মঞ্চে আসছে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ১৬:৩১

অনলাইন ডেস্ক

দীপন নন্দী

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ‘খোকা’ থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন জাতির জনক। আলোর দিশারি হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে। রাজনৈতিক জীবনের খ- খ- চিত্র তিনি টুকে রেখেছিলেন ডায়েরিতে। সে ডায়েরির একটা অংশ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ হিসেবে ২০১২ সালে প্রকাশ করে ইউপিএল। এর পর চলতি বছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তার কারাজীবনের ঘটনাবলি নিয়ে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ‘কারাগারের রোজনামচা’। এরই মধ্যে পাঠক মহলে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নানা ভাষাতেও অনূদিত হচ্ছে গ্রন্থ দুটি। এবার সে গ্রন্থ দুটিকে এক মলাটে সন্নিবেশিত করে মঞ্চে আনতে যাচ্ছে দেশের প্রথম সারির নাট্যদল লোক নাট্যদল। দলটির প্রধান লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনা, নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় এ নাটকটির নাম ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও সমাপ্ত স্বাধীনতা’। এরই মধ্যে দলটি শুরু করেছে নাটকটির মহড়া।
জানা গেছে, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ অবলম্বনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে সমুন্নত রেখে নাটকটির কাহিনীবিন্যাস করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু যে সংগ্রাম করেছেন, একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য যে প্রেরণা জুগিয়েছেন, নাটকটিতে তা তুলে ধরা হবে।
বলা বাহুল্য, নাটকটির প্রধান চরিত্রে থাকবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সঙ্গে তার লেখনীর মাধ্যমে যেসব চরিত্র পাঠকদের সামনে চিত্রিত হয়েছে, সেগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থাপন করা হবে। নাটকটিতে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন একাধিক অভিনেতা। সাধারণ যুবক থেকে শুরু করে দেশের মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরা হবে এ নাটকে।
নাটকটির পরিকল্পনা বিষয়ে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আমরা এর আগে লোক নাট্যদল থেকে ‘মুজিব মানে মুক্তি’ প্রযোজনাটি মঞ্চে এনেছি। এরই ধারাবাহিকতায় তার রচিত দুটি গ্রন্থকে এক সুতোয় গেঁথে মঞ্চে আনতে যাচ্ছি। মৃত্যুর তুচ্ছতা অতিক্রম করে যে মহানায়ক নিজের স্বপ্ন ও সংগ্রামের আলোকে আজ আলোকিত, তার সেই আলোতেই আমরা ভবিষ্যতের পথ চিনে নিতে চাই। তিনি আমাদের মুক্তিদাতা। আজকে এবং আগামী দিনে; তার আদর্শের উত্তরাধিকার বাঙালির সবচেয়ে বড় সম্পদ ও পাথেয় তিনি। এজন্যই প্রযোজনাটির নামকরণ করা হয়েছে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও সমাপ্ত স্বাধীনতা’। আগামী তিন মাসের মধ্যে নাটকটি মঞ্চে আনার চেষ্টা করছি।' তিনি জানান, এরই মধ্যে লোক নাট্যদল নাটকটির মহড়া শুরু করেছে। লোক নাট্যদলের প্রায় ৩০ জন অভিনয়শিল্পী এ নাটকে অভিনয় করছেন। এর আগে লোক নাট্যদল ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট মঞ্চে আনে ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকটি। ২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট নাটকটির শততম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এ নাটকটিতে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা, ১১ দফা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা উপস্থাপিত হয়। তার পর মহাকাব্যিক ৭ই মার্চ এবং এর ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বঙ্গবন্ধুকেও তুলে আনা হয় নাটকটিতে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০১৭

  • ১৩ আগস্ট ২০১৭

  • ০৬ আগস্ট ২০১৭

  • ৩০ জুলাই ২০১৭