‘পদ্মা সেতু বিলম্বের দায় কে নেবে?’

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:১২

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ২৬ ফেব্রয়ারি, বাংলা বিচিত্রা : দেশের বৃহত্তম এই সেতু হলে প্রতি বছর জিডিপিতে যোগ হবে ১.২ শতাংশ। টাকার অংকে এটা ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ টাকার অংকে এই সেতু পাঁচ বছর আটকে যাওয়ায় ডিজিপিতে এক লাখ কোটি টাকা যোগ হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ। পদ্মা সেতু বিলম্বের এই দায় কে নেবে? বাংলা বিচিত্রার প্রতিবেদন-

পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এখন পর্যন্ত টাকার অংকে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্পটিকে পিছিয়ে দিল পাঁচ বছর। আরো দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে সেতুটি চালুর জন্য। ২০১৮ সালের শেষ দিকে সেতুটি চালুর কথা জানাচ্ছে সরকার।
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির এই অভিযোগের প্রমাণ পায়নি বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। কিন্তু তারপরও দমেনি বিশ্বব্যাংক। মামলা হয় কানাডার আদালতেও। সেই আদালত জানিয়ে গিয়েছে, এই প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ এনেছে তাকে ‘অনুমানভিত্তিক, গালগল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিচারক। তবে বিশ্বব্যাংক অধ্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ দমে যায়নি। নিজ অর্থায়নে সেতুর কাজ শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সেতু করছে ঠিক আছে, কিন্তু বায়বীয় অভিযোগ তুলে পাঁচ বছরে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা কে দেবে?
অর্থনীতিবিদরা বলে আসছেন, দেশের বৃহত্তম এই সেতু হলে প্রতি বছর জিডিপিতে যোগ হবে ১.২ শতাংশ। টাকার অংকে এটা ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ টাকার অংকে এই সেতু পাঁচ বছর আটকে যাওয়ায় ডিজিপিতে এক লাখ কোটি টাকা যোগ হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংক টালবাহানা শুরুর পরই বাংলাদেশ ব্যাংকের সে সময়ের গভর্নর আতিউর রহমান নিজ অর্থায়নে সেতুর কাজ শুরু করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সে সিদ্ধান্ত নিতে নিতেও বছর দেড়েক সময় চলে যায়। আতিউর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্র নিয়ে কানাডার আদালত যা বলেছে, সেটি তো আমার কাছে শুরু থেকেই এমন মনে হয়েছে। ওই সময় যদি তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ওখান থেকে সরে এসে কাজ শুরু করতাম তাহলে কিন্তু আমরা পিছিয়ে যেতাম না। এতদিনে সেতুর কাজ শেষ হয়ে যেত।’

 

পুরনো সংখ্যা
  • ২৫ জুলাই ২০১৯

  • ১১ জুলাই ২০১৯

  • ২৭ জুন ২০১৯

  • ২০ জুন ২০১৯