সোশ্যাল মিডিয়া : নতুন সম্ভাবনা নতুন সংকট

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:০৯

অনলাইন ডেস্ক

 

বাংলাদেশে যারা ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করেন, তাদের ৮০ শতাংশ মানুষের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। এই ৮০ শতাংশ মানুষের সাথে যুক্ত আছে দেশের বাইরে থাকা অসংখ্য বাংলা ভাষাভাষী মানুষ। অন্যদিকে সারাবিশে^ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্তি আছে, যাদের প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষই ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য, সংবাদ, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে থাকেন। সাপ্তাহিক ‘বাংলা বিচিত্রা’র প্রতিবেদনে শীর্ষ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এর প্রভাব নিয়েই এবারের আয়োজন-

বর্তমান সময়ে যোগাযোগের অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ বলতে শুধু একটা সমাজের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বোঝায় না। সামাজিক যোগাযোগের পরিধি এখন সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি যুগে বিশেষ কিছু মাধ্যমের ফলে যোগাযোগকে এমন সহজ করে ফেলেছে; যা আমাদের কল্পনারও সম্পূর্ণ বাইরে।
অবশ্য বিজ্ঞজনরা বলছেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জীবনকে অনেকভাবেই সহজ করে তুলেছে- এটা সত্যি। কিন্তু এর বিপরীত দিকও আছে। এসব মাধ্যমের প্রতি আসক্তি এমন পর্যায়ে চলে গেছে, যে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানসপটে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার ও অপব্যবহারেরও প্রতি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা। অনলাইনে যতগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আছে, তার মধ্যে ফেসবুকই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আর এই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ তরুণ। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটিরও বেশি। প্রায় ৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন নিজেদের মুঠোফোনে, আর তার অর্ধেক সংখ্যক মানুষ ফেসবুকে যুক্ত। মূলত এটি পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর অনেক ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক আছে। কখনও কখনও ইতিবাচকতা বেশি। আজকাল ফেসবুকে বিভিন্ন ভালো কাজের প্রচার-প্রচারণা চলে, এমনকি ফেসবুকে পেজ তৈরি করে গড়ে উঠছে সামাজিক ব্যবসাও। কেউ কেউ ফেসবুকে লাইভ করেও হয়ে উঠছেন সেলিব্রেটি। অনেকেই রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, সাহিত্য ও সামাজিক বিষয় নিয়ে লিখেন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার খবরও সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ফেসবুকের মাধ্যমে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলার সাবেক ইউএনও হাজী তারিক সালমান সেখানে ইউএনও থাকাকালীন স্বাধীনতা দিবসে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলেন। সেখানে বিজয়ী পঞ্চম শ্রেণি পড়–য়া এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি সংযুক্ত করা হয় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রে। এই ছবিটিকে ‘বিকৃত’ আখ্যা দিয়ে ইউএনও সালমানের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা করেন স্থানীয় এক আইনজীবী নেতা। বিষয়টি চরমভাবে সমালোচিত হয়। ফেসবুকের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষই ইউএনও সালমানকে সমর্থন করেন, হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এভাবে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কানেও পৌঁছায়, তিনিও এ-ব্যাপারে সালমানকে সমর্থন করেন।
সিলেটে শিশু রাজন হত্যার বিচারও সম্ভব হয়েছে ফেসবুকে প্রচার ও প্রতিবাদের কারণে। রাজনের ওপর নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এতে অপরাধী শনাক্ত হয়, সবশেষে দ্রুত তাদের ধরে বিচারের আওতায় আনা হয়।
তবে ফেসবুকে চরম নেতিবাচক দিকের সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে। কিছুদিন আগে ঢাকার উত্তরা এলাকায় এক কিশোর হত্যার ঘটনায় তরুণদের ফেসবুক ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তারা ফেসবুক পেজ খুলে গড়ে তুলেছিল সন্ত্রাসী দল। এছাড়া ফেসবুক ব্যবহার করে তরুণীদের প্রেমের কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও ঘটছে। ঘটছে ব্ল্যাকমেইলিং। ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক ছবি ছড়িয়ে অনেক জায়গায় মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সমস্যা। তবে, বেশিরভাগ তরুণরাই পড়াশোনা, সমাজসেবা, রক্তদানসহ নানারকম সৃজনশীল-সৃষ্টিশীল কাজে যুক্ত হচ্ছেন, সংগঠন গড়ে তুলছেন ফেসবুকের মাধ্যমে।

স্যোশাল মিডিয়া তরুণদের আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে কি?
তথ্যপ্রযুক্তি বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা। নব্বই দশকেও শিশুদের দিনের অর্ধেক সময় কাটত খেলার মাঠে। কিন্তু বর্তমানে শিশুদের দেখা যায়, পুরো সময়টা ব্যস্ত মুঠোফোন কিংবা কম্পিউটার নিয়ে। ফেসবুক, বিভিন্ন চ্যাট, গেমসহ নানা সাইবার জগতে অবাধ বিচরণ করছে শিশুরা। শুধু শিশুরাই নয়, ডিজিটাল মিডিয়া প্রভাবিত করছে তরুণদেরও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ডিজিটাল মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা। ডিজিটাল মিডিয়া অধিক ব্যবহারে যেমন শিশুদের মানসিক ও স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, আবার সামাজিক ও পারিবারিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে দেখা যায়, তরুণদের স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার একটি বড় কারণ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খেলার মাঠ না থাকায় এবং বাইরে খেলাধুলার পরিবেশ না থাকার কারণে পিতামাতাই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক খেলনা, মোবাইল ফোন, ভিডিও গেমস, ট্যাব, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিভিশন ইত্যাদি দিয়ে শিশুদের ব্যস্ত রাখছেন। এমন বাবা-মায়ের অসচেতনতার কারণেই শিশুদের ডিজিটাল মিডিয়ায় আসক্তি বাড়ছে। অন্যদিকে এই ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে নতুন নতুন উদ্ভাবন দিয়ে বিশে^ তাক লাগিয়ে দিচ্ছে তরুণরা। মেধা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক কর্মকা-ে এগিয়ে আসছে তরুণরা। ডিজিটাল মিডিয়ার ভালো-মন্দ দুটি দিকই আছে। তবে অনেকাংশে ডিজিটাল মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে অলস হয়ে তরুণদের কর্মক্ষমতা ও মানসিক শক্তি কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘ সময় নিয়ে টেলিভিশন দেখলে বা বসে থাকলে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে অল্প বয়সেই শিশুর নানা সমস্যা দেখা দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা কি বাড়ছে?
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর অনেকেই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়। বিশেষ করে যেসব নারী ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, এদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছবি প্রকাশ করে হয়রানির শিকার হয়েছে এমন অনেক ঘটনাই আমরা দেখে থাকি। ইন্টারনেট বা অনলাইনভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন নারীর সংখ্যা অনেক। অনলাইন দ্বারা প্রতিনিয়তই কোনো-না-কোনোভাবে বাজে মন্তব্য, নির্যাতন এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। বাংলাদেশে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে ক্রমান্বয়। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের শিকারে নারীর সংখ্যাটাই বেশি।
সম্প্রতি মার্কিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট ডাটা অ্যান্ড সোসাইটির একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইন্টারনেট পুরুষের তুলনায় নারীদের জন্য বেশি ভয়ানক। কেননা অনলাইনে নারীদের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এছাড়া জরিপে দেখা যায়, প্রতি ১০ জন নারী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হন, যা পুরুষের ক্ষেত্রে ২০ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন।
আমাদের দেশের রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের সামান্য খোলামেলা ছবি প্রকাশের কারণে সাইবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ইন্টারনেটে আত্মপ্রদর্শনের প্রবণতা বেশি লক্ষণীয়। তাই অনেক সময় অসচেতনভাবেই কিশোরীরা সামান্য খোলামেলা ছবি দিয়ে থাকেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। অথচ একবারও ভাবেন না এর ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে। ফেসবুক চ্যাট কিংবা ভিডিও চ্যাট থেকে ছবি বা ভিডিও নিয়ে একটু পরিবর্তন করে সেসব ছবি ইউটিউব অথবা বিভিন্ন সাইটে ছড়িয়ে দিচ্ছে অপরাধীরা। বিশে^র পশ্চিমা সমাজে একজন মেয়ের খোলামেলা ছবি প্রকাশ বড় কোনো বিষয় না। কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজে এমন বিষয়ে মানুষ নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন, অপকর্মে লিপ্ত হন। নারীদের অবশ্যই ইন্টারনেট জগতে বিভিন্ন সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া নিজের কোনো তথ্য বা ছবি প্রকাশের আগে অবশ্যই নিজের ব্যক্তিগত পরিধি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তুলে ধরা হলো।

ফেসবুক
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের ধারণাকে সামনে নিয়ে সারাবিশ^কে অনেকটাই অবাক করে দিয়েছে এই ফেসবুক। বর্তমানে বিশে^র সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইটের মধ্যে ফেসবুক এখন সর্বশ্রেষ্ঠ। ফেসবুক এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; যা সারাবিশ^কে সবার হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। মানুষকে এমন একটি প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছে ফেসবুক, যা সামাজিক যোগাযোগকে সহজ থেকে অতি সহজ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশে^র সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে দিন দিন আরও বেশি কাক্সিক্ষত হয়ে উঠছে নিত্যনতুন নানা সুবিধা যোগ হওয়ার কারণে।
কিন্তু কীভাবে কে তৈরি করল এই ফেসবুক? তা নিয়ে মানুষের রয়েছে অগাধ কৌতূহল। যতদূর জানা যায়, আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভেলপার মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার রুমমেট ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিৎস এবং ক্রিস হিউজেসের সাহায্য নিয়ে ফেসবুক নির্মাণ করেন।
প্রথমে ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ ফেসম্যাশ ডট কম নামে একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর ঐ সাইটের জন্য নিজের কলেজের ডাটাবেজও হ্যাক করেছিলেন তিনি। হ্যাক করা হার্ভার্ড কলেজের ডাটাবেজ থেকে স্টুডেন্টদের ছবি নিয়ে তা ফেসম্যাশে ব্যবহার করে ভিজিটরদের ‘হট’ অথবা ‘নট’ ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। পরে কলেজের শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এই সাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয় জুকারবার্গ। মূলত, ঐ ফেসম্যাশ ওয়েবসাইট থেকেই ফেসবুকের চিন্তা মাথায় আসে জুকারবার্গের। আর সেই ভাবনা থেকেই ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি দ্য ফেসবুক ডট কম ডোমেইন কিনে ফেলেন তিনি।
মার্ক জুকারবার্গ যখন ‘দ্য ফেসবুক’ নামে নতুন সাইটটি চালু করেন, তার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী এতে রেজিস্ট্রেশন করেন। প্রথম দিকে এটি শুধুমাত্র হার্ভার্ড কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও দুই মাসের মাথায় আরও এটি বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়।
জুন মাসের মধ্যে সাইটে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউজার ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করে এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১ মিলিয়নে। তবে এ-সময় শুধুমাত্র ১৩ বছরের ওপরের বয়সের ছেলে ও মেয়েরা এটি ব্যবহার করতে পারতেন। এ-সময় ফেসবুকে কোনো ছবি আপলোড করা, ওয়াল, নিউজ ফিড, ইভেন্ট, পেজ ইত্যাদি ফিচার ছিল না।
অবশেষে ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে জুকারবার্গ শ্রুতিমধুর নামের কারণে ‘দ্য ফেসবুক (The Facebook)’কে সংক্ষিপ্ত করে ‘ফেসবুক (Facebook)’ রাখেন এবং এই নামে একটি ডোমেইন কিনেন। তবে এজন্য খরচ হয়েছিল ২ লাখ মার্কিন ডলার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

টুইটার
ফেসবুকের পরে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হলো টুইটার। তবে টুইটার বাংলাদেশে খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি, কারণ টুইটারে সাধারণত বড় বড় তারকারা বেশি একটিভ থাকে। সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সাইটের মাধ্যমে অনেক বড় একটা জনসংখ্যার সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে টুইটারের যাত্রা শুরু হয়। তবে ২০০৬-এর জুলাই মাসে জ্যাক ডর্সি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।
টুইটারের সদস্যরা অন্য সদস্যদের টুইট পড়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারেন। এই কাজটিকে বলা হয় অনুসরণ করা। কোনো সদস্যের টুইট পড়ার জন্য যারা নিবন্ধন করেছে, তাদের বলা হয় অনুসরণকারী। টুইট লেখার জন্য সদস্যরা সরাসরি টুইটার ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও, মোবাইল ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমেও টুইট লেখার সুযোগ রয়েছে। টুইটারের মূল কার্যালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কো শহরে। এছাড়াও, টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও এবং ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে টুইটারের সার্ভার ও শাখা কার্যালয় রয়েছে।
হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে টুইটারে সবচেয়ে আলোচিত টপিকগুলোর একটি তালিকা ‘ট্রেন্ডিং’ হিসেবে প্রকাশিত হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোব্লগিং সাইটটিতে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক জনপ্রিয় আলোচনার বিষয়বস্তু মূলত টেলিভিশন অনুষ্ঠান সম্পর্কিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় পোস্টকৃত টুইটের প্রায় ৪০ শতাংশই টিভি প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে বলে উক্ত জরিপের ফলাফল থেকে জানা যায়।

তরুণরা ঝুঁকছে ইউটিউবে
ইউটিউব (ইংরেজি :YouTube) একটি ভিডিও আদান-প্রদান করার ওয়েবসাইট। ওয়েব ২.০-এর অন্যতম কর্ণধার ইউটিউব বর্তমান ইন্টারনেট জগতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট; যা এর সদস্যদের ভিডিও আপলোড, দর্শন আর আদান-প্রদানের সুবিধা দান করে আসছে। এই সাইটটিতে আরও আছে ভিডিও পর্যালোচনা, অভিমত প্রদানসহ নানা প্রয়োজনীয় সুবিধা। ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে ছিলেন মূলত পেপ্যাল প্রতিষ্ঠানের তিন সাবেক চাকরিজীবী, চ্যড হারলি, স্টিভ চ্যন আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম।
সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সামাজিক যোগযোগের মাধ্যমে তরুণরা দিন দিন ফেসবুক থেকে নিজেদের সরিয়ে ইউটিউবসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বুঁদ হয়ে থাকছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় মিলেছে এমন তথ্য। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, ফেসবুক থেকে সরে যাচ্ছে তরুণরা। ফেসবুক ছেড়ে তারা ইউটিউবসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দিকে ঝুঁকছে। সামাজিক যোগাযোগের জন্য ১৩ থেকে ১৭ বছরের কিশোরদের মধ্যে ফেসবুক এখন আর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম নয়। তালিকার প্রথম ৩টির মধ্যেও ফেসবুক এখন আর নেই। কেন তরুণরা ঝুঁকছে, তাও জানা গেছে জরিপে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপের বরাত দিয়ে দ্য ভার্জ ডটকমের এক প্রতিবেদন বলছে, কিশোর-তরুণরা এখন ইউটিউবের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এদের ৮৫ শতাংশই বলছে, তারা ইউটিউব ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এরপরই আছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের শীর্ষ জনপ্রিয় দুটি অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট। ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মধ্য লড়াইটাও বেশ। ইনস্টাগ্রাম পছন্দ করে ৭২ শতাংশ আর স্ন্যাপচ্যাট ৬৯ শতাংশ। পছন্দের জায়গায় টুইটার ৩২ শতাংশ ও রেডিট ৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে ফেসবুকের অবস্থান এখন চতুর্থ। ৫১ শতাংশ তরুণ-তরুণী এখনও ফেসবুক ব্যবহার করছে। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান সময়ে এসে ফেসবুক ২০ শতাংশ ব্যবহারকারী হারিয়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টার দেখেছে, তরুণরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ঝুঁকছে ইউটিউবের দিকে। ২০১৫ সালের জরিপেও ইউটিউবের এত জয়-জয়কার ছিল না। ওই বছরে ৭১ শতাংশ কিশোর-তরুণ ছিল ফেসবুক ব্যবহারকারী। আর বর্তমান সময়ে এ-সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫১-তে। তবে জরিপে দেখা গেছে, এখনও বেশি আয়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম আয়ের পরিবারের সন্তানদের কাছে ফেসবুকের আবেদন বেশি। এখন তরুণরা স্মার্টফোন সহজে হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, ৯৫ শতাংশ তরুণের স্মার্টফোন আছে। ২০১৫ সালে এ-সংখ্যা ছিল ১০০ জনের মধ্যে ৭৩ জন। তরুণরা বলছে, তারা নিজেদের মতো ও কাজের কথা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানাতে পারে বলেই এদিকে ঝুঁকছে। নিজেদের সমস্যাও তারা নিজেদের মতো করে এখানে তুলে ধরতে পারে বলেই ঝুঁকছে।

ই-মেইল
বর্তমানে তথ্য লেনদেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ই-মেইল। এখন অনেক মানুষের যোগাযোগের জন্য অত্যাবশ্যকীয় মাধ্যম হলো ই-মেইল। ই-মেইলের অর্থ ইলেকট্রনিক মেইল। আগেকার সময়ের চিঠির উন্নত মাধ্যমই হলো ই-মেইল। ই-মেইল আবিষ্কারের পর থেকে যোগাযোগের মাধ্যম বৈপ্লবিক হারে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সাধারণত একটি চিঠি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সময় লাগত; কিন্তু ই-মেইলের মাধ্যমে কোনো বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কয়েকটি ন্যানো সেকেন্ডই প্রয়োজন। ব্যক্তিগত, দলীয় এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে ই-মেইলের বিকল্প মাধ্যম পাওয়া কঠিন ব্যাপার। বর্তমানে বিশে^র জনপ্রিয় কিছু বিনামূল্যে ই-মেইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

গুগল প্লাস
গুগল প্লাস হলো বিশে^র বৃহত্তম ইন্টারনেট কোম্পানি গুগলের সামাজিক যোগাযোগ এক বিশেষ মাধ্যম। বাংলাদেশের মধ্যে গুগল প্লাস খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও এখানে যথেষ্ট ব্যবহারকারী আছে। আপনি হয়তো জানেন না, গুগল প্লাস ব্যবহার করা অতি সহজ। গুগল প্লাস ব্যবহার করা ফেসবুক ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।

বিশেষ জনপ্রিয়তায় ব্লগিং
ব্লগিং যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা মাধ্যম হিসেবে বর্তমানে কাজ করছে। ব্লগিংয়ের মাধ্যমে নিজের সাইটে লেখালেখি করেও অন্য কোনো বিনামূল্যে ব্লগিং সাইটের মাধ্যমে গণযোগাযোগ খুব সহজভাবে করা যায়। বিশে^র বিখ্যাত ব্লগিং সাইট হচ্ছে গুগলের ব্লগস্পট ডট কম ও ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম। এই সাইটে লেখা প্রকাশ করার পাশাপাশি পাঠকদের মতামত নেওয়া এবং তার উত্তর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যার ফলে খুব সহজেই যোগাযোগ করা যায়।

ভিডিও এবং ভয়েস কল
উপরের মাধ্যমসমূহ ছাড়াও যোগাযোগের জন্য ভিডিও এবং ভয়েস কল অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। পূর্বে ভয়েস চেট এবং ভিডিও কল করার জন্য শুধু স্কাইপি ব্যবহার করা হতো; কিন্তু বর্তমানে এন্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ভাইবার এবং ইমুর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে ভয়েস এবং ভিডিও চ্যাটের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো হোয়াটস অ্যাপ, ভাইভার ও ইমু।

স্কাইপ
স্কাইপ (ঝশুঢ়ব) একটি ভিওআইপি সেবা এবং সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন। সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমে ব্যবহারকারী ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে পরস্পরের সাথে ভয়েস, ভিডিও এবং তাৎক্ষণিক বার্তার সাহায্যে যোগাযোগ করে থাকেন। ২০০৩ সালে ডেনমার্কের ধমিজা, জানুজ ফ্রিজ এবং সুইডেনের নিকলাস জেনস্ট্রম স্কাইপ প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যান্য মাধ্যম
উপরে বর্ণিত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ছাড়াও আরও কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রয়েছে যেমন- মাইস্পেস, ব্লগিমেট, এওএল ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জার, ফেসটাইম (ম্যাকিন্টোল), গুগল টক, গুগল ভয়েস, আইসিকিউ, আইবিএম লোটাস সেমটাইম, উইন্ডোজ লাইভ মেসেঞ্জার, জি-মেইল, ইয়াহু মেসেঞ্জার ইত্যাদি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাংলাদেশ
সামাজিক যোগাযোগের আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলোর ব্যাপক প্রভাব দেখা যায় বিশ^জুড়ে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশও পিছিয়ে না থেকে দেশীয় কিছু যোগাযোগের মাধ্যম গড়ে তুলেছে। যেমন-

* বেশতো ডট কম হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের প্রথম বাংলা মাধ্যম। যার দ্বারা বাংলা ভাষাভাষীরা সম্পূর্ণ বাংলায় নিজের মতামত ও অনুভূতিগুলো পরস্পরের সাথে বিনিময়ের সুযোগ পায়।
* সাম হোয়্যার ইন ব্লগ একটি সামাজিক ব্লগিং সাইট। টুইটার বা অন্যান্য সার্ভিসে ১৪০ শব্দের বেশি লেখা যায় না; কিন্তু এই ব্লগ সাইট ছোট-বড় ব্লগ লেখার সুবিধা রয়েছে।
* সব ধরনের তথ্য সম্বলিত আরেকটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে বিডি অল ইনফো। যেটি রুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মারছুছ, যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাদ্দাম মিলে তৈরি করেছেন।
* ফেসবুকের সব ধরনের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘হাউকাউ’ ডটকম। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন বন্ধুত্ব তৈরি, চ্যাট, ভিডিও আপলোড এবং গ্রুপ তৈরি করা যায়।
* বিশ^ব্যাপী বাংলাদেশের লোকজনের কেনাকাটার খবর জানার জন্য তৈরি হয়েছে ফেরিওয়ালা নামক সাইট।
* বাংলাদেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সামাজিক মাধ্যম হলো ক্যাফে ইয়ার্ড। সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের সকল সুবিধাসহ এই ওয়েবসাইটে বিশেষ কিছু ফিচার সুবিধা রয়েছে।
* ইন্টারনেটের বিশাল জগতে বয়স্ক থেকে তরুণ সবার ধারণা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে নগরবালক নামক মাধ্যমটি।
* সংগীতপ্রেমীদের সামাজিক মাধ্যমগুলো হলো- মিউজিক জলসা, মূর্ছনা, পোলাপাইন মিউজিক, মিউজিক ফুর্তি, ফ্রি ডট কম, বিডি বাংলা প্রভৃতি।
এছাড়া আরও কিছু দেশীয় মাধ্যম হচ্ছে- ফেসকই, মাইলিমেক্স, রংমহল, বিডিস্পট, আওয়াজ, ফ্রেইন্ডফেইস বাংলাদেশ, এফএনএফ পিয়ার ডট কম ইত্যাদি।

সুবিধা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। যেমন-
* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ভৌগোলিক দূরত্বের বাধাকে অতিক্রম করে মানুষকে খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
* যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে পুরনো বন্ধু খোঁজা, নতুন বন্ধু তৈরি করা ছাড়াও নিজের বৃত্তের বাইরে অন্যকেও আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব।
* এই মাধ্যমগুলোতে খুব সহজে বিভিন্ন সংবাদ ও তথ্য পাওয়া যায়।
* এর সদস্য হতে খুব একটা খরচ লাগে না। একইভাবে কম শিক্ষিতরাও সহজে ব্যবহার করতে পারে।
* সামাজিক মাধ্যমগুলো বিভিন্ন ভাষা সমর্থন করে। পাশাপাশি এগুলোর ব্যবহারিক শব্দও মোটামুটি সহজ।
* স্বাধীন মত প্রকাশ এবং ভালো লেখক সৃষ্টিতে সামাজিক মাধ্যমগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

অসুবিধা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন-
* সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অপব্যবহারে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিপর্যয় ঘটছে।
* এই মাধ্যমগুলো সহজে ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা তাদের সন্ত্রাসমূলক কর্মকা- চালাচ্ছে।
* শিশুদের সুস্থ বিকাশের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যম। সেই সাথে তাদের শরীরের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে, যেমন- আর্থ্রাইটিস, স্থূলতা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল, ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষ তাদের জীবনের নানা দিক তুলে ধরছে। ফলে সুবিধাবাদী দেশগুলো গোয়েন্দা ও নিরাপত্তায় এই মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯

  • ৩ অক্টোবর ২০১৯

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯