মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দিল ভারত সরকার

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৭, ১৬:৪০

অনলাইন ডেস্ক

মুক্তিযোদ্ধাদের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী সন্তানদের মধ্যে ভারতীয় সরকার কর্তৃক শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি খুলনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এ চেক দেয়া হয়।
বৃত্তি প্রদানকালে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ভারত সরকার ২০০৬ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরীদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশিপ স্কিম চালু করে। এ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে; যার আর্থিক মূল্যমান ১৫ কোটি টাকা। এ বছর ছয় শতাধিক স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পাঁচটি বিভাগের ৫৭০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে কাজ করবে ভারত। ভারত সরকার সাফল্যের সঙ্গে খুলনা-মোংলা রেললাইন স্থাপনের কাজ করছে। খুব শিগগির খুলনায় একটি ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন চালু হচ্ছে এবং দক্ষতা বৃদ্ধির একটি প্রতিষ্ঠানও খুলনায় তৈরি করা হচ্ছে।
হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, নগরীর খালিশপুরে কলেজিয়েট বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন স্থাপনের জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে ১২ কোটি টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরকালে দু দেশের প্রধানমন্ত্রী খুলনা-কলকাতা সরাসরি ট্রেন ও বাস সেবা উদ্বোধন করেছেন।
হাইকমিশনার বলেন, সম্প্রতি ভারত সফরকালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী ভারতীয় শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সম্প্রতি ফিল্ড মার্শাল মানেকশ’ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে যেভাবে ৭ শহীদকে সম্মান জানানো হয়েছে তেমনিভাবে বাকী ১৬৫৪ শহীদকেও পরবর্তী মাসগুলোতে পর্যায়ক্রমে সম্মানিত করা হবে। আমি এটি জানাতে পেরে আরও আনন্দিত যে, উক্ত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনটি কল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, এখন থেকে সকল মুক্তিযোদ্ধা মাল্টিপল-এন্ট্রিসুবিধাসমেত পাঁচ-বছর মেয়াদী ভারতীয় ভিসার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ভারতের হাসপাতালগুলোতে প্রতি বছর ১০০ মুক্তিযোদ্ধাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে এবং মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প আরও পাঁচ বছরের জন্য সম্প্রসারিত করা হয়েছে যার আওতায় আরও ১০০০০ শিক্ষার্থীকে ৩৫ কোটি টাকার মূল্যমানের বৃত্তি প্রদান করা হবে। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের ১০০০ শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেয়া হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এককালীন ২০০০০ টাকা ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ৫০,০০০ টাকা করে পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষিত এইসব উদ্যোগ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আমাদের চলমান সংহতির প্রতিফলন। বাংলাদেশের মুক্তির জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনারা একসাথে রক্ত দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এটি শক্তিশালী সম্পর্কের বীজ বপন করেছিলেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আশা করি আমাদের এই সম্পর্ক চিরদিন অবিচ্ছেদ্য থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা একাডেমির চেয়ারম্যান ড. আবুল আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. এনায়েত আলি।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০১৭

  • ১৩ আগস্ট ২০১৭

  • ০৬ আগস্ট ২০১৭

  • ৩০ জুলাই ২০১৭