পূজার সাজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:১৪

অনলাইন ডেস্ক

 

এলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দশমী পর্যন্ত পালিত হয় এই পূজা। ম-পে ম-পে পূজা অর্চনা আর দেবী দর্শন করেই চলে পূজার কার্যক্রম। বাংলা বিচিত্রা-এর পূজার সাজগোজ।

“আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি
পূজার সময় এল কাছে,
মধু বিধু দুই ভাই ছোটাছুটি করে তাই
আনন্দে দু’হাত তুলি নাচে”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কবিতার সুরে আমোদিত চারদিক। আর প্রতি বছরের মতো সাজসজ্জায় এবারও যোগ হয়েছে কিছু নতুনত্ব। একঘেয়েমি নিয়মকানুন পরিবর্তন করে নতুনের ছোঁয়া দিন এবারের পূজার সাজে।
এই আনন্দের দিনে বিশেষ করে অষ্টমী থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত সাজ পোশাকের দিকে একটু বিশেষ নজর রাখতেই হয়। পূজার সাজে নিজেকে আলাদা করতে কয়েকদিন আগে থেকেই নিতে হয় প্রস্তুতি। তবেই উৎসবের দিনগুলোতে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়! আর সেই বিশেষ লুক নিয়েই এবারের পূজার আয়োজন।

অষ্টমীর সাজ
অষ্টমীর সকালটা শুরু হয় অঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে। পাড়ার ম-পে কিংবা মন্দিরে গিয়ে এদিন দেবীকে পুষ্পার্ঘ্য দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের আগ্রহটাই বেশি দেখা যায়। বাচ্চাদের জন্য একটু রঙিন ধাঁচের জামা হলেই এদিনের সাজে তাদের অন্য লুক দেওয়া যায়। এদিন বাঙালি বিবাহিত নারীরা কপালে মোটা করে সিঁদুর পরেন। চোখে কাজল টানেন। অষ্টমীর রাতে প্রায় সবাই-ই ভারি সাজে সাজতে পছন্দ করেন। শাড়ি-গহনা-মেকআপÑ সবক্ষেত্রেই থাকা চাই গর্জিয়াস লুক।

নবমীর সাজ
নবমীতে হয় সান্ধ্য পূজা। তাই সবাই সন্ধ্যার পরই মন্দিরে যান। আর সন্ধ্যার পর বলেই এদিন অনেকটা পার্টি সাজে সাজেন সবাই। ভারী গহনা, রং-বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক, ভারী মেকআপ, চুলের সাজ, তাজা ফুল এদিনের সাজের অনুষঙ্গ।

দশমীর সাজ
শারদীয়া পূজার প্রধানতম আকর্ষণ দশমী। দশমীর সাজ মানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, হলুদ পেড়ে লাল শাড়ি কিংবা একদম লাল রঙা শাড়ি। প্রায় সব বয়সী নারীদের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। অনেকে আবার প্রতীমার মতোও সাজতে পছন্দ করেন। চোখে কাজলের টানা লাইনার, লাল লিপস্টিক, স্নিগ্ধ মেকআপ আর সিঁদুর। এদিন ঠাকুরকে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়।
সাজের ক্ষেত্রে মেয়েদের সাথে সাথে ছেলেরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। পূজার শুরুর দিনগুলোতে তারা হালকা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়ে আরামদায়ক ফিতেযুক্ত স্যান্ডেল পরতে পারেন। আর শেষ দিনগুলোতে জমকালো পাঞ্জাবি, ফতুয়া পছন্দ করতে পারেন। যারা একটু অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তারা ধুতি পরতে পারেন।
ছেলেরা চুলে জেল ব্যবহার করে এ দিন ভিন্ন লুক আনতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন স্টাইলের আংটি ও ব্রেসলেট পাওয়া যায়, পরতে চাইলে হাতের জন্য পছন্দমতো ও মানানসই বেছে নিতে পারেন।
তবে সাজ যেন উগ্র ও দৃষ্টিকটু না হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই এমন পোশাকেই প্রাধান্য দেবেন। মনে রাখবেন, সাজসজ্জা ব্যক্তিকে কখনই বড় করে না; বরং ব্যক্তিই সাজসজ্জাকে ছাপিয়ে অনন্য সাধারণ হয়ে ওঠে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯

  • ৩ অক্টোবর ২০১৯

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯