এইচএসসিতে ফল ছন্দপতন

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৭, ১৫:৪৩

অনলাইন ডেস্ক

এবার আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫.৬৩ শতাংশ কমেছে। এ ধরনের ফল খারাপ হওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা বলছেন। আবার বিজ্ঞান বিভাগে ফল তুলনামূলক কিছুটা ভালো হলেও মানবিকের ফল ভয়াবহ রকম খারাপ হয়েছে। সাপ্তাহিক ‘বাংলা বিচিত্রা’র প্রতিবেদন।

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। সিলেট ও বরিশাল বাদে দেশের বাকি ৮টি সাধারণ বোর্ডেরই ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডের ফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। পাসের হার, জিপিএ-৫, শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই এবার নেতিবাচক ফল করেছে শিক্ষার্থীরা। ফল খারাপ হওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা বলছেন। আবার বিজ্ঞান বিভাগে ফল তুলনামূলক ভালো হলেও মানবিকের ফলাফলে ভয়াবহ রকমের বিপর্যয় সামগ্রিক ফলকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে।
এবার সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে পরীক্ষায় ৮টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে পাসের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বোর্ডে। এ বোর্ডে ৭২ শতাংশ পাস করেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হারে ধস নেমেছে কুমিল্লা বোর্ডে। এখানে পাস করেছে মাত্র ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এছাড়া ঢাকা বোর্ডে ৬৯ দশমিক ৭৪, রাজশাহী বোর্ডে ৭১ দশমিক ৩০, যশোর বোর্ডে ৭০ দশমিক ২, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬১ দশমিক ৯, বরিশাল বোর্ডে ৭০ দশমিক ২৮ ও দিনাজপুর বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ পাস করেছে। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ ও কারিগরি বোর্ডে ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার সারাদেশে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ১৮ হাজার ৯৩০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সারাদেশে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন, যা গত বছর ছিল ১২ লাখ ৩ হাজার ৬৪০ জন, পরীক্ষার্থী হ্রাস পেয়েছে ৪০ হাজার ২৭০ জন। পাস করেছে ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ জন, যা গত বছর ছিল ৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন, পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৯৭ হাজার ৪৩৯ জন। শতকরা পাসের হারের দিক থেকে এবার পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ যা গত বছর ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। সার্বিকভাবে পাসের হার হ্রাস পেয়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার সারাদেশে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন, গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে ২০ হাজার ৩০৭ জন।
গত বছর (২০১৬) শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৮৪৮টি। এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৩২টি। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৩১৬টি। আবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ৭২টি, গত বছর যা ছিল ২৫টি। অর্থাৎ শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৪৭টি।
৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল ঘেঁটে দেখা যায়, এবার এ বোর্ডগুলোতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৮ জন। এ সংখ্যা গত বছর ছিল ১০ লাখ ৭ হাজার ৫৩ জন। হ্রাস পেয়েছে ৪২ হাজার ১১৫ জন। আবার ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন। গত বছর পাস করেছিল ৭ লাখ ২৯ হাজার ৮০৩ জন। এক্ষেত্রে হ্রাস পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৮৬১ জন। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এবার ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার হ্রাস পেয়েছে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ বোর্ডগুলোতে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৩৩ হাজার ২৪২ জন, যা গত বছর ছিল ৪৮ হাজার ৯৫০ জন,  হ্রাস পেয়েছে ১৫ হাজার ৭০৮ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল থেকে দেখা যায়, এ বোর্ডে মোট অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৯৬ হাজার ৮০২ জন, যা গত বছর ছিল ৮৯ হাজার ৬০৩ জন। ১০টি বোর্ডের ফলাফলে একমাত্র এ বোর্ডেই পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে পাস, জিপিএ-৫ সহ অন্য সবক্ষেত্রে অন্যান্য বোর্ডের মতোই ফল বিপর্যয় ঘটেছে মাদ্রাসা বোর্ডেও। মাদ্রাসা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী গত বছরের চেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করে ৭ হাজার ১৯৯ জন। আর পাস করেছে ৭৪ হাজার ৫৬১ জন, যা গত বছর ছিল ৭৯ হাজার ২০ জন। অর্থাৎ পাসের সংখ্যা কমেছে ৪ হাজার ৪৫৯ জন। মাদ্রাসায় পাসের হার ৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ, গত বছর এ হার ছিল ৮৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। শতকরা হিসাবে মাদ্রাসায় পাসের হার কমেছে ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ হাজার ৮১৫ জন, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪১৪ জন। কমেছে ৫৯৯ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল থেকে দেখা গেছে, আগামী বছরগুলোতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রায় কারিগরি বিভাগে শিক্ষার্থী বাড়ানোর মহাপরিকল্পনা করলেও সেখানেও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা থেকে শুরু করে পাসের হার, জিপিএ-৫ সহ সবক্ষেত্রে ফল বিপর্যয় হয়েছে। এ বোর্ডে এবার অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৯৭ হাজার ১৪ জন, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৪৮ জন। হ্রাস পাওয়ার সংখ্যা ৫ হাজার ২৩৪ জন। কারিগরি বোর্ডে পাস করেছে ৭৮ হাজার ৯০৪ জন, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার ৪৬৯ জন, কমেছে ৭ হাজার ৫৬৫ জন। এবার পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, গত বছর এ হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, কমেছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৮৭ জন, কমেছে ৩ হাজার ৯১৮ জন।
এবার দেশের বাইরে মোট ৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়া হয়। এখানে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ২৫৯ জন, উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ২৪৪ জন। পাসের শতকরা হার ৯৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ৪৬ জন। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সব শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রের তুলনায় ২ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে এবং অনুত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রের চেয়ে ৪৩ হাজার ১১১ জন কম। এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও সামগ্রিকভাবে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্রদের সংখ্যা এখনও অনেক বেশি। এবার ছাত্রদের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৫ জন। আর ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৫ জন।
আর গ্র“পভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৫২ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২০ জন। পাসের হার ৮৩ দগশমিক ১৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৫ জন। মানবিকে অংশ নেয় ৪ লাখ ৮৭ হাজার ২২৯ জন, পাস করে ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৩ জন, পাসের হার ৫৮ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭২৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৫৮১ জন। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ২৩ হাজার ৫০১ জন পরীক্ষার্থী বেশি অংশগ্রহণ করে ১৯ হাজার ৭৪৪ জন বেশি পাস করেছে এবং দশমিক ১০ শতাংশ বেশি পাস করেছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়ন রোধে বোর্ডসমূহে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধান পরীক্ষকগণের মাধ্যমে উত্তরমালা প্রণয়ন করা হয়। প্রণীত উত্তরমালার আলোকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকগণকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের গুণগতমান যাচাইয়ের জন্য একটি প্রশ্নমালা প্রধান পরীক্ষকগণকে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যেক পরীক্ষকের মূল্যায়নকৃত উত্তরপত্রের ১২ শতাংশ উত্তরপত্র প্রধান পরীক্ষকের পুনঃমূল্যায়ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল বলেও জানান মন্ত্রী। উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করায় পরীক্ষার ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে বলেও শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন। তবে একই সঙ্গে অতীতের মূল্যায়ন পদ্ধতিকে ভুল দাবি করে ফল খারাপ হলেও সঠিক মূল্যায়নের পক্ষে মন্ত্রী তার জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন এবং আগামী বছর থেকে আর যেনতেনভাবে নম্বর দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না বলেও জানান মন্ত্রী।

পাসের হার বিবেচ্য নয়, মানুষ হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরীক্ষায় কত পার্সেন্ট পাস হলো আর কত পার্সেন্ট পাস হলো না তা বিবেচ্য বিষয় নয়। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীদেরই দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এবার সব বোর্ড মিলে পাসের গড় হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার শিক্ষার অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাকে কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার শিক্ষাকে বহুমুখী করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে পাসের হার কী ছিল আর এখন কী?
পরীক্ষায় কত শতাংশ পাস হলো আর কত শতাংশ পাস হলো না তা বিবেচ্য বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি শিক্ষার গুণগতমানের প্রতি গুরুত্ব দেন। শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে। পড়াশোনায় মন দিতে হবে। অভিভাবক-শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেয়া। সন্তান যেন মাদকাসক্তিতে না যায়, জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছেলেমেয়ে কার সঙ্গে মেশে তা দেখতে হবে। পড়ালেখার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
ভবিষ্যতে পিতা-মাতা ও দেশের প্রতি আজকের শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়া শিখে শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। কারণ তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। আমরা আর কত দিন? তাদের ভালো বিজ্ঞানী, শিক্ষক হতে হবে।
সঠিক সময়ে পরীক্ষা নেয়া ও ফলাফল প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার সরকার পরীক্ষা নেয়া ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি একটা নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসেছে। ফলাফল পাওয়া নিয়েও আর ঝক্কিঝামেলা নেই। মোবাইল ও অনলাইনে ঘরে বসেই ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।

পাসে এগিয়ে ছাত্রীরা
১০টি শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে আছেন। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্য উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এখানে এগিয়ে আছেন ছাত্ররা। এবার মোট ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ১ হাজার ৭৭১ জন। গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭০.৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। ডিআইবিএস সহ এবারের মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্যে ছাত্রদের সংখ্যা ২০ হাজার ৫৩৫ জন। ছাত্রীরা জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭ হাজার ৪৩৪ জন।
এবারের ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন শুধু এইচএসসি পরীক্ষার গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এখানেও পাসের হার কমেছে। এবারের জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২৪২ জন। গতবার পেয়েছিল ৪৮ হাজার ৯৫০ জন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও গতবারের চেয়ে ফল খারাপ হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ বোর্ডে ১১ শতাংশের বেশি পাসের হার কমেছে। এখানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮১৫ জন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এখানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬৯ জন।
অবশ্য তুলনামূলক ফল খারাপে বিস্মিত নন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, এসএসসির মতো এখানে নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইলে ফলাফল জানা যাবে। ২৪ থেকে ৩০ জুলাই ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে। আগের মতোই নির্ধারিত পদ্ধতিতে টেলিটক থেকে আবেদন করতে হবে। গত ২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৫ মে এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১২ লাখ।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯