল এবং অনেকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নতুন অন্য অসুখ বা সেকেন্ডারি ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রচুর তরল জাতীয় খাবার যেমনÑ শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস, ডাল, স্যুপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে স্বাভাবিক যে কোনো পুষ্টিকর খাদ্য দেয়া যাবে। ভিটামিন সি-যুক্ত ফল যেমন কমলা, মাল্টা, লেবু, জাম্বুরা, আনারস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করবে। তারপরও দুর্বলতা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরী : বয়স্করা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে যথেষ্ট ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, হৃদরোগ, ক্যানসার, হাঁপানি ইত্যাদি, চিকুনগুনিয়া হলে তারাই মূলত হাই রিস্কের মধ্যে থাকেন। বয়োবৃদ্ধদের রোগ প্রতিরোধ ও সহ্য করার ক্ষমতা অনেক কম। তাদের চিকুনগুনিয়া হলে গিরায় গিরায় যে প্রচ- ব্যথা হয় তার ধকল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও আলাদা চিকিৎসা নেই, তবুও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। তারা যেন শুধু প্যারাসিটামল খেয়ে ঘরে শুয়ে না থাকেন।
এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবে কি না : চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে এন্টিবায়োটিক দিলে রোগীর অবস্থা খারাপ হবে এমন ভুল বোঝাবুঝি অনেকের মধ্যে আছে। যেহেতু এই রোগ ভাইরাসজনিত, তাই এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই। তবে অন্য কোনো রোগ, যেমন টাইফয়েড, প্র¯্রাবের বা বুকের ইনফেকশন বা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে প্রয়োজনে চিকিৎসক এন্টিবায়োটিক দিতে পারবেন। এতে চিকুনগুনিয়ায় কোনো জটিলতা হবে না।
গর্ভাবস্থায় চিকুনগুনিয়া কি বিপজ্জনক : গর্ভাবস্থায় চিকুনগুনিয়া হলে অন্য উপসর্গগুলো ছাড়াও মুখে ঘা, পাতলা পায়খানা, রক্ত জমে যাওয়া ও রক্তচাপ কমার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত বমি, খিঁচুনিসহ অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। গর্ভের শিশুর ক্ষতি, এমনকি গর্ভপাতও হতে পারে। তাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
স্তনদানকারী মা ও শিশুর যত্ন : এক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা ও যত্ন নিতে হবে। বুকের দুধের মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া ছড়ায় না। তাই আক্রান্ত মায়ের শিশুকে বুকের দুধ দিতে কোনো বাধা নেই।
জ্বর সেরে গেলে শরীরে কতদিন ভাইরাসটি থাকে : চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস সাধারণত এক সপ্তাহ পর্যন্ত শরীরে বা রক্তে বিদ্যমান থাকে। এ সময় এডিস মশা রোগীকে কামড় দিলে সেই মশার মাধ্যমে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। অর্থাৎ সংক্রমিত মশা থেকে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৫-৭ দিন পর রক্তে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হয়। এরপর শরীরে আর ভাইরাস থাকে না।
চিকুনগুনিয়া কি ছোঁয়াচে : রোগটি মোটেই ছোঁয়াচে নয়, মশার কামড়ের মাধ্যমে হয়। আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে থাকলে, এক বিছানায় ঘুমালে, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করলে রোগ ছড়াবে না। তবে আক্রান্তের সাত দিনের মধ্যে মশা কামড়িয়ে সঙ্গে সঙ্গে পাশের আরেকজনকে কামড়ালে রোগ ছড়াতে পারে।
চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুঝুঁকি নেই কথাটি কতটুকু সত্য : চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি নেই। তবে যারা অন্যান্য রোগে ভোগেন, যেমন ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভারে রোগ, হৃদরোগ, ক্যানসার, হাঁপানি ইত্যাদি, তাদের বেলায় রোগটি ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতিরোধ কীভাবে করা যায় : চিকুনগুনিয়া জ্বরের কোন প্রতিষেধক, ভ্যাকসিন বা টিকা এখনও আবিষ্কার হয়নি। এই রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রতিরোধের গুরুত্বটাই বেশি। রোগ থেকে উদ্ধার পাওয়ার একটাই উপায় মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করার জন্য মশার আবাসস্থল এবং আশপাশের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা। অর্থাৎ ব্যক্তিগত সতর্কতা এবং মশা প্রতিরোধটাই জরুরি।
ব্যক্তিগত সতর্কতা : এডিস মশা মূলত দিনের বেলা কামড়ায়, তবে রাতে বেশি আলো থাকলেও কামড়াতে পারে। মশার কামড় থেকে বাঁচার উপায় হলো শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখা, যেমনÑ ফুলহাতা শার্ট এবং ফুলপ্যান্ট পরা, দিনে ঘুমালে মশারি ব্যবহার করা, স্প্রে, লোশন, ক্রিম, রিপেল্যান্ট ব্যবহার করা এবং দরজা-জানালায় নেট লাগানো ইত্যাদি।
বসতবাড়ির মশা নিধন : যে কোনো পাত্র, ফুলের টব, বাথরুম, ফ্রিজ বা এসির নিচে, বারান্দায় বা ছাদে জমে থাকা পানি ৩ থেকে ৫ দিন পরপর পরিষ্কার করলে এডিস মশার লার্ভা মারা যায়। পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ঘষে পরিষ্কার করলে ভালো। অব্যবহৃত পাত্র উল্টে রাখা উচিত, যাতে পানি জমতে না পারে।
বসতবাড়ির বাইরে মশার বংশ বিস্তার রোধ : ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারির শেল, পলিথিন বা চিপসের প্যাকেট ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। নোংরা পুকুর বা ডোবা পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের বেলায় স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে; কিন্তু চিকুনগুনিয়ায় মশা নোংরা অপরিষ্কার পানিতেও ডিম পাড়তে পারে। তাই পানি জমে থাকে এমন সকল স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। মশা নিধনের স্প্রে বা ফগিংয়ের মাধ্যমে মশার বংশ বিস্তারের স্থান ধ্বংস করতে হবে। আসলে মশা নামক ক্ষুদ্র প্রাণীটি মহানন্দে তার বংশ বৃদ্ধি করছে এবং বেশ দাপটের সঙ্গেই চিকুনগুনিয়া রোগটি ছড়াচ্ছে সর্বস্তরে। শিশু-বৃদ্ধ, ধনী-গরিব, মন্ত্রী-এমপি-ভিআইপি, পেশাজীবী-ডাক্তার-সাংবাদিক-শ্রমিক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, চিকন-মোটা এক কথায় সব শ্রেণির মানুষ কারোরই ছাড় নেই, সর্বক্ষেত্রে ‘সাম্যবাদী’। জেমস শারলের কবিতা ‘ডেথ দ্য লেভেলার’-এর মতো বলা যায়, ‘চিকুনগুনিয়া দ্য লেভেলার’। রোগটি নতুন হলেও আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এতে কেউ মারা যায় না। হয়তোবা কিছুদিন ভোগায়। তবে জীবন-বিধ্বংসী না হলেও রোগটিকে হেলাফেলা করা উচিত নয়। একটু সচেতন হলেই মোকাবেলা করা সম্ভব।
লেখক : অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯