ডেঙ্গু আতঙ্কে তারকারা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১২:৩৮

অনলাইন ডেস্ক


হঠাৎ করেই দেশব্যাপী ডেঙ্গুজ্বর যেন মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৫ জন। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতু্য হয়ে পাঁচজনের। এর মধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। এডিস মশার ভয়ে ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে শুটিংয়ে অংশ নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন অনেকে। উত্তরা কিংবা ঢাকার ভেতর যেকোনো শুটিং লোকেশনে কাজ করতে ঘোর আপত্তি জানাচ্ছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। এদিকে অভিনয়শিল্পীদের এমন মনোভাব প্রকাশের পর বেকায়দায় পড়েছেন ঈদের নাটকের নির্মাতারা। চ্যানেল চূড়ান্ত হলেও এখনও অনেক নাটকের শুটিং বাকি আছে। কিন্তু শেষ সময়ে শিল্পীরা এভাবে বেঁকে বসলে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচালক।

সম্প্রতি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিত্রনায়ক আলমগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তারকাদের মধ্যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে এডিস মশা বা ডেঙ্গু আতঙ্কের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন ছোট পর্দার অভিনেতা সাজু খাদেম। তিনি বলেন, এডিস মশার কারণে ঢাকার ভেতর শুটিং করতে আগ্রহ নেই অনেক অভিনয়শিল্পীর। এডিস মশার ভয়ে পুবাইল বা ঢাকার বাইরে শুটিং হলে শিল্পীরা খুশিই হচ্ছেন।' তিনি আরও বলেন, 'আমাকে যখন পরিচালক বলেন শুটিং পুবাইল কিংবা ঢাকার বাইরে হবে তখন একটু স্বস্তি লাগে। আমরা বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি পুবাইলের দিকে যেসব মশা রয়েছে সেসব এডিস মশা নয়।'

এছাড়া ঢাকার মধ্যে যেসব স্থানে শুটিং হয়, সেসব জায়গা খুব একটা ভালো না। অধিকাংশের অবস্থাই খারাপ। যত্রতত্র পানি জমে থাকে। এমনকি কিছু শুটিং হাউসের টয়েলেটের অবস্থাও খারাপ। এতে, এডিস মশার বসবাস অস্বাভাবিক নয় বলে যোগ করেন এ অভিনেতা।

এডিস মশা ও ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী তারিন জাহানও। তিনি উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা মানুষই কিন্তু আমাদের পরিবেশ নষ্ট করি। ডেঙ্গুজ্বর মহামারি রূপ নেয়ার পেছনে দায় আমাদের। সর্বক্ষেত্রেই আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

এ নিয়ে চিত্রনায়ক ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বলেন, এডিস মশা কেবল যে ঢাকার মধ্যেই জন্মে এমনটি নয়। এটি যে কোনো জায়গায় জন্ম নিতে পারে। তবে আমরা যদি এ বিষয়ে সচেতন হই তবে এডিস মশা ও ডেঙ্গু জ্বরের হাত থেকে রেহাই পাব।

শিল্পী সংঘের সভাপতি ও অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা জানি ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ ঘাবড়ে যাচ্ছে। সরকার চেষ্টা করছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে। সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও সচেতন হতে হবে। যেসব জায়গায় এডিস মশা জন্মে সে সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

অভিনেতা শহীদুজ্জামানের সঙ্গে সুর মিলান শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক অভিনেতা আহসান হাবীব নাসিম। তিনি বলেন, 'ডেঙ্গু রোধে সবার আগে নিজেদের সচেতন থাকতে হবে। ঘরের আশপাশের ময়লা-আবর্জনা, জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। সবার প্রচেষ্টাই পারে ডেঙ্গুকে নির্মূল করতে।'

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ নিজের ফেসবুকে ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে পোস্ট দেন। তিনি লিখেন, আমরা সবাই জানি যে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগ আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর সমাধানের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার প্রতিটি স্তরের মানুষের সচেতনতা এবং আমাদের বাসস্থানসহ পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা।'

মানিক সরকার / বাংলা বিচিত্রা

পুরনো সংখ্যা
  • ২৫ জুলাই ২০১৯

  • ১১ জুলাই ২০১৯

  • ২৭ জুন ২০১৯

  • ২০ জুন ২০১৯