কোরবানি বিষয়ক কিছু সতর্কতা

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৭, ১৩:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

পশু জবাই ও চামড়া ছাড়াতে করণীয়
১. পশু কোরবানির জন্য দক্ষ লোক নিয়োগ করুন। নইলে অর্ধ জবাইকৃত গরু ঝাড়া দৌড় দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
২. পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে জোরে আল্লাহর নাম নিতে হবে।
৩. পশুর ধমনী যাতে পুরোপুরি কাটা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পশু জবাইয়ের পর পুরোপুরি ব্লিডিং হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে জবাইয়ের সাথে সাথে মাংস কাটা শুরু করা হলে মাংসের ভেতর রক্ত থেকে যাবে। এ ধরনের মাংস মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ রক্তে অনেক ধরনের জীবাণু থাকতে পারে।
৪. চামড়ার মান রক্ষা : সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চামড়ার ক্ষতি ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে পশুর চামড়াকে রক্ষা করতে বর্তমান বিশ্বে সাধারণত ড্রাই ট্রিটমেন্ট, সল্ট ট্রিটমেন্ট ও ফ্রিজিং করে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। উন্নত দেশগুলোতে চামড়া সংরক্ষণে ড্রাই ট্রিটমেন্ট ও ফ্রিজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও তা ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ বলে আমাদের দেশে সল্ট ট্রিটমেন্ট বা লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। কোরবানির আগে ও পরে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখলেই অতি সহজে চামড়ার গুণগত মান রক্ষা করা যায়।
৫. পশু কেনার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, আগে থেকেই গরুর চামড়ায় কোনো গভীর ক্ষতচিহ্ন বা দাগ যেন না থাকে।
৬. ঈদের দিন সকাল থেকেই পশুকে শক্ত খাবার (খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস ইত্যাদি) দেওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। বেশি করে পরিষ্কার পানি, ভাতের মাড় ইত্যাদি তরল খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। এতে কোরবানির পর পশুর চামড়া ছাড়ানো অনেক সহজ হবে
৭. কোরবানির কাজে অপেক্ষাকৃত দক্ষ লোক ঠিক করতে হবে  আনাড়ি লোক দিয়ে চামড়া ছাড়াতে গেলে চামড়া কেটে যেতে পারে।
৮. কোরবানির জন্য শোয়ানো অবস্থায় পশুটিকে যেন টানাহেঁচড়া না করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৯. কোরবানির পশু জবাই করার কাজে বড় ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ধারাল মাথাওয়ালা ছুরি ব্যবহার করতে হবে।
১০. সঠিক নিয়মে কোরবানির পশু শোয়ানো হলে সাধারণত চামড়া অক্ষত থাকে।

কোরবানির পরে করণীয়
কোরবানির চামড়ার গ্রেডিং ঠিক রাখতে হলে কোরবানির পর চামড়া ছাড়ানোর জন্য কিছু নির্দিষ্ট দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। এ ছাড়া চামড়া ছাড়ানোর পরে হাতেগোনা কিছু আনুষঙ্গিক কাজ করলে চামড়ার মান অক্ষুণœ থাকে।

পশুর উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
পশু কেনা আর যতœ-আত্তিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। কারণ, ক’দিন বাদেই ঈদ। কিন্তু পশু কোরবানিতে পরিকল্পনার অভাব আর কোরবানির বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে। তাতে ফিকে হবে আপনার ঈদের আনন্দ। আর কোরবানির বর্জ্য দূষিত হয়ে তা থেকে ছড়াতে পারে রোগবালাই। তবে একটু সময় নিয়ে আর কিছু নিয়ম মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করলেই এসব সমস্যা এড়ানো যাবে। সামান্য অসচেতনতায় একজনের কারণে অনেকের কষ্ট হতে পারে। অথচ একটু খেয়াল রাখলে সমস্যা এড়ানো সম্ভব  বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আর পরিবেশ সুন্দর রাখতে তার কিছু পরামর্শÑ
১. কোনো এলাকার লোকজন বিচ্ছিন্ন স্থানে কোরবানি না দিয়ে বেশ কয়েকজন মিলে একস্থানে কোরবানি করা ভালো।
২. কোরবানির জায়গাটি যেন খোলামেলা হয়। আর জায়গাটি রাস্তার কাছাকাছি হলে বর্জ্যরে গাড়ি পৌঁছাতে সহজ হবে।
৩. কোরবানির পর পশুর রক্ত ও তরল বর্জ্য খোলা স্থানে রাখা যাবে না। এগুলো গর্তের ভেতরে পুঁতে মাটিচাপা দিতে হবে। কারণ, রক্ত আর নাড়িভুঁড়ি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর যদি রক্ত মাটি থেকে সরানো সম্ভব না হয়, তা হলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৪. গরুর হাটগুলোতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশুর শক্ত বর্জ্য রাখার জন্য একটি বিশেষ পলিথিন দেওয়া হয়, সেটি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৫. কোরবানির বর্জ্য পলিথিনে করে রেখে দিতে হবে, যাতে ময়লা পরিবহন দ্রুততার সাথে করা যায়। যারা পলিথিন পাবেন না, তারা বড় প্লাস্টিকের পলিথিন কিনে ময়লা রাখতে পারেন।
৬. যেসব এলাকায় গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয় বা দেরি হবে, সেসব স্থানে বর্জ্য পলিথিনের ব্যাগে ভরে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে রাখা উচিত। পশুর হাড়সহ শক্ত বর্জ্যগুলোও পলিথিনে দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
৭. নাড়িভুঁড়ি বা এ জাতীয় বর্জ্য কোনোভাবেই পয়ঃনিষ্কাশন নালায় ফেলা ঠিক নয়। এতে বিপত্তি বাড়বে।
৮. যারা চামড়া কিনবেন, তারা কোনো বদ্ধ পরিবেশে চামড়া পরিষ্কার না করে এমন খোলামেলা স্থানে করতে পারেন, যেখানে ময়লা জমে দুর্গন্ধ হবে না। আর চামড়ার বর্জ্যগুলোও অপসারণের জন্য জমিয়ে রাখা বাঞ্ছনীয়।
৯. সবশেষে কোরবানির পশুর বর্জ্য নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে ভালো।

মাংস সংরক্ষণ পদ্ধতি
সাধারণত কোরবানির সময় মাংসের অধিক সরবরাহের কারণে সবার বাসাতেই মাংসের বাড়তি পরিমাণ দেখা যায়। বাড়তি এই মাংস তৈরি করা যায় বিভিন্ন স্বাদের ও বিভিন্ন ঢঙের মাংসের আইটেম। মাংস প্রাণিজ প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। কিন্তু এই মাংস সংরক্ষণ করা নিয়ে চিন্তিত থাকতে দেখা যায় অনেককেই। তাদের জন্য রয়েছে এমন কিছু টিপস, যার মাধ্যমে সহজেই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়েও রসদ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। কোরাবনির পশুর মাংস সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতিগুলো হলোÑ
১. হালকা লবণ ও হলুদ দিয়ে মাংসগুলোকে তাপ দিলে তা অনেক দিন সাধারণ তাপমাত্রায়ই রাখা যায়।
২. আবার ভিনেগার দিয়েও মাংস সংরক্ষণ করা যায়। কোনো টিন বা বোতলে ভিনেগারে মাংস সম্পূর্ণভাবে ডুবিয়ে রাখলে মাংস ভালো থাকে অনেক দিন।
৩. আর ভিনেগার যদি না পাওয়া যায়, তা হলে তার বদলে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। মাংসের টুকরোগুলোকে লেবুর রস দিয়ে মাখিয়ে ক্যানড করলে মাংস ভালো থাকে অনেক দিন।
৪. ভিনেগার বা লেবুর রস ব্যবহার করলে মাংস সংরক্ষণের পাত্রটি ডিপ ফ্রিজে না  রেখে রেফ্রিজারেটরে সাধারণ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
৫. মাংস সংরক্ষণের সবচেয়ে আদি পদ্ধতি হলো মাংস রোদে শুকিয়ে নেওয়া। হালকা লবণ দিয়ে মেখে নিয়ে রোদে ভালোভাবে শুকালে এই মাংস ভালো থাকে অনেক দিন। তবে শুকানোর পর অবশ্যই মাংসগুলো টিনে ভালো করে এঁটে রাখতে হবে, নয়তো পোকামাকড়ের আক্রমণে তার আবার পুষ্টি অপচয় হবে।

বাংলা বিচিত্রা/ মানিক সরকার/ হামিদ মোহাম্মদ জসিম

পুরনো সংখ্যা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

  • ২৯ আগস্ট ২০১৯

  • ০৮ আগস্ট ২০১৯